নুসরাত হত্যা

রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক শুরু

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯      

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফেনী

সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার যুক্তিতর্ক শুরু হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষে পিপি ঘটনাপ্রবাহ আদালতে উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে এই যুক্তিতর্ক শুরু করেন। তবে এদিন যুক্তিতর্ক অসমাপ্ত রেখে আজ বৃহস্পতিবার বাকি অংশ উপস্থাপনের দিন নির্ধারণ করে আদালত মুলতবি ঘোষণা করা হয়।

এর আগে বুধবার মামলার ১৫ আসামিকে ফেনী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। আসামি কামরুন নাহার মনি অসুস্থ থাকায় এর আগে আদালত তাকে হাজিরা থেকে অব্যাহতি দেন। শুরুতেই পিপি হাফেজ আহাম্মদ নুসরাত হত্যা মামলাকে চাঞ্চল্যকর ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, নৃশংস এ ঘটনায় দেশ স্তম্ভিত হয়েছে। সারাদেশে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।

তিনি বলেন, নুসরাত হত্যা যে মানবতার চরম লঙ্ঘন তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। পিপি ঘটনার তারিখ, মামলা ও তদন্তের বিভিন্ন দিক উল্লেখ করে হত্যার সূত্রপাত আদালতে বর্ণনা করেন। এতে বলা হয়, ২৭ মার্চ সোনাগাজী ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ দৌলা নুসরাতের শ্নীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় নুসরাতের মা শিরিন আক্তার সোনাগাজী থানায় মামলা করেন।

আসামিদের মধ্যে ১২ জনের স্বীকারোক্তিতে ঘটনার যে বর্ণনা রয়েছে তা উল্লেখ করে পিপি বলেন, শাহাদাত হোসেন শামীম তার স্বীকারোক্তিতে বলেছে, ১ ও ৩ এপ্রিল কারাগারে স্লিপ কেটে সে, নুর উদ্দিন, ইমরান, হাফেজ আবদুল কাদের, রানা, জাভেদ অধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করে। ৩ এপ্রিল শামীম ও নূর উদ্দিন

অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলে। এ আলাপে সিরাজ তাদের নুসরাত ও তার পরিবারকে ভালোভাবে চাপ দেওয়ার জন্য আদেশ দেন। যদি এতে কাজ না হয়, তবে বিশেষ কায়দায় নুসরাতকে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে বলেন। সিরাজ তাদের আরও বলেন, মকসুদ কাউন্সিলর তাদের প্রয়োজনীয় অর্থ দেবেন ও সহযোগিতা করবেন।

পিপি বলেন, আসামি নুর উদ্দিন ১৬৪ ধারায় বলেছে, ৪ এপ্রিল মাদ্রাসায় সিরাজের নির্দেশ বাস্তবায়ন নিয়ে বৈঠক হয়। বৈঠকে ১২ আসামি উপস্থিত ছিল। বৈঠকে নুর উদ্দিনকে আহ্বায়ক ও শামীমকে ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে নুসরাতকে হত্যার চূড়ান্ত বৈঠক হয়। এতে শামীম জানায়, নুসরাত তার প্রেম প্রত্যাখ্যান করে, অপমান করে। তাই সেও প্রতিশোধ নিতে চায়।

নুর উদ্দিন তার স্বীকারোক্তিতে বলে, ৬ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সবাই মাদ্রাসায় অবস্থান নেয়। ৯টা ৫০ মিনেটে উম্মে সুলতানা পপি মাদ্রাসার ছাদে নুসরাতের বান্ধবী নিশাতকে মারধর করা হচ্ছে বলে তাকে ডেকে নেয়। পরিকল্পনা অনুসারে সেখানে বোরকা পরে থাকা শামীম, জোবায়েদ, জাবেদ ও কামরুন নাহার মনি তাকে ধরে হাত-পা বেঁধে শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এরপর শামীম, জোবায়ের ও জাবেদ পালিয়ে যায়। কামরুন নাহার মনি ও উম্মে সুলতানা পপি পরীক্ষা কেন্দ্রে চলে যায়। বাকি আসামিরা এ সময় মাদ্রাসা গেট ও অন্যান্য স্থানে পাহারায় ছিল।

দীর্ঘ বক্তব্যে পিপি ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা, আসামিদের স্বীকারোক্তি, সাক্ষীদের দেওয়া সাক্ষ্য-প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করেন। আদালত পিপির যুক্তিতর্কের বাকি অংশ আজ উপস্থাপনের দিন ধার্য করেছেন।