ভাঙা হাটেই পসরা

উচ্ছেদ অভিযানের পর ফুলবাড়িয়া ও সুন্দরবন স্কয়ার সুপার মার্কেট

প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০২১

অমিতোষ পাল

ভাঙা হাটেই পসরা

রাজধানীর ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেটে উচ্ছেদ করা দোকানপাটের স্থানে আবারও ব্যবসা শুরু করেছেন পুরোনো দোকান মালিকরা। অল্পস্বল্প পোশাক সামগ্রী নিয়ে প্রতিদিন বসছেন তারা। রোববারের ছবি- প্রতিবেদক

অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেট-২ ও সুন্দরবন স্কয়ার সুপার মার্কেট থেকে সম্প্রতি দেড় হাজারের বেশি নকশাবহির্ভূত দোকান উচ্ছেদ করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। কিন্তু উচ্ছেদ করা দোকানপাটের স্থানে আবারও ব্যবসা শুরু করেছেন পুরোনো দোকান মালিকরা। সিটি করপোরেশনের আনসাররা মাঝেমধ্যে গিয়ে বাগড়া দিচ্ছেন তাদের। তখন মালপত্র সরিয়ে নিচ্ছেন তারা। আনসার সদস্যরা চলে গেলেই ফের বসছেন। তারা বলছেন, এ ছাড়া তাদের কোনো উপায় নেই। কারণ তাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে।

গত রোববার সরেজমিন দেখা যায়, ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেটের চারপাশে দেয়াল ঘেঁষে ভাঙাচোরা ইটপাটকেলের স্তূপ। কোনো রকমে সেসব স্থানেই যার যেখানে দোকান ছিল, সেখানে অল্পস্বল্প পোশাক সামগ্রী নিয়ে প্রতিদিন বসছেন সেই দোকান মালিকরা। রাতের বেলা মালপত্র বিভিন্ন তলায় পরিচিতজনের দোকান বা গোডাউনে রেখে দিচ্ছেন। যদিও বেচাকেনা তেমন জমছে না।

ফুলবাড়িয়া দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুমন দেওয়ান বলেন, এসব ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিকের একটি প্রতিনিধি দল ডিএসসিসির মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের সঙ্গে সম্প্রতি দেখা করেছেন। মেয়র ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিকদের পুনর্বাসনের আশ্বাস দিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা চেয়েছেন মেয়র। শিগগিরই তালিকাটি মেয়রের কাছে উপস্থাপন করা হবে। আপাতত দোকানিরা আগের স্থানেই কোনো রকমে বসছেন। এ ছাড়া তাদের কোনো উপায় নেই।

তিনি বলেন, নকশাবহির্ভূত দোকান উচ্ছেদের পর ভগ্ন আবর্জনা সিটি করপোরেশন অপসারণ করেনি। এতে বৈধ দোকান মালিকদেরও ব্যবসার ক্ষতি হচ্ছে। কারণ বাইরের অবস্থা দেখে অনেকে মার্কেটেই ঢুকছেন না।

ডিএসসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা রাসেল সাবরিন সমকালকে বলেন, জায়গাটি এখন ফাঁকা রয়েছে; আমাদেরও তেমন নজরদারি নেই। এ জন্য তারা বসতে পারছে। কিন্তু মার্কেটে উচ্ছেদ অভিযানের পর যেসব ভাঙচুর করা হয়েছে, শিগগিরই সেগুলোর ফিনিশিং দিতে হবে। ইঞ্জিনিয়ারিং সেকশন থেকে এ কাজ করা হবে। তখন সবকিছু সুন্দর ও গোছালো হবে। তখন আর তারা বসতে পারবে না।

সরেজমিন দেখা যায়, উচ্ছেদ করা দোকানগুলো পুরোপুরি অপসারণ করা হয়নি। অনেক স্থানে রড বেরিয়ে আছে। কোথাও কোথাও দোকানের একপাশ ভালোই আছে। দোকানিরা তার মধ্যেই দোকান বসাচ্ছেন।

আফিফা ফ্যাশনের মালিক জাকির হোসেন সেভাবেই ব্যবসা-বাণিজ্য শুরু করেছেন। তিনি বলেন, এই দোকান পেতে তার অনেক টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু ভেঙে ফেলার ফলে তিনি পথে বসে গেছেন। একই স্থানে আবারও বসা ছাড়া তার কোনো উপায় নেই।

বিসমিল্লাহ গার্মেন্টসের মালিক ওমর ফারুক একইভাবে ভাঙা দোকানে বেচাকেনা শুরু করেছেন। তিনি বলেন, এ দোকান উচ্ছেদের ফলে তার ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। চারজন কর্মচারী ছিল। এখন দু'জনকে দিয়ে দোকান চালাচ্ছেন।

মা গার্মেন্টসের মালিক আজাদ বলেন, সিটি করপোরেশন তাদের পুনর্বাসন না করা পর্যন্ত যেন এখানে বসতে দেয়। এমনিতেই করোনার কারণে তাদের অনেক লোকসান। এর পর দোকানগুলো ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এখন যদি করপোরেশন একটু বসতেও না দেয়, তাহলে তারা না খেয়ে মরবেন।

নিউ ইনসাফ গার্মেন্টসের মালিক হোসেন আহমদ বলেন, ২৩ বছর ধরে তিনি ব্যবসা করছেন। নিয়মিত ভাড়াও পরিশোধ করেছেন। দোকানের নামজারিও করিয়েছেন। ট্রেড লাইসেন্স নিয়েছেন। এতদিন পর সিটি করপোরেশন বলছে, দোকানগুলো অবৈধ। আইনকানুন বুঝলে তাদের এ অবস্থা হতো না।

একই অবস্থা সুন্দরবন স্কয়ার সুপার মার্কেটের ক্ষেত্রেও। এ মার্কেটে নকশাবহির্ভূত সাত শতাধিক দোকান গড়ে উঠেছিল। উচ্ছেদ করা দোকানের স্থানেই পুরোনো দোকানিরা ফের দোকান বসাচ্ছেন।

এ প্রসঙ্গে সুন্দরবন স্কয়ার সুপার মার্কেট দোকান মালিক সমিতির সহসভাপতি তারেক হাসান বলেন, উপায় নেই। করবে কী দোকানিরা? তাদের তো খেয়েপরে বাঁচতে হবে।