খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়

আন্দোলনে সম্পৃক্ততায় ৩ শিক্ষককে অপসারণ

প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২১

খুবি প্রতিনিধি

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) বেতন-ফি কমানোসহ পাঁচ দফা দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সরাসরি সম্পৃক্ততার জেরে তিন শিক্ষককে অপসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গত সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

অপসারণের নোটিশ পাওয়া শিক্ষকরা হলেন- বাংলা ডিসিপ্লিনের সহকারী অধ্যাপক আবুল ফজল, একই ডিসিপ্লিনের প্রভাষক শাকিলা আলম এবং ইতিহাস ও সভ্যতা ডিসিপ্লিনের শিক্ষক হৈমন্তী শুক্লা কাবেরী।

নোটিশে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য, কুৎসা রটানো এবং উস্কানিমূলক কথা প্রচার করেছিলেন ওই শিক্ষকরা। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি জানাতে অন্য শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন তারা। শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামো থাকার পরও তারা নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করেছেন। পরে ওই শিক্ষকরা কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দেন। এরপর অপসারণের কথা জানিয়ে গতকাল তাদের চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হয়। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় কেন অপসারণ করা হবে না, আজ বৃহস্পতিবারের মধ্যে তা জানাতে হবে।

এ বিষয়ে প্রভাষক হৈমন্তী শুক্লা কাবেরী বলেন, নোটিশের উত্তর দেওয়ার জন্য আইনত ১০ দিন সময় পাওয়া উচিত ছিল। এত কম সময়ের মধ্যে এই নোটিশের উত্তর দেওয়া দুরূহ কাজ। সহকারী অধ্যাপক আবুল ফজল বলেন, যেসব সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন, তাদের পরীক্ষা করার সুযোগ আমাকে দেওয়া হয়নি। এমনকি তারা যে সাক্ষী দিয়েছেন, তার কোনো অনুলিপিই আমাকে দেওয়া হয়নি, যা আইনত আমার প্রাপ্য। পরপর দুটি বিশেষ সিন্ডিকেট সভা বসিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা প্রমাণ করে সম্পূর্ণ বিষয়টিই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

গত বছরের জানুয়ারিতে বেতন-ফি কমানো, আবাসন সংকট নিরসনসহ পাঁচ দফা দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ

শিক্ষার্থীদের একাংশ আন্দোলনে নামে। এতে ৬টি ডিসিপ্লিনের ১৩ জনের বেশি শিক্ষক সহমত পোষণ করেন। তাদের মধ্যে চার শিক্ষকের আন্দোলনে সরাসরি সম্পৃক্ততা থাকার অভিযোগে গত ১৩ অক্টোবর ব্যাখ্যা দেওয়ার নোটিশ পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে ইংরেজি ডিসিপ্লিনের প্রভাষক আয়েশা রহমান আশা মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকায় বাকি তিনজনকে তদন্ত কমিটি অপসারণের জন্য চূড়ান্ত কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠায়।

এ বিষয়ে উপাচার্য ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান সমকালকে বলেন, যেহেতু তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ আছে, তাই এ বিষয়ে আমার চূড়ান্ত মন্তব্য করার সময় এখনও আসেনি। তবে ওই সময় তারা শিক্ষার্থীদের ইন্ধন দিয়ে উত্তপ্ত করে রাস্তায় নামিয়েছেন, পেছনে থেকে সহযোগিতা করেছেন। সার্বিক বিষয়ে যদি তারা অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা চান, তবে হয়তো পরবর্তী সিন্ডিকেটে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, এ ছাড়া ওই শিক্ষকরা তদন্ত কমিটিকে অসহযোগিতা ও অপমান করেছেন। কমিটির প্রতি অনাস্থা জানানোর নামে সাম্প্রদায়িকতাকে উস্কে দিয়েছেন, লিঙ্গ বৈষম্য করেছেন, অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রাসঙ্গিকভাবে রাজনৈতিক মতাদর্শ টেনে এনেছেন।