চাকরির ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়ে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চক্রের মূলহোতাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত বুধবার রাতে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

গ্রেপ্তাররা হলো দর্পণ গ্রুপ নামের ওই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম সোহাগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক হেনা জহির ও ব্যবস্থাপক মিন্টল রায় ওরফে অপূর্ব রায়। গতকাল বৃহস্পতিবার সিআইডি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ ওমর ফারুক বলেন, প্রতিষ্ঠানটি স্যামসাং গ্রুপের নামে একটি ভুয়া ওয়ার্ক অর্ডার প্রস্তুত করে তাদের অফিসের সামনে ডিজিটাল ব্যানারে 'হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর টার্মিনাল-৩ এ দক্ষ-অদক্ষ লেবার ও সুপারভাইজার নিয়োগ দেওয়া হবে'- এমন একটি বিজ্ঞাপন ঝুলিয়ে রাখে। আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দেখে চাকরিপ্রত্যাশীরা যোগাযোগ করেন। ভুক্তভোগী ১০০ থেকে ১৫০ জন দর্পণ গ্রুপ কোম্পানির অফিসে গিয়ে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর টার্মিনাল-৩ এ যোগদানের বিষয়ে আলাপ করলে প্রতিষ্ঠানটি অপেক্ষা করতে বলে। পরে ভুক্তভোগীরা জানতে পারেন, ওই চাকরি দেওয়ার জন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে কেউ অনুমতি দেয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ভুক্তভোগী চাঁদপুরের সুজন মিয়া। তিনি জানান, বিজ্ঞাপন দেখে দর্পণ নামের ওই অফিসে গেলে জানানো হয়, সুপারভাইজার এক লাখ, অদক্ষ শ্রমিকের ক্ষেত্রে ৫০ হাজার টাকা দিলেই চাকরি হবে। এর দু'দিন পর ভাইভা হয়। ৩০ নভেম্বরের মধ্যে তিনজনকে নিয়োগ দেওয়ার কথা বলে হাতে নিয়োগপত্র ধরিয়ে দিয়ে আড়াই লাখ টাকা নেয় প্রতারকরা। এরপর করোনা টেস্টের কথা বলে নেওয়া হয় আরও পাঁচ হাজার টাকা। সন্দেহ হলে সবাই বিমানবন্দরে যান। খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, এ ধরনের কোনো প্রতিষ্ঠানকে কাজের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

মন্তব্য করুন