ফেব্রুয়ারি মাসের ২৯ তারিখ। দুর্লভ একটি দিন। অধিবর্ষে বা লিপ ইয়ারে কেউ জন্মগ্রহণ করলে চার বছরে মাত্র একবারই দিনটি উদযাপন করা সম্ভব। ১৯৪৮ সালের এই দিনেই জন্মগ্র্রহণ করেছিলেন বাংলাদেশের মঞ্চ, টিভি ও চলচ্চিত্র জগতের গুণী নাট্যজন মামুনুর রশীদ। আজ শনিবার, তার ৭৩তম জন্মদিন। চার বছর ঘুরে আজ আবারও গুণী এই শিল্পীর জন্মদিন উদযাপনের সুযোগ এসেছে।

টাঙ্গাইলের পাইকড়া গ্রামে মাতুলালয়ে মামুনুর রশীদের জন্ম। বাবা হারুনুর রশীদের ডাক বিভাগে সরকারি চাকরির সূত্রে ঘুরে বেড়িয়েছেন দেশের বিভিন্ন জেলার স্কুল-কলেজে। ঢাকা পলিটেকনিক থেকে পুরকৌশল বিভাগে ডিপ্লোমা করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে করেছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানে বিএ ও এমএ। ১৯৬৭ সাল থেকেই বাংলাদেশ টেলিভিশনে নাটক লিখতে শুরু করেন মামুনুর রশীদ। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। জড়িয়ে পড়েন স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রের সঙ্গে। তার উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে রয়েছে- 'ওরা কদম আলী', 'ওরা আছে বলেই', 'ইবলিশ', 'এখানে নোঙর', 'রাঢ়াং', 'চে'র সাইকেল' প্রভৃতি। শহীদুল্লা কায়সারের 'সংশপ্তক' উপন্যাসটির প্রথম নাট্যরূপও দিয়েছেন তিনি।

গুণী এই ব্যক্তিত্বের জন্মদিন উপলক্ষে শিল্পকলা একাডেমিতে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে ছয় দিনব্যাপী 'দ্রোহ দাহ স্বপ্নের নাট্য আয়োজন'। আগামী ৩ মার্চ পর্যন্ত এ উৎসব চলবে। উৎসবে রয়েছে মামুনুর রশীদ রচিত পাঁচটি নাটকের মঞ্চায়ন, সংগীত, নৃত্য, সেমিনার, প্রদর্শনী, গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন, সংবর্ধনা ও থিয়েটার আড্ডা। গত বৃহস্পতিবার একাডেমির নন্দন মঞ্চে বর্ণিল আয়োজনে মাদলের বাজনার সঙ্গে মামুনুর রশীদের জন্মদিনের এ উৎসবের উদ্বোধন করেন অধ্যাপক হায়াত মামুদ। নাট্যব্যক্তিত্ব হারুন-অর-রশিদের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন রাজনীতিবিদ রাশেদ খান মেনন, ভারতের কলকাতার সংস্কৃতিজন শমীক বন্দ্যোপাধ্যায় ও দেশের বরেণ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা।

অনুষ্ঠানে মামুনুর রশীদ বলেন, চার বছর পরপর জন্মদিন হওয়ায় আমার বয়স এখন ১৮ বছর। কবি সুকান্তের একটি অসাধারণ কবিতা আছে, যে ১৮ বছরের বয়স একটা গুরুতর সময়। এ সময় মানুষের দ্রোহ, দাহ এবং স্বপ্নের সময়। ১৮ বছর বয়সের যে দুর্দমনীয় সময় সেই সময়ে দাঁড়িয়ে আছি। আমি চেষ্টা করব আবার জেগে উঠতে। চেষ্টা করব দ্রোহ, দাহ ও স্বপ্নের আয়োজন করতে।

আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে অভিনয় শিল্পী সংঘের সম্মিলনী ও শুভেচ্ছা নিবেদনের আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে জন্মোৎসবে তৃতীয় দিনের আয়োজন। বিকেল সাড়ে ৪টায় একই হলে অনুষ্ঠিত হবে 'মামুনুর রশীদের নাট্যভাবনা এবং আমাদের নাট্যচর্চা' শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে মুখ্য আলোচক হিসেবে থাকবেন কথাসাহিত্যিক ও শিক্ষক অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল হলে 'অভিনন্দন, জীবন ও শিল্পের মামুনুর রশীদ' শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখবেন নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, নাসির উদ্দীন ইউসুফ, লিয়াকত আলী লাকী। অনুষ্ঠানে সংহতি নিবেদন করবেন অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফা। সংগীত পরিবেশন করবেন ফরিদা পারভীন, অণিমা রায়, অলোক সেন ও শারমিন। এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় একই মিলনায়তনে 'কহে ফেসবুক' নাটকের উদ্বোধনী প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে এদিনের আয়োজন। চতুর্থ দিন থেকে ষষ্ঠ দিনের আয়োজনে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টায় জাতীয় নাট্যশালার মূল হলে একটি করে নাটক মঞ্চস্থ হবে। এর মধ্যে ১ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে 'কহে ফেসবুক' নাটকের দ্বিতীয় প্রদর্শনী, ২ মার্চ মঞ্চস্থ হবে নাটক 'চে'র সাইকেল' এবং ৩ মার্চ সন্ধ্যা ৭টায় নাটক 'সংক্রান্তি' পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শুরু হবে উৎসবের শেষ দিনের আয়োজন। এ নাটক শেষে একই হলে রাত ৯টায় অনুষ্ঠিত হবে উৎসবের সমাপনী আয়োজন।





মন্তব্য করুন