খুলনায় সন্তানদের নিয়ে পাটকল শ্রমিকদের অবস্থান

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২০

খুলনা ব্যুরো

খুলনায় সন্তানদের নিয়ে পাটকল শ্রমিকদের অবস্থান

রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সোমবার সন্তানদের নিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন খুলনার প্লাটিনাম জুট মিলের শ্রমিকরা- সমকাল

দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত সব পাটকল বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সন্তানদের নিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে খুলনা অঞ্চলের ৯টি পাটকলের শ্রমিকরা। বাংলাদেশ রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ সংগ্রাম পরিষদের ডাকে পাটকলগুলোর গেটে সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত পালিত হয় এ কর্মসূচি। অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, মিল বন্ধের সিদ্ধান্ত তারা কার্যকর হতে দেবেন না।

সকাল সোয়া ৯টায় নগরীর খালিশপুরে প্লাটিনাম জুট মিল গেটে গিয়ে দেখা যায়, বিআইডিসি সড়ক থেকে মিলের ভেতর পর্যন্ত দুই পাশে লম্বা লাইনে শ্রমিকরা দাঁড়িয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। তাদের সঙ্গে বিভিন্ন দাবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে অংশ নেয় শ্রমিকদের সন্তানরা। সমাবেশে বক্তৃতা করেন প্লাটিনাম জুট মিল সিবিএর সাবেক সভাপতি খলিলুর রহমান, কওছার আলী মৃধা, শিকদার মনিরুল ইসলাম, কাজী মনিরুল ইসলাম, ফিরোজ হোসেন, নুর ইসলাম প্রমুখ। রাষ্ট্রায়ত্ত ক্রিসেন্ট, খালিশপুর, দৌলতপুর, স্টার, ইস্টার্ন, আলিম, জেজেআই ও কার্পেটিং জুট মিলেও একইভাবে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শ্রমিকরা।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, সরকার পাটকল বন্ধ করে দিলে হাজার হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়বে। শ্রমিকরা হয়তো পাওনা টাকা পাবে, কিন্তু ভবিষ্যতে তারা কী করে খাবে? সরকারের হঠকারী সিদ্ধান্তে পাটকল শ্রমিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে যাবে। সন্তানদের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাবে। কর্মহীন হতে যাওয়া শ্রমিকরা দুশ্চিন্তায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ঘরে ঘরে স্ত্রী-সন্তানরা কান্না শুরু করেছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. খলিলুর রহমান জানান, তারা আজ মঙ্গলবার দুপুর ২টা থেকে বুধবার দুপুর ২টা পর্যন্ত মিল গেটে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন। এরপর বুধবার দুপুর ২টা থেকে শ্রমিকরা মিল গেটে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আমরণ অনশন শুরু করবে।

এদিকে গতকাল দুপুরে সার্কিট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে খুলনা সিটি মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক বলেন, আগামী সেপ্টেম্বরে পাটকল শ্রমিকদের পাওনা সব টাকা একবারে পরিশোধ করা হবে। একজন শ্রমিক নূ্যনতম ১২ লাখ টাকা পাবে।

সংবাদ সম্মেলনে খুলনার জেলা প্রশাসক মো. হেলাল হোসেন বলেন, মিলগুলো আবার পিপিপির অধীনে চালু করা হবে এবং তখন পাটকলে আর লোকসান থাকবে না। এ ছাড়া ২০১৪ সাল থেকে অবসরে যাওয়া শ্রমিকদের পাওনাও এককালীন পরিশোধ করা হবে।