সৌদি থেকে ফিরে ইয়াবার কারবার

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

বকুল আহমেদ

সৌদি থেকে ফিরে ইয়াবার কারবার

ইউসুফ মোল্লা

সৌদি আরবে গাড়িচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন মুন্সীগঞ্জের ইউসুফ মোল্লা। চলতি বছরের শুরুর দিকে দেশে ফিরে আসেন। শ্রমিক হিসেবে আর সৌদিতে যাবেন না বলে সিদ্ধান্ত নেন। এরপর দেশে শুরু করেন ইয়াবার কারবার। শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে অন্যান্য পণ্যের আড়ালে সৌদি আরবেও ইয়াবা পাচার করছিলেন তিনি। সে দেশের কয়েক মাদক কারবারির সঙ্গে তার সখ্য তৈরি হয়েছিল সেখানে থাকতেই। সে সুবাদে ইয়াবা পাচারের পথ আগে থেকেই চেনাজানা ছিল তার। তবে দেশে ইয়াবা ব্যবসায় প্রথম দিকে সুবিধা করতে পারছিলেন না নিজস্ব যানবাহন না থাকায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে ইয়াবা সংগ্রহ ও সরবরাহের জন্য তিনি ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকায় একটি অ্যালিয়ন প্রাইভেটকার কেনেন। এ গাড়ি ব্যবহার করে তিনি ইয়াবা সংগ্রহ ও পাইকারি বিক্রি করতেন। প্রতি পিস ইয়াবা বিক্রি করতেন ৩০০ টাকায়। তবে ইয়াবা সরবরাহে গাড়ি ব্যবহার করেও শেষ রক্ষা হয়নি ইউসুফ মোল্লার। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) গোয়েন্দা বিভাগের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন গাড়িসহ। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দিয়েছে ডিএনসি। ডিএনসি সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, ইউসুফ মোল্লার বাবার নাম মৃত সিদ্দিকুর রহমান মোল্লা। গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া থানার পুরাতন বাওশিয়ায়। কয়েক মাস ধরে ইউসুফ ইয়াবা কারবার করলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন। গ্রামের লোকজন তাকে আমদানি-রপ্তানি ব্যবসায়ী হিসেবে চেনেন। সৌদি থেকে আসার পর তিনি এই পরিচয়ই দিয়েছেন এলাকাবাসীর কাছে। ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার ইয়াবা কারবারের বিষয়টি জানতে পারেন তারা। গত ৫ জুন তেজগাঁওয়ের একটি আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউস থেকে একটি ট্রলিব্যাগ জব্দ করে ডিএনসির গোয়েন্দা বিভাগ। ব্যাগে তিনটি পাঞ্জাবি, তিনটি প্যান্ট ও দুটি পায়জামার সঙ্গে এক হাজার পিস ইয়াবা সৌদি আরবে বাংলাদেশি প্রবাসী সাইদুর ওরফে সাইদের কাছে পাঠানো হচ্ছিল। এ ঘটনায় প্রথমে শাহ আলম নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে ডিএনসি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে ইউসুফ মোল্লার নাম জানতে পারেন তদন্ত-সংশ্নিষ্টরা। এ চালান সৌদিতে সাইদের কাছে পাঠাচ্ছিলেন ইউসুফ। সাইদ তার পূর্বপরিচিত। গ্রেপ্তার শাহ আলম ইউসুফের ইয়াবা ব্যবসার সহযোগী। ৫ জুন রাতে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে প্রাইভেটকারে ইয়াবা বিক্রির জন্য অবস্থান করছিলেন ইউসুফ মোল্লা। এক হাজার ২৫০ পিস ইয়াবাসহ তাকে গাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে ডিএনসি। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয় তার সহযোগী মো. রাহাত মিয়া ও চালক সাদ্দাম হোসেনকে। তিনজনের বিরুদ্ধে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় ডিএনসির ঢাকা গোয়েন্দা বিভাগের পরিদর্শক মো. হেলাল উদ্দিন ভূঁইয়া বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করেন একই বিভাগের উপপরিদর্শক ইকবাল আহমেদ দীপু। তদন্ত শেষে গত ৩১ আগস্ট ইউসুফ মোল্লাসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। ইউসুফের গাড়িটি মাদকদ্রব্যের গেণ্ডারিয়া অফিসে জব্দ রয়েছে।

পরিদর্শক মো. হেলাল উদ্দিন ভূঁইয়া সমকালকে বলেন, আসামি ইউসুফ মোল্লা, সাদ্দাম হোসেন, রাহাত মিয়া ও মাসুম রানার বিরুদ্ধে ইয়াবা ব্যবসার বিষয়টি প্রাথমিকভাবে প্রমাণ হওয়ায় তাদের অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে।