বগুড়া পৌরসভা নির্বাচন

ক্লিন ইমেজের প্রার্থীদের সমর্থন দেবে আ'লীগ

একই পথে বিএনপি

প্রকাশ: ২২ নভেম্বর ২০২০     আপডেট: ২২ নভেম্বর ২০২০

এস এম কাওসার,বগুড়া

ক্লিন ইমেজের প্রার্থীদের সমর্থন দেবে আ'লীগ

ছবি: ফাইল

জেলার প্রাণকেন্দ্র বগুড়া পৌরসভায় আওয়ামী লীগের সমর্থন পেতে সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীদের লম্বা লাইন দেখা যাচ্ছে। একই অবস্থা বিএনপিরও। তবে এ দু'দলই ক্লিন ইমেজের প্রার্থীদের সমর্থন দিতে প্রক্রিয়া শুরু করেছে। আর মেয়র পদে বিএনপির প্রার্থী চূড়ান্ত করা হলেও আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী হওয়ায় কেন্দ্রে নামের তালিকা পাঠাবে তারা। এর মধ্য থেকে একজনকে মনোনয়ন বোর্ড মনোনয়ন দেবে।

২১টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত বগুড়া পৌরসভায় নারী-পুরুষ মিলে ভোটার ২ লাখ ৭৬ হাজার ১৫০ জন। ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর এ পৌরসভার নির্বাচনে মেয়র হয়েছিলেন বিএনপির অ্যাডভোকেট একেএম মাহবুবর রহমান। ২১টি ওয়ার্ডের মধ্যে কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগ সাধারণ ১১টি, সংরক্ষিত একটি, বিএনপি সাধারণ ১২টি, সংরক্ষিত একটি এবং জামায়াতের প্রার্থী সাধারণ দুটি ও সংরক্ষিত একটি পদে নির্বাচিত হন।

এবার এই পৌরসভার নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ ও জমা দিয়েছেন পাঁচজন। তারা হলেন- জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম মন্টু, সাবেক সহসভাপতি অ্যাডভোকেট এমএ মতিন, শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুর রহমান ববি, জেলা যুবলীগের সভাপতি শুভাশিষ পোদ্দার লিটন ও জেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক শামসুদ্দিন শেখ হেলাল। কাউন্সিলর পদে সাধারণ ৭১ জন ও সংরক্ষিত ৮ জন। এবার আওয়ামী লীগ মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থী চূড়ান্ত করতে বেশ বেকায়দায় আছে। গড়ে প্রতিটি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ ও জমা দিয়েছেন ৪ জন। মেয়র পদে মাঠপর্যায়ে খোঁজ নিয়ে নেতাকর্মীদের মনোভাবে বোঝা যায়, যে পাঁচজন প্রার্থী হতে চাচ্ছেন তাদের চেয়ে আওয়ামী লীগের আরও যোগ্য প্রার্থী দেওয়া দরকার এই পৌরসভায়। সে ক্ষেত্রে অনেকেই শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি রফি নেওয়াজ খান রবিনের কথা বলছেন। মাঠপর্যায়ে নব্বই ভাগ নেতাকর্মীর পছন্দ রবিনকে। কিন্তু তিনি গাবতলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে আসীন থাকায় পৌরসভার নির্বাচনের জন্য দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ করেননি।

এদিকে অভিযোগ রয়েছে, কাউন্সিলর পদে দু'দলের প্রার্থী হতে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের নামে একাধিক মামলা রয়েছে। এলাকায় তাদের অনেকেই বিতর্কিত। এ সংখ্যা সরকারি দলেই বেশি। বগুড়া পৌরসভার আওয়ামী লীগের নির্বাচন সংক্রান্ত উপকমিটির দায়িত্বে থাকা শহর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নুরুল আমিন লিডার বলেন, যারা বিতর্কিত ও সন্ত্রাসী তাদের কাছে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিতরণ করা হয়নি।

শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি রফি নেওয়াজ খান রবিন বলেন, সন্ত্রাসী ও বিতর্কিতরা দলীয় সমর্থন পাবেন না। আমরা মাঠপর্যায়ে খোঁজ-খবর নিয়ে দেখব যাদের প্রতি মানুষের আস্থা আছে, যারা দলের জন্য নিবেদিত প্রাণ, যারা ত্যাগ স্বীকার করেছেন তাদের মূল্যায়ন করা হবে। আর মেয়র পদে একাধিক প্রার্থী হওয়ায় জেলা আওয়ামী লীগ ও কেন্দ্রীয় কমিটি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বলেও তিনি জানান।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবর রহমান মজনু বলেন, শুধু বগুড়া পৌরসভায় নয়, জেলার সব পৌরসভায় একাধিক মেয়র পদে প্রার্থী হতে চাচ্ছেন। আমরা প্রথমে নিজেদের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা করব, সমঝোতা না হলে একাধিক প্রার্থীর নামের তালিকা কেন্দ্রে পাঠাব। কেন্দ্র মনোনয়ন দেবে। তিনি কাউন্সিলরদের বিষয়ে বলেন, এটা নিজ নিজ পৌর আওয়ামী লীগ সিদ্ধান্ত নেবে।

অপরদিকে প্রায় দু'মাস আগে থেকেই নির্বাচনী মাঠে নেমে পড়েছে বিএনপি। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৫ অক্টোবর শহর বিএনপি কার্যালয়ে এক সভায় তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের গোপন ভোটে মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয় জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম বাদশাকে। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক বগুড়া-৬ সদর আসনের সাংসদ গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ আনুষ্ঠানিকভাবে এক সভায় বগুড়া পৌরসভার দলীয় মেয়র প্রার্থী হিসেবে বাদশার নাম ঘোষণা করে বলেন, জেলা থেকে আমরা তার নাম কেন্দ্রে পাঠাব।

বিএনপির কাউন্সিলর পদে দলীয় সমর্থন পেতে ২১টি ওয়ার্ডে সাধারণ ও সংরক্ষিত মিলে ৯৬ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে জমা দিয়েছেন। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের নামে মামলা আছে, বিতর্কিতও কয়েকজন আছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে বিএনপির মধ্যে বিতর্কিত তেমন কেউ নেই এবং যাদের বিরুদ্ধে মামলা আছে সেগুলো রাজনৈতিক বলে দাবি করেন শহর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য হামিদুল হক চৌধুরী হিরু। তিনি বলেন, যোগ্যদের দলীয় সমর্থন দিতে ৪টি কমিটি মাঠপর্যায়ে খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। ওই কমিটিগুলোর মতামতের ভিত্তিতেই কাউন্সিলর পদে সমর্থন দেওয়া হবে।