আসামে এনআরসির নামে চক্রান্ত চলছে : মির্জা ফখরুল

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

ভারতের আসাম রাজ্যের নাগরিকপঞ্জির (এনআরসি) নামে বাংলাদেশকে নিয়ে গভীর চক্রান্ত চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে বিপদগ্রস্ত করার জন্য গভীর চক্রান্ত শুরু হয়েছে। স্বাধীনতার পর কোনো বাংলাদেশি ভারতে যায়নি। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমকে বিপন্ন করার জন্যই এ ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।

গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে বিএনপি আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি নিজেদের অধিকার, ভোটের অধিকার, কথা বলার অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। সামনে বড় আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য দলীয় নেতাকর্মী ও জনগণকে প্রস্তুত থাকতেও বলেন তিনি।

সকাল ১১টা থেকে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে

বিভিন্ন ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে নেতাকর্মীরা স্লোগান দিতে থাকেন। মানববন্ধন উপলক্ষে প্রেস ক্লাব এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও সাদা পোশাকের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ব্যাপক তৎপরতা ছিল।

মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার বাংলাদেশের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিচ্ছে। তারা রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান করতে পারছে না। কারণ, তাদের সেই বৈধতা নেই, সেই সাহস নেই। তাদের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে দুই বছরে একজন রোহিঙ্গাকেও তারা ফেরত পাঠাতে পারেনি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, দল-মত নির্বিশেষে দেশের স্বার্থরক্ষার জন্য, জনগণের অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য আর স্বাধীনতার চেতনাকে সমুন্নত রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সামনের দিনে বৃহত্তর আন্দোলন তৈরি করে এ সরকারকে পরাজিত করতে হবে।

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, খালেদা জিয়া অত্যন্ত অসুস্থ। তার ডায়াবেটিস বেড়ে গেছে, আর্থ্রাইটিস বেড়ে গেছে, ঘাড়ের ব্যথা বেড়ে গেছে। তিনি অন্যের সাহায্য ছাড়া হাঁটতে পারেন না। হুইলচেয়ারে চলতে হচ্ছে তাকে। অথচ সরকারের লোকজন বলছে, খালেদা জিয়া নাকি সুস্থ রয়েছেন। তিনি বলেন, আজকে অসুস্থ অবস্থায় তিনি কারারুদ্ধ হয়ে দিনাতিপাত করছেন। অবিলম্বে অসুস্থ নেত্রীর সুচিকিৎসার জন্য তার মুক্তি দাবি করছি।

মির্জা ফখরুল বলেন, সারাদেশে সরকার গণলুট করছে। তারা দুর্নীতির পাহাড় গড়ে তুলেছে। দুর্নীতির টাকা বিদেশে পাচার করে সেখানে বাড়িঘর গড়ে তুলছে। দেশের মানুষের প্রতি তাদের কোনো জবাবদিহি নেই। তারা দেশের মানুষকে ভালোবাসে না বলেই দেশকে একটা গণতন্ত্রহীন অবস্থায় নিয়ে এসেছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, খালেদা জিয়াকে একটি মিথ্যা মামলায় কারাগারে রাখা হয়েছে। সরকারের প্রভাবের কারণে আদালত মুক্ত মনে কাজ করতে পারছেন না। যে কারণে আইনি প্রক্রিয়ায় তাকে মুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই তাকে মুক্ত করতে হলে আন্দোলনের পথ বেছে নিতে হবে।

স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, এভাবে আর বেশিদিন মানববন্ধন কর্মসূচি চলবে না। রাজপথের আন্দোলনে যেতে হবে। যে আদালত নিজের চিন্তাভাবনায় বিচার করতে পারে না, সরকারের প্রভাব থেকে মুক্ত হতে পারে না সেখানে খালেদা জিয়ার মুক্তির আশাও করা যায় না। তাই সোজাসাপ্টা কথা- রাজপথে নামতে হবে।

স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নামতে হবে। সবাইকে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে হবে।

কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান, জয়নুল আবদিন ফারুক, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সারোয়ার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবীর খোকন, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, শিরিন সুলতানা, এ বি এম মোশাররফ হোসেন প্রমুখ।

কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম আজাদ, আমিরুল ইসলাম খান আলিম ও শহিদুল ইসলাম বাবুলের পরিচালনায় আবদুল আউয়াল মিন্টু, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, বিলকিস জাহান শিরিন, শামীমুর রহমান শামীম, আবদুল আউয়াল খান, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, আমিনুল হক, কাদের গনি চৌধুরী প্রমুখ মানবন্ধনে উপস্থিত ছিলেন।