পবিত্র আশুরা পালিত

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও মঙ্গলবার পবিত্র আশুরা পালিত হয়েছে। কারবালার হৃদয়বিদারক ঘটনার জন্য বিশ্বের মুসলিমদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও শোকাবহ দিন ১০ মহররম। দিনটি পবিত্র আশুরা নামে পরিচিত।

হিজরি ৬১ সনের এই দিনে ন্যায়ের যুদ্ধে হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসাইন (রা.) এবং তার পরিবারের সদস্যরা বর্তমান ইরাকের ফোরাত নদীর তীরে কারবালায় ইয়াজিদের সৈন্যদের হাতে শহীদ হন। ইসলামের মহান আদর্শকে সমুন্নত রাখতে হজরত ইমাম হোসাইনের (রা.) আত্মত্যাগ ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছে। কারবালার শোকাবহ এ ঘটনা অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে অনুপ্রেরণা জোগায়।

আশুরা উপলক্ষে মঙ্গলবার ছিল সরকারি ছুটি। দিনটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেছেন, জাতীয় জীবনে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে পবিত্র আশুরা থেকে শিক্ষা নিতে হবে।

বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম দেশের মতো বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা নফল রোজা, নামাজ, জিকিরের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করেন। দেশব্যাপী বিভিন্ন সংগঠন আশুরা উপলক্ষে নানা কর্মসূচি পালন করেছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে সোমবার বাদ জোহর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে 'আশুরার তাৎপর্য ও শিক্ষা' শীর্ষক ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য দেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের জ্যেষ্ঠ পেশ ইমাম মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান।

মঙ্গলবার আশুরা উপলক্ষে পুরান ঢাকার হোসেনী দালানের সামনে থেকে সকালে বের হয় শিয়া সম্প্র্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী তাজিয়া মিছিল। কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মিছিল বের হয়। কালো-লাল-সবুজের নিশান উড়িয়ে, কারবালার শোকের স্মরণে বুক চাপড়ে 'হায় হোসেন,

হায় হোসেন' মাতমে মিছিলে অংশ নেন হাজারো হোসেন-ভক্ত। হোসেনী দালান ঘিরে শিয়াদের এই তাজিয়া মিছিলের ঐতিহ্য কয়েকশ' বছরের। এবারের মিছিলে পাইক (ছুরি, বল্লম, দা ছোরা, কাঁচি, তরবারি, লাঠি দিয়ে শরীর রক্তাক্ত করা) নিষিদ্ধ করে ঢাকা মহানগর পুলিশ। মিছিলের সামনে ছিল কালো কাপড়ে ইমাম হোসেনের (রা.) তাজিয়া (প্রতীকী কবর)। অনেকের হাতে ছিল বিভিন্ন রকমের আলাম (দীর্ঘ লাঠির মাথায় পতাকা)। তাজিয়া মিছিলটি বকশীবাজার, উর্দু রোড, লালবাগ চৌরাস্তা, গৌর-এ-শহীদের মাজার, আজিমপুর, নিউমার্কেট হয়ে জিগাতলা (ধানমণ্ডি লেকের কাছে) গিয়ে শেষ হয়। পথের দু'পাশে ছিল উৎসুক জনতার ভিড়। মানুষ ছাদে দাঁড়িয়ে, জানালা দিয়ে মিছিল উপভোগ করেন। পুরো মিছিল ঘিরে ছিল পুলিশ-র‌্যাবসহ বিপুলসংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তাজিয়া মিছিল উপলক্ষে মঙ্গলবার সকাল থেকেই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য অবস্থান নেন হোসেনী দালানে। প্রতিটি ইমামবাড়া সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়। সকালে মিছিলে আসা লোকজনকে আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে দেহ তল্লাশি করে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করানো হয়।

জাতীয় দৈনিকগুলো আশুরার তাৎপর্য নিয়ে বিশেষ প্রবন্ধ, নিবন্ধ প্রকাশ করে। বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বিভিন্ন বেসরকারি রেডিও-টিভি চ্যানেল বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করে।