মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২০

রাজশাহী ব্যুরো

সংক্রমণ শুরুর দিকে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় উদাহরণ হলেও রাজশাহী এখন করোনার হটস্পট। প্রতিদিন যে হারে রোগী বাড়ছে, তাতে সামনের দিনগুলোতে হাসপাতালে আইসিইউ-ভেন্টিলেটর সংকট দেখা দেবে। কারণ এক হাজার ২০০ শয্যার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ১০ শতাংশ হিসেবে আইসিইউ-ভেন্টিলেটর থাকার কথা কমপক্ষে ১২০টি। কিন্তু আছে মাত্র ১৫টি।

করোনা সংক্রমণের শুরুর দিকে সিটি মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের উদ্যোগে কঠোর লকডাউন শুরু হয় রাজশাহীতে। তখন সংক্রমণের গতি একেবারেই কমে যায়। তবে গত ঈদুল ফিতরের পর থেকে সরকার লকডাউন তুলে যাত্রীবাহী পরিবহন চালু করলে শুরু হয় সংক্রমণ। সারাদিন মানুষের ভিড় থাকছে শহরের অলিগলিতে। মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, গত এক সপ্তাহ ধরে প্রতি তিনজনের নমুনা পরীক্ষায় কমপক্ষে একজন করোনা পজিটিভ মিলছে। গত রোববার পর্যন্ত রাজশাহীতে ৫৭১ জন করোনা পজিটিভ রোগী পাওয়া গেছে। এর মধ্যে শুধু নগরীতেই ৩৮১ জন। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. চিন্ময় দাস বলেন, আমাদের দেশের মানুষ লকডাউন বোঝে না। তারা কারফিউ বোঝে। তাই এই লকডাউন কারফিউ নামে দিতে হবে। তা না হলে ধীরে ধীরে সবাই আক্রান্ত হবে। এছাড়া হাসপাতালের আইসিইউ ভেন্টিলেটর বাড়াতে হবে। এগুলো চালানোর জন্য দক্ষ জনবলও প্রয়োজন।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস জানান, হাসপাতালে মোট শয্যার ১০ শতাংশ আইসিইউ থাকার নিয়ম। সে অনুযায়ী এই হাসপাতালে ১২০টি আইসিইউ থাকার কথা। তবে এই নিয়মে দেশের কোনো হাসপাতালেই আইসিইউ নেই। তিনি বলেন, আমাদের আইসিইউ সংকট থাকলেও অক্সিজেন সরবরাহ আছে, যা করোনা রোগীদের কাজে আসবে।

রাজশাহীর সিটি মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, হাসপাতালের আইসিইউ-ভেন্টিলেটর বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু চলমান পরিস্থিতির কারণে ঢাকামুখী হতে পারছি না। তাই দ্রুতগতিতে কাজ হচ্ছে না।