শামীম-খালেদের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

ক্যাসিনো কারবারে জড়িত অন্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেবে কমিশন

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০১৯      

হকিকত জাহান হকি

বেআইনি ক্যাসিনো ব্যবসার মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা শুরু করল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রথমেই জিকে বিল্ডার্সের মালিক ও স্বঘোষিত যুবলীগ নেতা গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জিকে শামীম ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিস্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে মামলা করল সংস্থাটি।

শামীমের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে ৩৯৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে তার নামে ব্যাংকে ১৬৫ কোটি টাকার এফডিআরের (মেয়াদি আমানত) তথ্যপ্রমাণ মিলেছে। এ ছাড়া তার নামে গাড়ি-বাড়ি-ফ্ল্যাট, জমিসহ নানা ধরনের সম্পদ পাওয়া গেছে।

খালেদের বিরুদ্ধে ৬ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলা করেছে দুদক। তার বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে গাড়ি, ফ্ল্যাট, জমিসহ অন্যান্য সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।

গতকাল রোববার দুদক উপপরিচালক সালাহউদ্দিন বাদী হয়ে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে শামীমের বিরুদ্ধে কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ মামলা করেন। একই দিনে দুদকের উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে একই অভিযোগে একই কার্যালয়ে খালেদকে আসামি করে আরেকটি মামলা করেন।

দুদক সূত্র জানায়, পর্যায়ক্রমে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিস্কৃত সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটসহ অন্যদের বিরুদ্ধেও মামলা করা হবে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যাপকভিত্তিক অনুসন্ধান চলছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুদকের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, ক্যাসিনো কারবারে সম্পদ অর্জনকারীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতিরোধী সংস্থাটি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা শুরু করল। এ তালিকায় আরও নাম আছে। পর্যায়ক্রমে তাদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

গণপূর্তের সাবেক দুই প্রকৌশলীর সম্পদের হিসাব চাওয়া হচ্ছে : জিকে বিল্ডার্সের মালিক শামীমকে নিয়ম ভঙ্গ করে টেন্ডারের কার্যাদেশ দেওয়া ও কাজ না করেই বিল পরিশোধ করে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ঘটনায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের সাবেক একাধিক উচ্চপদস্থ প্রকৌশলীকে নজরে রেখেছে দুদক। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গণপূর্তের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম ও সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবদুল হাইয়ের সম্পদের হিসাব চাওয়া হবে। আজকালের মধ্যে তাদের নামে-বেনামে, স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিশ পাঠানো হবে।

গত মাসের মাঝামাঝি ক্যাসিনো ব্যবসায় জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এতে জড়িত অনেকের অবিশ্বাস্য সম্পদের খোঁজ মেলে। এর পর গ্রেফতার ক্যাসিনো ব্যবসায়ী ও এর সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িতদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। এরই মধ্যে শামীম ও খালেদ মাহমুদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শেষ হওয়ায় তাদের নামে মামলা করা হয়।

জানা গেছে, অনুসন্ধান করতে গিয়ে দুদক কতিপয় হাই প্রোফাইল ব্যক্তির নামও পেয়েছে। এর মধ্যে ক্ষমতাসীন দলের চট্টগ্রাম-১২ আসনের এমপি ও জাতীয় সংসদের হুইপ শামসুল হক চৌধুরী এবং সরকারি দলের ভোলা-৩ আসনের এমপি নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনের নামও রয়েছে। এরই মধ্যে  বাংলাদেশ ব্যাংক শাওন, তার স্ত্রী, বাবা-মা ও তার স্বার্থসংশ্নিষ্ট সবার ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ দম্পতির আর্থিক বিষয় নিয়ে তদন্ত করছে। তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসার মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা অর্জন ও বিদেশে পাচারের অভিযোগ রয়েছে। ক্যাসিনো সংক্রান্ত অভিযোগে দুদকের তালিকায় অর্ধশতাধিক ব্যক্তির নাম রয়েছে বলে জানা গেছে।