জলপাইয়ের লোভ দেখিয়ে চার শিশুকে ধর্ষণ বৃদ্ধের

বিভিন্ন স্থানে শিকার আরও ৬

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯      

সমকাল ডেস্ক

প্রতিবেশী দাদুর বাড়িতে জলপাই কুড়াতে গিয়েছিল ওরা। সেই দাদু জলপাই দেওয়ার নাম করে ওদের ঘরে নিয়ে বানিয়েছে নিজের লালসার শিকার। এভাবে দু'দিন চার শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে বগুড়ার ধুনটের গোপালপুর খাদুলী গ্রামের বয়োবৃদ্ধ জয়নাল আবেদীনের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার অভিযুক্ত জয়নালকে গ্রেফতার করেছে ধুনট থানার পুলিশ। এদিকে দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণের শিকার হয়েছে আরও ছয় নারীশিশু। এর মধ্যে সাভারের আশুলিয়ায় পোশাককর্মীসহ দুই তরুণী, মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় ছয় বছরের শিশু এবং পঞ্চগড়ে এক স্কুলছাত্রী ও এক শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। সমকালের স্থানীয় প্রতিনিধি ও নিজস্ব প্রতিবেদকদের পাঠানো খবর :

ধুনট (বগুড়া) :জলপাই খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে চার শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে ৫৫ বছরের বৃদ্ধ জয়নাল আবেদীনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, জয়নালের স্ত্রী ঢাকায় পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। এ বাড়িতে একাই থাকেন জয়নাল। শুক্রবার দুপুরে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ূয়া দুই শিশু জয়নালের বাড়িতে জলপাই কুড়াতে গেলে তাদের ধর্ষণ করে সে। এর দু'দিন পর রোববার দুপরে আরও দুই শিশু জলপাই কুড়াতে গেলে কৌশলে তাদেরও ধর্ষণ করে জয়নাল। এ দুই শিশু তাদের মা-বাবাকে জানালে তারা স্থানীয় মথুরাপুর ইউপি চেয়ারম্যান হারুনার রশিদের কাছে অভিযোগ করেন। চেয়ারম্যান হারুনার রশিদ অভিযুক্ত

জয়নাল আবেদীনকে আটক করে মঙ্গলবার পুলিশে সোপর্দ করেন। ধর্ষণের শিকার দুই শিশুর বাবা জয়নালের বিরুদ্ধে ধুনট থানায় দুটি মামলা করেন। পুলিশ চার শিশুকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠিয়েছে। ধুনট থানাহাজতে আটক জয়নাল আবেদীন জানায়, চার শিশু তার প্রতিবেশী নাতনি। তার দাবি, 'ওই শিশুরা তার কাছে যৌন মিলনের কৌশল শিখতে চেয়েছিল। তিনি প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। জোর করে ধর্ষণ করা হয়নি।'

বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গাজিউর রহমান বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জয়নাল শিশুদের ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। তার বিরুদ্ধে দুটি ধর্ষণ মামলা করা হয়েছে। গতকাল ধর্ষণের শিকার শিশুদের বগুড়া জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

আশুলিয়া (সাভার) :আশুলিয়ায় এক পোশাককর্মী ও আরেক তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার রাতে উত্তর গাজীরচট ভূঁইয়াপাড়া মহল্লার ফজল ভূঁইয়ার বাড়িতে পোশাককর্মীকে মুখে রুমাল দিয়ে অচেতন করে ধর্ষণ করে অন্য দুই ভাড়াটিয়া। এ ঘটনায় শেরপুর জেলার সদর থানার সাতমাড়িয়া গ্রামের মুরাদ হোসেনের ছেলে কাইয়ুম এবং পাবনার ঈশ্বরদী থানার মুসোরিয়া গ্রামের নুর মোহাম্মদের ছেলে তুহিন আলমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদিকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে পরিত্যক্ত একটি কারখানায় এক তরুণীকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে শারফিন নামে এক গাড়িচালককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আশুলিয়া থানার ওসি শেখ রিজাউল হক বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় থানায় পৃথক মামলা হয়েছে। মামলায় গ্রেফতার তিনজনকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে এবং দুই নারীকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ওসিসিতে পাঠানো হয়েছে।

সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) :সাটুরিয়ায় ছয় বছরের শিশুকে ধর্ষণ করেছে তার চাচাতো ভাই। ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে। মঙ্গলবার বিকেলে ঘটনাটি ঘটেছে সাটুরিয়ার পূর্ব গোলড়া গ্রামে। এ ব্যাপারে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে সাটুরিয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই জলিল জানান, ধর্ষক পালিয়েছে। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

সাটুরিয়া থানার ওসি মতিয়ার রহমান জানান, গতকাল বুধবার শিশুটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

হবিগঞ্জ :হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে বন্ধুর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছে শ্রীমঙ্গলের এক কিশোরী। সোমবার রাতে শায়েস্তাগঞ্জের ওলিপুর শিল্প এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটকরা হলো- হবিগঞ্জ সদর উপজেলার সানাবই গ্রামের আছকির মিয়ার ছেলে সোহেল মিয়া (৩৫), তার সহযোগী একই উপজেলার মথুরানগর গ্রামের নাসিম উদ্দিনের ছেলে জাহাঙ্গীর মিয়া (৩৫) ও শায়েস্তাগঞ্জের সুরাবই গ্রামের আবু মিয়ার ছেলে সিরাজ মিয়া (৪০)। শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসি মো. আনিছুজ্জামান জানান, ছেলেটিকে মারধর করে তাড়িয়ে ওই মেয়েটিকে ধর্ষণ করেছে তিন বখাটে। এ ব্যাপারে থানায় মামলা হয়েছে। গ্রেফতার তিনজনকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। আর মেয়েটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পঞ্চগড় :পঞ্চগড়ে ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে জগদীশ চন্দ্র (৩০) নামে এক গৃহশিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পঞ্চগড় জেলা শহরের দশম শ্রেণির মুসলিম ওই কিশোরীকে গৃহশিক্ষক হিসেবে পড়াত ঠাকুরগাঁও জেলার রানীশংকৈল উপজেলার মহলবাড়ি এলাকার সুরেন চন্দ্রের ছেলে জগদীশ। সে পঞ্চগড়ে থেকে মকবুলার রহমান সরকারি কলেজে হিসাববিজ্ঞান বিভাগে মাস্টার্সে পড়ত।

এদিকে, শহরের পশ্চিম মোলানি এলাকার সাত বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে আশরাফ আলী (৫৮) নামে এক রাজমিস্ত্রিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রতিবেশী শিশুটি তার বাড়িতে খেলতে যাওয়ার সুযোগে মঙ্গলবার দুপুরে ধর্ষণ করে আশরাফ। মঙ্গলবার রাতে শিশুটির বাবা আশরাফকে আসামি করে সদর থানায় ধর্ষণের মামলা করেন।

সদর থানা পুলিশের ওসি আবু আক্কাছ আহমদ বলেন, ধর্ষণের অভিযোগে পৃথক দুটি মামলায় দু'জনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।