জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

জীবনঘনিষ্ঠ চলচ্চিত্র সমাজের জন্য মঙ্গলজনক

প্রকাশ: ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯

সমকাল ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, চলচ্চিত্র সমাজ সংস্কার বা সমাজের ভালো দিকগুলো তুলে ধরতে পারে। চলচ্চিত্র মানুষের মাঝে গভীর দাগ কাটতে এবং মানুষকে আরও সুন্দর পথে চলার প্রেরণা দিতে পারে। কাজেই জীবনঘনিষ্ঠ চলচ্চিত্র যত বেশি নির্মাণ হবে, সমাজের জন্য তা ততই মঙ্গলজনক। তাই আরও সুন্দর সুন্দর চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে হবে।

বাংলাদেশের নাটকেরও ভূয়সী প্রশংসা করেছেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, মাঝেমধ্যে নাটকের সামান্য অংশ দেখার সুযোগ তার হয়। এই অভিজ্ঞতা থেকে তার মনে হয়, বাংলাদেশে এখনও অনেক জীবনস্পর্শী ও শিক্ষণীয় নাটক নির্মাণ হয়।

গতকাল রোববার বিকেলে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০১৭ ও ২০১৮ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। খবর বাসস, ইউএনবি ও বিডিনিউজের।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি খুব বেশি সিনেমা দেখার সুযোগ পান না। তবে যখন বিদেশে যান তখন বিমানে বসে সিনেমা দেখেন। দেশে অনেক চমৎকার সিনেমা তৈরি হয়। তার খুব ভালো লাগে।

নাটক নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, সাধারণত নাটক দেখার সময় তিনি পান না। ফাইল দেখতে দেখতে আর নথি পড়তে পড়তেই দিন কেটে যায়। তবে মাঝেমধ্যে টেলিভিশনে নাটকের কিছু অংশ দেখেন। অন্য জায়গায় শুধু শাড়ি, গহনার কম্পিটিশন আর খুনসুটিপনা দেখা যায়। অথচ এদেশের প্রতিটি নাটকের ভেতরে এত বেশি জীবনধর্মী স্পর্শ রয়েছে, যা থেকে অনেক কিছু জানা যায়, শেখা যায়; অনেক কিছু বোঝা যায়। কাজেই এ দেশের নাটকগুলোই শ্রেষ্ঠ।

বাংলাদেশের অভিনয়শিল্পীদেরও প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, 'আমাদের দেশের মানুষের মেধার কোনো কমতি নেই। পৃথিবীর অনেক দেশ থেকে আমাদের দেশের মানুষ অনেক মেধাবী। আমরা তো দেখি, এখানকার অনেক চিত্রশিল্পী পাশের দেশে গেলে  আরও ভালো কাজ করেন এবং সেখানে একটা স্থান করে নিতে পারেন। তাহলে আমরা নিজের দেশেও কেন পারব না আরও উন্নতমানের ছবি তৈরি করে অন্য দেশের মানুষকে আকর্ষণ করতে? নিজস্ব মেধা-মনন দিয়ে আমরা ছবি তৈরি করে বিশ্বদরবারে নিজেদের একটা অবস্থান তৈরি করে নিতে পারি। সেদিকে আমাদের আরও বেশি দৃষ্টি দেওয়া দরকার।'

তরুণদের আরও বেশি সংস্কৃতিচর্চায় সম্পৃক্ত করতে পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমাদের তরুণ প্রজন্ম এগিয়ে আসছে। তাদের যে ভাবনা, মেধা, মননশীলতা; সেগুলো আরও বিশেষ করে কাজে লাগানো দরকার। এই পরিবর্তনশীল যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের চলতে হবে। সেভাবে আমরা কাজ করতে চাই।

এই খাতকে এগিয়ে নিয়ে চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার কথা তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আগ্রহীরা যেন ভালোভাবে প্রশিক্ষণ নিতে পারে এবং নিজেদের আরও ভালোভাবে তৈরি করতে পারে, সেদিকে লক্ষ্য রেখে এই ইনস্টিটিউশন তৈরি করা হয়েছে, যাতে এ দেশের তরুণ নির্মাতারা আধুনিক চলচ্চিত্র তৈরির কৌশল সম্পর্কে অবহিত হয়ে নিজেদের প্রতিভাকে বিকশিত করতে পারে।

সমাজ বিনির্মাণে চলচ্চিত্রের গুরুত্বের কথা তুলে ধরে এই মাধ্যম ব্যবহার করে মানুষের চিন্তা-চেতনা ও মননে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, দুর্নীতি সমাজকে ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এর বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। শুধু আইনগত অভিযান দিয়েই কিন্তু সমাজকে রক্ষা করা যাবে না। এ জন্য দরকার মানুষের ভেতরের চেতনাটাকে আরও উদ্ভাসিত করা। এর খারাপ দিকটা তুলে ধরা। চলচ্চিত্র এখানে বিরাট একটা ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলচ্চিত্রের প্রত্যেকটা ঘটনা বা কাহিনী যেন জীবনভিত্তিক হয়। জীবনের বৈচিত্র্য যেন তুলে ধরে। মানুষের ভালো মননগুলো যেন বিকশিত হতে পারে?, সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে।

শোষিত-বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আজীবন সংগ্রামের কথা তুলে ধরার পাশাপাশি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের উন্নয়নে জাতির পিতার ভূমিকার কথা স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, জাতির পিতাকে হত্যার পর আমরা শুধু আর্থ-সামাজিকভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হইনি; আমাদের ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে। আবার অপসংস্কৃতির প্রচলনটাও খুব বেশি দেখা গেছে। ধীরে ধীরে সেই জায়গা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য চলচ্চিত্র শিল্পী ও কলাকুশলীদের ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

দেশের বিভিন্ন জেলায় বন্ধ হয়ে যাওয়া সিনেমা হল চালু করতে হল মালিকদের সঙ্গে আলোচনার কথা উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, মফস্বলের সিনেমা হলগুলো যেন ভালোভাবে চলতে পারে এবং ডিজিটালাইজড হয়, সেদিকেও দৃষ্টি দিতে হবে। অর্থাৎ আধুনিক যুগের সঙ্গে যেন তাল মিলিয়ে তারা চলতে পারে। এ ক্ষেত্রে যা যা সহযোগিতা দরকার, সরকার সেটা করবে।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, তথ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হাসানুল হক ইনু, তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন তথ্য সচিব আবদুল মালেক।