রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী জাহাজের সুরক্ষাসহ সংসদে তিন বিল

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী জাহাজের সুরক্ষায় 'বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ (সুরক্ষা) বিল-২০১৯' সংসদে উঠেছে। গতকাল বুধবার সংসদের বৈঠকে বিলটি উত্থাপন করেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। পরে বিলটি পরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। একই দিন সংসদের বৈঠকে আরও দুটি বিল উপস্থাপন করা হয়। এগুলো হলো- 'কাস্টমস বিল' ও 'শিল্প কারিগরি সহায়তা বিল'। এছাড়া 'মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট (সংশোধন) বিল-২০১৯' সংসদে পাস হয়েছে।

বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ (সুরক্ষা) বিলে বলা হয়েছে, দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে সমুদ্রপথে পরিবাহিত পণ্যের অনূ্যন ৫০ শতাংশ পণ্য এই আইনের বিধানসাপেক্ষে বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ কর্তৃক পরিবাহিত হবে। ১৯৮২ সালের এ-সংক্রান্ত অধ্যাদেশ অনুযায়ী সমুদ্রপথে পরিবাহিত পণ্যের ৪০ শতাংশ পতাকাবাহী জাহাজে পরিবহনের বিধান ছিল। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সামরিক শাসনামলের আইনকে বাংলায় রূপান্তর করে নতুন আইন করতে বিলটি তোলা হয়েছে। কোনো জাহাজ এই আইনের কোনো বিধান লঙ্ঘন করলে ওই জাহাজ কর্তৃপক্ষকে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত প্রশাসনিক জরিমানা করা হবে। আগের অধ্যাদেশে জরিমানার পরিমাণ নির্ধারণ করা ছিল না।

এদিকে আন্তর্জাতিকভাবে গৃহীত কাস্টমস ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত আইন সমন্বয় করে বিদ্যমান আইনটি বাংলা ভাষায় রূপান্তর ও হালনাগাদ করতে সংসদে একটি বিল উঠেছে। গতকাল অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল 'কাস্টমস বিল-২০১৯' সংসদে উত্থাপন করেন। পরে বিলটি পরীক্ষার জন্য সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র বিল-২০১৯ সংসদে উত্থাপন করেন। পরে বিলটি পরীক্ষার জন্য সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। ১৯৬২ সালের এ-সংক্রান্ত 'রেজ্যুলেশন' বাতিল করে নতুন আইন করতে বিলটি তোলা হয়েছে।

মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট (সংশোধন) বিল পাস :শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট বিল-২০১৯ সংসদে পাসের প্রস্তাব করেন। পরে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে উপমন্ত্রী বলেন, ইউনেস্কো ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের পরিচালনা বোর্ডের সদস্য সচিব হবেন ইনস্টিটিউটের পরিচালক। কিন্তু বিদ্যমান আইনে ইনস্টিটিউটের প্রধান এবং পরিচালনা বোর্ডের সদস্য সচিব হচ্ছেন ইনস্টিটিউট মহাপরিচালক। এ অবস্থায় ইউনেস্কোর সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তির শর্ত পূরণকল্পে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের প্রধানের পদবি এবং পরিচালনা বোর্ডের গঠন-কাঠামো সংশোধনের আবশ্যকতা দেখা দিয়েছে।