ঢাবি ক্যাম্পাসজুড়ে উৎসবের আমেজ

প্রকাশ: ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯     আপডেট: ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯

ইমাদ উদ্দিন মারুফ

সমাবর্তন মানে একসঙ্গে মিলিত হওয়া। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষাজীবনের শেষের স্বীকৃতি এটি। সমাবর্তনের মধ্য দিয়ে সর্বোচ্চ সম্মানের অধিকারী হন শিক্ষার্থীরা। তাই সমাবর্তনের আরেক নাম উল্লাস। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫২তম সমাবর্তনকে ঘিরে এমনই আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতেছেন গ্র্যাজুয়েটরা। গাউন পরে ও মাথায় হ্যাট লাগিয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করে নিচ্ছেন একে অন্যের সঙ্গে। ছবি তুলছেন, ঘুরে বেড়াচ্ছেন কার্জন হল, টিএসসি, রাজু ভাস্কর্য, বটতলা, অপরাজেয় বাংলা, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, সিনেট ভবনসহ পুরো ক্যাম্পাসে।

ঢাবির ৫২তম সমাবর্তন আজ সোমবার দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার গ্র্যাজুয়েটদের সমাবর্তনের কস্টিউম (গাউন-টুুপি) বিতরণ করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গাউন-টুপি পাওয়ার পরই শিক্ষার্থীরা সেগুলো পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর স্মৃতি ধরে রাখতে শুরু করেন ছবি তোলার মাধ্যমে। কেউ কেউ তাদের বাবা-মাকে নিয়ে এসেছেন ক্যাম্পাসে। বাবা-মায়ের উপস্থিতি তাদের আনন্দে যোগ করেছে বাড়তি মাত্রা।

কার্জন হল এলাকায় ছবি তোলার সময় কথা হয় ফলিত গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী ফাহমিদা খানমের সঙ্গে। অনুভূতি জানিয়ে তিনি বলেন, 'গ্র্যাজুয়েশন শেষে প্রথমবারের মতো সমাবর্তনে অংশ নিচ্ছি। শিক্ষাজীবন শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে এর স্বীকৃতি পেতে যাচ্ছি। এর আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। সমাবর্তনের পোশাক পরে ছবি তুলছি, অনেক ভালো লাগছে। বন্ধুদের সঙ্গে হল ও বিভাগে গিয়েও ছবি তুলব।'

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, 'শিক্ষাজীবন শেষ প্রত্যেক শিক্ষার্থীর আকাঙ্ক্ষা থাকে স্বীকৃতির। সমাবর্তন হলো সেই স্বীকৃতির আনুষ্ঠানিকতা। সমাবর্তনে অংশ নেওয়ার বিষয়টি অনেক আনন্দের। তবে এর সঙ্গে শুরু হয় নতুন ভাবনা। পড়াশোনা করে সবারই ভালো একটি চাকরির প্রত্যাশা থাকে। এর সঙ্গে আরও ভাবনা তৈরি হয় দেশকে নিয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করে দেশ ও দেশের মানুষের জন্য কী করতে পারছি, সেটি ভাবনার বিষয়। সেটি যেন আমরা করতে পারি।'

এদিকে, সমাবর্তন ঘিরে ঢাবি ক্যাম্পাস সেজেছে নতুন সাজে। ব্যানার-ফেস্টুন আর নানা রঙের বেলুনে রঙিন কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ, ঐতিহাসিক কার্জন হল, টিএসসি, রাজু ভাস্কর্য, স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বর, কলা ভবন, বটতলা, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ চত্বর, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ও সিনেট ভবন। বিভিন্ন প্রবেশপথে বসেছে তোরণ। নানা পয়েন্টে বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা।

সমাবর্তন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে উপাচার্য আখতারুজ্জামান বলেন, 'সমাবর্তন ঘিরে ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। অনুষ্ঠান সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সব সদস্য, ঢাকা মহানগর পুলিশ, র‌্যাবসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করছি।'

সমাবর্তন অনুষ্ঠানের সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এ লক্ষ্যে গতকাল কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত হয় সমাবর্তন মহড়া। এ ছাড়া নিশ্চিত করা হয়েছে সমাবর্তন অনুষ্ঠানের সার্বিক নিরাপত্তা। সমাবর্তনে সভাপতিত্ব করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। সমাবর্তন বক্তা জাপানের টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের কসমিক রে রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. তাকাকি কাজিতা। তাকে সম্মানসূচক 'ডক্টর অব সায়েন্স' ডিগ্রি প্রদান করা হবে।

এবারের সমাবর্তনে অংশ নেওয়ার জন্য ২০ হাজার ৭৯৬ জন গ্র্যাজুয়েট রেজিস্ট্রেশন করেছেন। অনুষ্ঠানে ৭৯ জন কৃতী শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীকে ৯৮টি স্বর্ণপদক, ৫৭ জনকে পিএইচডি, ছয়জনকে ডিবিএ এবং ১৪ জনকে এমফিল ডিগ্রি প্রদান করা হবে।

সমাবর্তনস্থলে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটরা কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের সুইমিংপুল-সংলগ্ন গেট এবং জিমনেশিয়াম-সংলগ্ন গেট দিয়ে প্রবেশ করবেন। আমন্ত্রিত অতিথিরা সুইমিংপুল-সংলগ্ন গেট দিয়ে সমাবর্তনস্থলে প্রবেশ করবেন। এ ছাড়া অধিভুক্ত সাত কলেজের রেজিস্ট্রেশনকৃত গ্র্যাজুয়েটরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঢাকা কলেজ ও ইডেন মহিলা কলেজ ভেন্যু থেকে সরাসরি সমাবর্তন অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। সমাবর্তন উপলক্ষে আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ থাকবে।