বারবার ভোটে জয়ী পাঁচ নেতার পরীক্ষা

প্রকাশ: ১৬ জানুয়ারি ২০২১

আহমেদ কুতুব, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে 'পরিচ্ছন্ন' ইমেজ ও পারিবারিক ঐতিহ্যে ভর করে টানা সপ্তমবারের মতো কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে অনন্য রেকর্ড করতে চান সাইয়ে্যদ গোলাম হায়দার মিন্টু। বিএনপি-জামায়াত অধ্যুষিত চকবাজার ওয়ার্ড থেকে তিনি বারবার বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। এলাকায় 'গরিবের কাউন্সিলর' হিসেবে পরিচিত তিনি। তার মতো 'পরিচ্ছন্ন' ইমেজের আওয়ামী লীগ নেতা গিয়াস উদ্দিন ও বিএনপি নেতা আবদুল মালেক টানা পঞ্চমবারের মতো কাউন্সিলর হতে ভোটের মাঠে নেমেছেন। জনপ্রিয় সাবেক দুই প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত সিটি মেয়র মোহাম্মদ হোসেন- দু'জন চতুর্থবারের মতো কাউন্সিলর হতে দলীয় সমর্থন নিয়ে মাঠে নেমেছেন। ভোটের ময়দানে এ জনপ্রিয় নেতারা ফের অগ্নিপরীক্ষার মুখোমুখি হচ্ছেন ভোটারের।

সপ্তমবার কাউন্সিলর হতে চান পরিচ্ছন্ন মিন্টু

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে টানা সপ্তমবারের মতো কাউন্সিলর হয়ে বিরল রেকর্ড গড়তে চান ১৬ নম্বর চকবাজার ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাইয়ে্যদ গোলাম হায়দার মিন্টু। আওয়ামী লীগ সমর্থক এ প্রবীণ ব্যক্তি বিএনপি-জামায়াত আমলেও বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। ১৯৭৭ সাল থেকে ছয়বার তিনি কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর আহ্বানে মানুষের সেবায় নিয়োজিত হলেও কখনও তাকে নিরাশ করেননি ভোটাররা। ছয়বার কাউন্সিলর হলেও তার বিরুদ্ধে নেই কোনো অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ।

সাইয়ে্যদ গোলাম হায়দার মিন্টু বলেন, আমাদের সমাজে অনেকেই মনে করেন কেউ একবার যদি কাউন্সিলর হয়, তিনি অনেকে টাকা-পয়সা, ধন-সম্পত্তির মালিক হয়ে যান। আমি সে ধারণা বদলে দিয়েছি। করপোরেশন থেকে মাসে ৩৫ হাজার সম্মানি, পারিবারিক তিনটি দোকানঘর ভাড়া দিয়েই দিব্যি আমার জীবন চলে গেছে। আমার গাড়ি নেই, বাড়ি নেই, উচ্চাভিলাষও নেই। লোভ না থাকায় মানুষ আমাকে বারবার ভালোবাসার ভোট দিয়েই বিজয়ী করছেন। এবারও আমি বিপুল ভোটে মানুষের ভালোবাসায় বিজয়ী হবো বলে আশাবাদী।

পঞ্চমবারের মতো কাউন্সিলর হতে চান গিয়াস

১৫ নম্বর বাগমনিরাম ওয়ার্ডে মো. গিয়াস উদ্দিন টানা চতুর্থবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। এবার তিনি পঞ্চমবারের মতো রেকর্ড ছুঁতে চান। ত্যাগী এ আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে খুব বেশি অভিযোগ নেই। তিনি এলাকায় বেশ জনপ্রিয়। নগরীর প্রাণকেন্দ্র জিইসি, ওয়াসার মোড়, সিআরবি, এম এ আজিজ স্টেডিয়াম, সার্কিট হাউস, কাজীর দেউড়িসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকা নিয়ে এ ওয়ার্ড। ২০০০ সাল থেকে তিনি টানা কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে আসছেন।

গিয়াস উদ্দিন বলেন, 'এলাকার সব আবাসিক এলাকাই পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন। আবর্জনা অপসারণ থেকে শুরু করে অনেক সরু রাস্তা বড় করেছি। সব সময় মানুষের সেবা করেছি। ওয়ার্ডের মানুষের

সুখে-দুঃখে সব সময় পাশে ছিলাম। তাই এবারও মানুষ আমাকে

বিজয়ী করবেন।

পঞ্চমবার কাউন্সিলর হতে চান বিএনপির আবদুল মালেকও

'পরিচ্ছন্ন' ইমেজ ও পারিবারিক ঐতিহ্যে ভর করে পঞ্চমবারের মতো নগরীর ২২ নম্বর এনায়েতবাজার ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হতে চান বিএনপি সমর্থিত সাবেক কাউন্সিলর আবদুল মালেক। ১৯৮৮ সাল থেকে টানা ২৮

বছর ধরে তিনি কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে মানুষের সেবা করে গেছেন। চট্টগ্রামের লালদীঘিতে অনুষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী আবদুল জব্বারের বলী খেলার প্রধান বিচারক হিসেবে তার খ্যাতি রয়েছে।

আবদুল মালেক বলেন, আমি সব সময় 'জনগণের কাউন্সিলর' ছিলাম ও আছি। মানুষ আমাকে যখনই ডাকেন কাছে পান। তাই সব দলের মানুষ আমাকে ভোট দেন। এলাকাবাসী আমাকে ভালোবেসে ভোট দেন। দলীয় কার্যক্রমের চেয়ে জনগণের জন্য কাজ করাকে সবসময় বেশি প্রাধান্য দিয়ে এসেছি। মানুষের ভালোবাসাই পঞ্চমবারে মতো আবারও কাউন্সিলর হিসেবে আমি মানুষের সেবা করার সুযোগ পাব বলে আশা করছি।

চতুর্থবার নির্বাচিত হতে চান হাসনী

সিটি করপোরেশনের দু'বার প্যানেল মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছেন চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসানী। ২০০৫ সাল থেকে টানা তিনবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। এবার চতুর্থবারের মতো আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী হয়েছেন। তিনি মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকও।

চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী বলেন, টানা ১৫ বছর কাউন্সিলর থাকাকালীন দেওয়ানবাজার ওয়ার্ডের আগের চেহারার আমূল পরিবর্তন করে দিয়েছি। রাস্তাঘাটের ব্যাপক সংস্কার ও কার্পেটিং, বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থাকরণ, মাতৃমঙ্গল ও শিশু মঙ্গলের জন্য স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সুনিশ্চিতকরণ, দল-মত-ধর্ম নির্বিশেষে সবার বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ানোসহ জনকল্যাণমূলক সব কাজে যুক্ত ছিলাম। এবার চতুর্থবারের মতো নির্বাচিত হলে আমার ওয়ার্ডের দুটি স্কুল ভবন, একটি উচ্চ মাধ্যমিক কলেজকে অনার্স পর্যায়ে উন্নীতকরণ, খাতুনগঞ্জ-বক্সিরহাট সংযোগ সড়কের মোড় সম্প্রসারণসহ বেশ কয়েকটি সড়ক সম্প্রসারণ করে মানুষকে যানজটমুক্ত ওয়ার্ড উপহার দেব।

চতুর্থবার কাউন্সিলর হতে চান সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র হোসেন

তিনবারের কাউন্সিলর ও একবার ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পালন করা নগরীর ২৬ নম্বর উত্তর হালিশহর ওয়ার্ডের মোহাম্মদ হোসেন এবার চতুর্থবারের মতো কাউন্সিলর হতে চান। আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় সমর্থনও পেয়েছেন হোসেন। পরিচ্ছন্ন এই নেতা মহানগর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সজ্জন হিসেবেই পরিচিত। ২০০০ সাল থেকে টানা তিনবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন।

মোহাম্মদ হোসেন বলেন, সুখে-দুঃখে সবসময় নির্বাচনী এলাকার মানুষের পাশে ছিলাম, আছি। এ কারণে এলাকার মানুষ আমাকে বারবার নির্বাচিত করেছেন। বর্তমানে মাদকের ভয়াবহ থাবা থেকে মুক্তি পেতে চায় ওয়ার্ডের জনগণ। মানুষ আমাকে ফের বিজয়ী করলে জনগণের এই চাওয়া পূর্ণ করব।