শব্দদূষণকে বলা হয় নীরব ঘাতক। রাজধানী ঢাকাসহ জেলা শহরগুলোতে শব্দদূষণের বহু উৎস রয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। গাড়ির হর্ন, নির্মাণকাজ, মাইকের ব্যবহার, শিল্পকারখানাসহ কোনো ক্ষেত্রেই শব্দদূষণের নিয়ম-বিধি মানা হচ্ছে না। সচিবালয়ের চারপাশকে নীরব এলাকা ঘোষণার পরও উচ্চ শব্দের পরিমাণ সামান্যও কমেনি। এমন অবস্থায় শব্দদূষণ কমাতে সরকার সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় ৬৪ হাজার শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশার ৯৫ হাজার ২০০ জন ব্যক্তিকে শব্দ সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ দেবে পরিবেশ অধিদপ্তর। প্রশিক্ষণ পাবেন ২০ হাজার পরিবহন চালকও। ৪৭ কোটি ৯৮ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি চলতি বছর থেকে ২০২২ মেয়াদে বাস্তবায়ন হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার পরিবেশ অধিদপ্তর আয়োজিত শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন কর্মশালায় এসব তথ্য জানানো হয়। পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. একেএম রফিক আহাম্মদের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন বলেন, জনগণকে সম্পৃক্ত করে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ করতে এ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে নানা সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে শব্দদূষণের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করা হবে। সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় শব্দদূষণ সহনীয় পর্যায় নেমে আসবে। সংশ্নিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব জিয়াউল হাসান যথানিয়মে প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন।

কর্মশালায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক প্রাণ গোপাল দত্ত বলেন, জনগণকে ব্যাপকভাবে বধির হওয়া থেকে রক্ষায় শব্দদূষণ বন্ধ করতেই হবে। তিনি পঞ্চম, নবম, দশম, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির পাঠ্যক্রমে শব্দদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান।

পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ও প্রকল্প পরিচালক হুমায়ুন কবির বলেন, প্রকল্পের আওতায় পরিবহন শ্রমিক, চালক, শিক্ষার্থী, সরকারি কর্মচারী, কারখানার নির্মাণ শ্রমিক, সাংবাদিক, শিক্ষক, ইমাম, পেশাজীবী ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মোট ৯৫ হাজার ২০০ ব্যক্তিকে শব্দ সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। এ ছাড়া টেলিভিশন চ্যানেল ও বেতারে ধারাবাহিক অনুষ্ঠান, বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া, মোবাইল ফোন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে টিভিসি, এসএমএস ও বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হবে। ১২৮টি বিলবোর্ড ও ৬০টি সাইনবোর্ড স্থাপন, ৭ লাখ লিফলেট, ৭ লাখ স্টিকার, এক হাজার ফোল্ডার এবং এক হাজার প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল বিতরণ করা হবে। সারাদেশে ভ্রাম্যমাণ আদালতের দুই হাজার যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হবে। শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০০৬ সংশোধন করে সময়োপযোগী বিধিমালা প্রণয়ন করা হবে।

প্রকল্প পরিচালক আরও জানান, ৬৪টি জেলায় শব্দের মাত্রা পরিমাপ বিষয়ক জরিপ পরিচালনা এবং তথ্যভান্ডার তৈরি হবে। বিভাগীয় শহর ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে শব্দদূষণের স্বাস্থ্য ঝুঁকির ওপর সমীক্ষা এবং বিধিমালা ও দিবসভিত্তিক ৯টি সভার আয়োজন করা হবে। একটি এলাকায় পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের আওতায় শব্দমাত্রার সার্বক্ষণিক অনলাইন পরিবীক্ষণ এবং রোড সাইড ডিসপেল্গ স্থাপন করা হবে। কমিউনিটি ভিত্তিক সংগঠনকে সম্পৃক্ত করে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের জন্য নির্ধারিত এলাকায় ৯টি ক্যাম্পেইন আয়োজন, ৫১২টি এয়ারমাফ, চার হাজার এয়ারপল্গাগ সংগ্রহ ও বিতরণ এবং তিন বছর আন্তর্জাতিক শব্দ সচেতনতা দিবস উদযাপন করা হবে।

মন্তব্য করুন