কোনো বাধা মানবো না

মেডিকেলে ভর্তি হতে পারবে তো হালিম

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০১৯      

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

শিক্ষা জীবনজুড়েই আর্থিক দুশ্চিন্তা ছিল মেধাবী ছাত্র হালিমের নিত্যসঙ্গী। মেধার জোরে সব বাধা জয় করে মেডিকেলে পড়ার সুযোগ পেলেও আবার সেই আর্থিক দুশ্চিন্তাই তাকে ঘিরে ধরেছে। অর্থাভাবে মেডিকেলে তার ভর্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

ভর্তি পরীক্ষার জাতীয় মেধা তালিকায় হালিমের অবস্থান ৩১৫৭। সুযোগ হয়েছে যশোর মেডিকেল কলেজে। ভর্তি ও পড়ালেখা চালু রাখতে প্রধানমন্ত্রী এবং বিত্তশালীদের সহায়তা কামনা করেছেন হালিম ও তার বাবা-মা।

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ঘোলপাশা ইউনিয়নের কোমাল্লা গ্রামের শরীফ মিয়া ও রহিমা আক্তারের ছেলে আবদুল হালিম। হতদরিদ্র শরীফ মিয়ার বসতভিটার দুই শতক সম্পত্তি ছাড়া আর কোনো সম্পদ নেই। শরীফ মিয়ার দুই ছেলে ও তিন মেয়ে। দুই মেয়ের বিয়ে হয়েছে। ছেলেদের মধ্যে হালিম বড়। তার ছোট ভাই মাদ্রাসায় পড়ে।

হালিমের মা রহিমা জানান, হালিমের  বাবা দিনমজুর। তার আয়ে কোনোভাবে সংসার চলে। তিনি জানান, ছোটবেলা থেকেই হালিমের পড়ালেখার প্রতি প্রবল আগ্রহ। শিক্ষকদের চেষ্টায় সে প্রাইমারিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে। আমাদের সামর্থ্য না থাকায় শিক্ষক ও লোকজনের সহায়তায় তার পড়ালেখা চলেছে। এখন পর্যন্ত মেডিকেলে ভর্তির টাকার কোনো ব্যবস্থা হয়নি।

চৌদ্দগ্রাম এইচ জে পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আবদুল মান্নান জানান, পৌরসভার সোনাকাটিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একদিন আমাকে ফোন করে তার স্কুলের ছাত্র হালিমকে ভর্তির অনুরোধ করেন। তাকে ভর্তি করা হলে প্রথম হয়ে সপ্তম শ্রেণিতে ওঠে। অষ্টম শ্রেণির মেধাবৃত্তি এবং এসএসসিতে জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। এরপর এইচএসসিতেও কুমিল্লা কলেজ থেকে জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। অদম্য হালিম সবার সহায়তায় ও টিউশনি করে পড়ার খরচ জুগিয়েছে। তিনি বলেন, সমাজের বিত্তবানরা নজর দিলে হালিমের ডাক্তারি পড়া আটকাবে না।

আর্থিক সহায়তা পাঠানোর জন্য বিকাশ নম্বর ০১৮৭২২৬৮৮৯৮ ব্যবহার করার অনুরোধ জানিয়েছেন হালিম ও তার বাবা-মা।