প্রবল বর্ষণে টেকনাফে দেড় শতাধিক ঘর বিধ্বস্ত

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯      

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

প্রবল বর্ষণে টেকনাফে দেড় শতাধিক ঘর বিধ্বস্ত

প্রবল বর্ষণে বিধ্বস্ত হয়েছে মাথাগোঁজার একমাত্র ঠাঁইটি। ঘর হারিয়ে দিশেহারা দিলদার বেগম। বুধবার টেকনাফ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড এলাকা থেকে তোলা ছবি - সমকাল

কক্সবাজারের টেকনাফে ভারি বৃষ্টিপাতে দেড় শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ছাড়া পাহাড়ধসে দুই ও পানিতে ডুবে এক রোহিঙ্গাসহ তিন শিশু নিহত হয়েছে। টেকনাফ পৌরসভার পুরনো পল্লানপাড়ার রবিউল আলমের ছেলে মেহেদী হাসান (৯) ও মোহাম্মদ আলমের মেয়ে আলিফা (৫) মঙ্গলবার ভোরে পাহাড়ধসে মারা যায়। একই দিন টেকনাফের নয়াপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বি-ব্লকের আমান উল্লাহর ছেলে ইরফান আলী (১১) পানিতে ডুবে মারা যায়।

গতকাল বুধবার সরেজমিন টেকনাফ পৌরসভা, হ্নীলা, বাহারছড়া, পহায়াইক্যং ও শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্প; উখিয়ার পালংখালী, থাইংখালী ও বালুখালী এবং মধুরছড়া এলাকার রোহিঙ্গা ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বৃষ্টির পানিতে দেড় শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে।

এদিন এলাকা পরিদর্শনকালে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রবিউল হাসান সমকালকে জানান, ভারি বর্ষণে উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রাম পানিবন্দি হওয়ায় প্রায় ৮০০ মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে আনা হয়েছে। এ ছাড়া তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত টেকনাফ পৌরসভার ১১০ পরিবারকে ত্রাণ দেওয়া হয়েছে। এখনও যারা ঝুঁকিপূর্ণভাবে বাস করছে তাদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পেও বৃষ্টিতে ঘর ভাঙার খবর পেয়েছি। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে তাদের সাহায্য দেওয়া হবে।

রবিউল হাসান আরও বলেন, ভারি বর্ষণে টেকনাফ পৌর এলাকায় পাহাড়ধসে দুই শিশু মারা গেছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। নিহত শিশুদের পরিবারকে আর্থিক

অনুদান দেওয়া হবে। এ ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তাক মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালীরা খাল দখল করে রাখায় বৃষ্টির পানি জমে বাড়িঘরে ঢুকে পড়েছে। আগে বৃষ্টিতে এভাবে ঘরবাড়ি ডুবে যায়নি। আমাদের ঘরসহ এলাকার বেশ কয়েকটি কাঁচা ঘর ভেঙে গেছে। তিনি বলেন, খাল দখলমুক্ত না হওয়ায় প্রতিবছর বৃষ্টিতে শতাধিকের বেশি পরিবারকে পানির মধ্যে বসবাস করতে হয়। খাল দখলকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা দিলদার বেগম বলেন, 'টানা বৃষ্টিতে একমাত্র ঘরটি বিধ্বস্ত হয়েছে। জানি না এখন পরিবার নিয়ে কোথায় যাব। সকাল থেকে পরিবারের কারও মুখে খাবার দিতে পারিনি। খাল দখলের কারণেই আমাদের এ দশা।

টেকনাফের শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাঝি বদলুল ইসলাম বলেন, ভারি বৃষ্টিপাতে এ শিবিরের অর্ধশতাধিক ঝুপড়িঘর ভেঙে গেছে। এ ছাড়া বালুখালী, মধুরছড়া ও শূন্যরেখা রোহিঙ্গা শিবিরের শতাধিক ঘর পানিতে তলিয়ে যাওয়ার খবর পেয়েছি। এতে অনেক রোহিঙ্গা ঘরহারা হয়ে পড়েছে।

টেকনাফ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আলম বলেন, 'ভারি বৃষ্টিপাতে মাটিচাপা পড়ে দুই শিশু ও পানিতে ডুবে এক রোহিঙ্গা শিশু মারা গেছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় বেশ কয়েকটি গ্রামের শত শত মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছে। এলাকায় গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।'