মধ্যপ্রাচ্যে চাকরির টোপ নিঃস্ব বরিশালের ৬ যুবক

সপরিবারে ওমান পালিয়েছে প্রতারক শহিদুল

প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২০      

বরিশাল ব্যুরো

মধ্যপ্রাচ্যে উচ্চ বেতনে চাকরির প্রলোভনে এখন প্রায় নিঃস্ব বরিশাল নগরীর ছয় যুবক। তাদের কাছ থেকে প্রায় ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ওমান প্রবাসী এক ব্যক্তি। প্রতারণার শিকার ছয় যুবক হলেন- নগরীর রূপাতলীর বাসিন্দা পান্না মিয়া, আমানতগঞ্জের মিজানুর রহমান, নথুল্লাবাদের মো. হাফিজ, ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের ফিশারি সড়কের আমিনুল ইসলাম, একই ওয়ার্ডের মাহমুদ হোসেন ও মো. মুন্না।

পান্না মিয়া অভিযোগ করেন, কাশীপুরের ফিশারি সড়কের বাসিন্দা ওমান প্রবাসী শহিদুল ইসলাম থাকা-খাওয়ার সুবিধাসহ মাসে ৪০ হাজার টাকা বেতন দেওয়ার কথা বলে গত বছরের ২৪ মে তার কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা নেয়। এক মাসের মধ্যে ওমান পাঠানোর চুক্তি হয় তাদের মধ্যে। ওই বছরের জুনে শহিদুল তাকে ভিসা ও বিমানের টিকিট দেয় ওমান যাওয়ার জন্য। ১৯ সেপ্টেম্বর তিনি ঢাকার হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন গেটে গিয়ে ওই ভিসা ও বিমান টিকিট প্রদর্শন করেন। এ সময় প্রমাণিত হয়, তার ভিসা ও টিকিট জাল।

পান্না মিয়া বলেন, বরিশালে ফিরে শহিদুলের কাছে টাকা ফেরত চাইলে ১০ দিনের মধ্যে নতুন ভিসা ও টিকিট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় সে। কিন্তু এরই মধ্যে শহিদুল গোপনে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে ওমানে পালিয়ে যায়। এ বিষয়ে গত ৩০ ডিসেম্বর বরিশালের একটি আদালতে মামলাও করেছেন বলে জানান পান্না। আদালতের নির্দেশে মামলাটি

তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বরিশাল পিবিআইর এসআই কবির হোসেন জানান, পান্না মিয়ার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। তাকে যে ভিসা দেওয়া হয়েছিল তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে।

একইভাবে শহিদুলের প্রতারণার শিকার আমানতগঞ্জের মিজানুর রহমান বলেন, শহিদুল তার কাছ থেকে চার লাখ টাকা নিয়েছে। নথুল্লাবাদের হাফিজ বলেন, পাঁচ মাস আগে শহিদুলকে তিনি চার লাখ টাকা দিয়েছিলেন ওমান যাওয়ার জন্য; কিন্তু ভিসা না দিয়েই সে পালিয়ে গেছে।

বর্তমানে সপরিবারে ওমানে থাকায় শহিদুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে দেশে থাকা তার মা লাইলী বেগম জানান, তার ছেলে বাড়ি এলে লোকজন বিদেশে যাওয়ার জন্য এসে ধরনা দিত। কয়েকজনকে ওমানে নিয়ে চাকরিও দিয়েছে শহিদুল। এখন কিছুটা সমস্যা হওয়ায় লোক নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তিনি জানান, যাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে, তাদের ওমানে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে শহিদুল।