ছাত্রলীগ নেতাকে চাঁদা না দেওয়ায় জেলে শহীদ মুক্তিযোদ্ধার নাতি

প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২১

রাজশাহী ব্যুরো

বিয়ে বিচ্ছেদের পর স্বামী মো. রাসেলের বিরুদ্ধে দেনমোহরের মামলা করেন স্ত্রী। এই মামলা সমঝোতা করে দেওয়ার কথা বলে রাসেলের কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা চাঁদা (ঘুষ) দাবি করেন রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব খান ও পুঠিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম। পুঠিয়া থানায় সমঝোতা বৈঠক বসে সাবেক স্ত্রীকে দুই লাখ টাকা দিয়ে মামলা থেকে নিস্কৃতি পান রাসেল। কিন্তু দাবিকৃত ৬০ হাজার টাকা না দেওয়ায় জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি হাবিবুর রহমান খানের করা এক মামলায় গ্রেপ্তার করে রাসেলকে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। পুঠিয়ার শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা করম আলীর নাতি রাসেল।

মঙ্গলবার দুপুরে পুঠিয়ার পালোপাড়া গ্রামের বাড়িতে যেতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন শহীদ করম আলীর স্ত্রী আম্বিয়া বেওয়া (৭০)। তিনি বলেন, 'একাত্তর সালে আমার স্বামী বীর মুক্তিযোদ্ধা করম আলীকে ধরে নিয়ে যায় পাকিস্তানি আর্মিরা। তার লাশটিও ফেরত দেয়নি। কত কষ্ট করে ছেলেমেয়ে বড় করেছি। আমার নাতি রাসেল। তাকে ষড়যন্ত্র করে জেলে পাঠিয়েছে হাবিব ও জাহাঙ্গীর। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমি এর বিচার চাই।'

রাসেলের মা সানোয়ারা বেগম চানু বলেন, রাসেল তার স্ত্রীকে তালাক দিলে দেনমোহর নিয়ে একটি মামলা হয় ছেলের নামে। বাদীপক্ষ প্রথমে তার ছেলের কাছে সাড়ে তিন লাখ টাকা দাবি করে। কিন্তু এত টাকা দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। পরে ছেলের বন্ধু হিসেবে হাবিব খান ও জাহাঙ্গীর আলম সমঝোতার দায়িত্ব নেন। তারা দুই মাস আগে পুঠিয়া থানায় বৈঠক বসিয়ে বাদীকে দুই লাখ টাকা দেনমোহর দিয়ে মামলা সমঝোতা করে দেন। এ ঘটনার পর হাবিব ও জাহাঙ্গীর সমঝোতা করে দেওয়ার বিনিময়ে তার ছেলে রাসেলের কাছে ৬০ হাজার টাকা উৎকোচ দাবি করেন। স্ত্রীর দেনমোহরের দুই লাখ টাকা পরিশোধ করার পর রাসেলের কাছে কোনো টাকা ছিল না। তাই হাবিব ও জাহাঙ্গীরকে টাকা দিতে পারছিল না। এ কারণে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে তাকে পুলিশে দিয়েছে। তিনি বলেন, আমি হাবিবের পা ধরে কান্নাকাটি করেছি। বলেছি, আমার ছেলে কোনো ভুল করে থাকলে ক্ষমা করো। পুলিশে দিও না। তবুও সে কথা শোনেনি।

অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব খান বলেন, রাসেল আমার ঘরে রাত ২টার সময় ঢুকে বসে ছিল। অন্ধকারে তাকে দেখেই আমি ভয় পেয়ে চিৎকার করি। তখন সে 'চুপ চুপ' বলে আমার গলা ধরতে আসে। এ সময় আমার ভাইয়েরা এসে তাকে মারধর করলে সে বলে মোবাইল ফোন চুরি করতে এসেছিল। কিন্তু আমার টেবিলে ফোন, আংটি রাখা ছিল। সেগুলো নিয়ে পালিয়ে যেতে পারত। সে আসলে আমাকে খুন করতে এসেছিল। রাসেলের কাছে ৬০ হাজার টাকার দাবি মিথ্যা উল্লেখ করে হাবিব খান বলেন, আমি কোনো সমঝোতা করে দেইনি। তার স্ত্রীকেও চিনি না।

পুঠিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, রাসেলের সঙ্গে এক বছর ধরে আমার ওঠাবসা। তার কিছু সমস্যা সমাধান করার জন্যই সে আমার কাছে এসেছিল। তবে হাবিব বলেছে, রাসেল তাকে খুন করতে গিয়েছিল। এটা আমি বিশ্বাস করি না। কারণ রাসেল কারও সঙ্গে মারামারি করার মতো ছেলে না। কিন্তু কী কারণে রাতে তার ঘরে গিয়েছিল, তা আমার জানা নেই। আর ৬০ হাজার টাকা চাঁদা চাওয়ার বিষয়টিও অসত্য।

পুঠিয়া থানার ওসি রেজাউল ইসলাম বলেন, ১৩ জানুয়ারি রাতে জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি থানায় ফোন করে অভিযোগ করেন, তাকে খুন করতে রাসেল নামে এক যুবক তার ঘরে ঢুকেছে। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে আসে। পরে হাবিব এজাহার দিলে রাসেলকে কারাগারে পাঠানো হয়। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।