অনিয়ম বন্ধ করে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে বিদ্যুৎ খাতের পরিকল্পনাগুলোর সুফল মিলবে না। এ জন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত-সংশ্নিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে যথাযথ সংস্কার করতে হবে। দেশের প্রবৃদ্ধির চাকা সচল রাখতে বিদ্যুৎ খাতকে অগ্রাধিকার দিতে

হবে। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার 'অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় বিদ্যুৎ খাতের পরিস্থিতি পর্যালোচনা' শীর্ষক ওয়েবিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এ ওয়েবিনারের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। এতে বলা হয়, অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময়ে (২০২১-২৫) বিদ্যুৎ খাত একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় অতিক্রম করবে। সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার অভিজ্ঞতার আলোকে এবং কভিড-পরবর্তী বাস্তবতার নিরিখে বিদ্যুৎ খাতের পরিকল্পনাগুলো সাজানো প্রয়োজন। অনুষ্ঠানে সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান উৎপাদন ও চাহিদার মধ্যে সমন্বয়, জ্বালানি মিশ্রণ এবং সঞ্চালন দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, বাংলাদেশে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা মাথায় রেখে এখনই পুরোপুরি নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সৌরবিদ্যুতের ওপর নির্ভর করা সম্ভব নয়। তবে ছাদের ওপর সোলার প্যানেল বসিয়ে সৌরশক্তির ব্যবহার নিয়ে সরকার ব্যাপকভাবে কাজ করছে। জলবিদ্যুৎ আমদানি নিয়েও পরিকল্পনা চলছে।

পাওয়ার সেল-এর মহাপরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ হোসাইন ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও প্রস্তুতি নেওয়ার কথা বলেন। তিনি বলেন, বর্তমানে পরিবেশবান্ধব জ্বালানিকে গুরুত্ব দিয়ে আঞ্চলিক সহযোগিতার ভিত্তিতে জ্বালানি নীতি প্রণয়ন করা জরুরি।

ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, সরকার নিজেদের ব্যবসায়ীদের সুবিধা দিতে রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র দিয়েছে। বিশেষ

আইন বাতিল করছে না।

বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোর অনিয়ম ও দুর্নীতির দায় জনগণকে

টানতে হচ্ছে।

বুয়েটের অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির পরিকল্পনাগুলো পাঁচ বছরের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। কারণ, বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়লেও শিল্প খাতে সেভাবে চাহিদা বাড়েনি। এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে সমন্বয় করতে হবে। আমাদের গ্রিড ব্যবস্থার আপগ্রেড করতে না পারলে পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করা সম্ভব হবে না। এটা বসে থাকবে। এজন্য অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় সঞ্চালন ও বিতরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তিনি একই জায়গায় বড় বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সমালোচনা করে বলেন, একই স্থানে বড় বিদ্যুৎ হাব করলে সঞ্চালন ও বিতরণ একটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। এ বিষয়গুলো ভাবতে হবে।

বুয়েটের অধ্যাপক ইজাজ হোসেন বলেন, কুইক রেন্টালে রিস্ক ছাড়া বড় অঙ্কের মুনাফা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তাই দৌড়ে এসেছে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগকারীরা; কিন্তু ট্রান্সমিশনে আসেনি তারা। তিনি বলেন, কোনো অবস্থাতেই বিদ্যুতের মতো স্পর্শকাতর খাতে বেসরকারি খাতকে সরকারি সক্ষমতার বেশি হতে দেওয়া যাবে না। সেন্টার ফর এনার্জি রিসার্চের পরিচালক শাহরিয়ার আহমেদ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দেন।

মন্তব্য করুন