শ্রমিক আন্দোলন গতিশীল করার আহ্বান

প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০২১

সমকাল প্রতিবেদক

শ্রমিক আন্দোলন গতিশীল করার আহ্বান

সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সোমবার রাজধানীর সেগুনবাগিচার স্বাধীনতা হলে আলোচনা সভায় বক্তারা- সমকাল

শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি, গণতান্ত্রিক শ্রম আইন ও ট্রেড ইউনিয়ন অধিকারের আন্দোলনকে পুঁজিবাদী সমাজ পাল্টানোর আন্দোলনে পরিণত করার আহ্বান জানিয়ে শ্রমিক নেতারা বলেছেন, বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বের শ্রমিকশ্রেণি কঠিন সময় অতিক্রম করছে। একদিকে পুঁজিবাদী শোষণ, অন্যদিকে করোনার আক্রমণ তাদের জীবনের যন্ত্রণা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এ অবস্থার অবসানে শ্রমিক আন্দোলন ও সংগঠন আরও গতিশীল করতে হবে।

গতকাল সোমবার রাজধানীর সেগুনবাগিচার স্বাধীনতা হলে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় নেতারা এসব কথা বলেন। সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতনের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) কেন্দ্রীয় সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজ। আরও বক্তব্য দেন শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের (স্কপ) নেতা সাইফুজ্জামান বাদশা, চৌধুরী আশিকুল আলম, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতা ওসমান আলী, জুলফিকার আলী, আবু নাঈম খান বিপ্লব, সেলিম মাহমুদ ও রতন মিয়া। সভা পরিচালনা করেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেকুজ্জামান লিপন।

বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, দেশের জনগণ সার্বিক মুক্তির প্রত্যাশা থেকেই মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে। কিন্তু বুর্জোয়ারা ক্ষমতাসীন হওয়ার কারণে জনগণ ও শ্রমিকের সেই মুক্তি অর্জিত হয়নি। জনগণের সাম্যের বদলে পুঁজিপতি শ্রেণির বিকাশের পথ উন্মুক্ত হয়েছে। যার কারণে স্বাধীনতার ৫০ বছরে দেশের হাল দাঁড়িয়েছে এক দল লুটপাটকারী এখন অবস্থান করছে সম্পদের পাহাড়ের চূড়ায়। আর সম্পদ সৃষ্টিকারী মেহনতি শ্রমিকশ্রেণির অর্থনৈতিক ও জীবনযাত্রার মান নামতে নামতে তাদের অবস্থান খাদের তলানিতে। এ ব্যবস্থা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এর পরিবর্তনে চাই শ্রমিকশ্রেণির ঐক্যবদ্ধ ধারাবাহিক লড়াই।

নেতারা বলেন, শ্রমিকদের জন্য শ্রম আইনে সুরক্ষা বলতে কিছু নেই। পাটকল, চিনিকলসহ রাষ্ট্রীয় কারখানা বন্ধ করে দিয়ে হাজার হাজার শ্রমিককে পথে বসানো হয়েছে। শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও মর্যাদা পাওয়ার দাবি মালিকরা কখনোই মেনে নেবে না। ফলে মজুরির সঙ্গে আবাসন, রেশন, চিকিৎসা ও শিক্ষার অধিকারের আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। শ্রমিকদের ওপর জুলুম ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে সব ধরনের শোষণের বিরুদ্ধে লড়াই এবং শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে শ্রমজীবী মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে।