নির্বাচনের আর এক সপ্তাহ বাকি। কিন্তু আমাদের এলাকায় (আবদুল করিম রোড) এখনও বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেনের একটি পোস্টারও চোখে পড়েনি। এমনকি দলটির কোনো কাউন্সিলর প্রার্থীর পোস্টার কিংবা ফেস্টুনও লাগানো হয়নি। অথচ ৮ থেকে ১০ দিন আগে থেকেই প্রতিটি পাড়া ছেয়ে গেছে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিমের পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুনে। কী কারণে বিএনপির এ অবস্থা তা বুঝতে পারছি না। যদিও আমাদের এখানকার অধিকাংশ মানুষই বিএনপির সমর্থক।

বলছিলেন নগরীর ১৯ নম্বর বাকলিয়া ওয়ার্ডের আবদুল করিম রোডের সিরাজ ভবনের প্রবীণ নাগরিক সিরাজুল ইসলাম। একই কথা জানালেন খালপাড়ের মা স্টোরের মালিক আবদুর রাজ্জাক। তিনি বললেন, এখানে বহু মানুষ বিএনপির; কিন্তু নির্বাচন এলেও এ নিয়ে তাদের খুব একটা নড়াচড়া চোখে পড়ছে না।

গত বুধবার দুপুরে সরেজমিন বাকলিয়ার ময়দার মিল এলাকা থেকে আবদুল করিম রোডে ঢোকার সময় মোড়ের ওপর দেখা গেল, একাধিক রশিতে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিমের পোস্টারের ছড়াছড়ি। মোড়ে মোড়ে ঝুলছে ব্যানার এবং ফেস্টুনও। কিন্তু বাকলিয়ার ময়দার মিল থেকে এ সড়কের শেষ মাথায় কলামিস্ট ইদ্রিস আলমের বাড়ি পর্যন্ত একটি পোস্টারও চোখে পড়েনি বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেনের। একই অবস্থা দেখা গেছে খালপাড় সড়কের খাতুনগঞ্জ থেকে মিয়াখান নগর পর্যন্ত সড়কে। কোরবানীগঞ্জ সড়কেও দেখা গেছে একই দৃশ্য। খাতুনগঞ্জের সড়কের শেষাংশে, মিয়ার বাপের মসজিদ সড়ক ও সৈয়দ শাহ রোড এলাকায়ও রয়েছে একই চিত্র।

তবে বাকলিয়া থেকে পাশের ওয়ার্ড ২১ নম্বর দেওয়ানবাজারে টেরিবাজার মোড়ে আসতেই চোখে পড়ল বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেনের শত শত পোস্টার ঝুলছে। একইভাবে ১৬ নম্বর চকবাজার ওয়ার্ডের চকবাজার কাঁচাবাজার এলাকায়ও রয়েছে ডা. শাহাদাতের অসংখ্য পোস্টার-ব্যানার।

এদিকে শহরে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে সুপরিচিত বৃহত্তর বাকলিয়ার ১৮ নম্বর পূর্ব বাকলিয়া ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে বিএনপির প্রার্থী না থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী হারুন অর রশিদ। আবার ১৮ ও ১৯ নম্বরে তেমন চোখে না পড়লেও ১৭ নম্বর পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ডে ডা. শাহাদাতের বেশ কিছু পোস্টার ও ফেস্টুন দেখা গেছে- যদিও তা রেজাউলের তুলনায় অনেক গুণ কম।

মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বাকলিয়া অতীতের মতো এখনও বিএনপির শক্ত ঘাঁটি। কিন্তু পুলিশ ও প্রশাসনের ক্রমাগত হয়রানিতে সাধারণ ভোটাররা শঙ্কিত। নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত থাকলেও কৌশলে মাঠে কাজ করতে হচ্ছে। শহরের সবখানেই পোস্টার-ফেস্টুন লাগানো হচ্ছে।

১৯ নম্বর দক্ষিণ বাকলিয়া ওয়ার্ডে বিএনপির প্রার্থী ইয়াসিন চৌধুরী আছুর বলেন, ডা. শাহাদাত হোসেন ও আমার নিজের অনেক পোস্টার লাগানো হয়েছিল। কিন্তু দিনে পোস্টার লাগালে রাতেই তা হাওয়া হয়ে যাচ্ছে। আমার ছেলেকেও পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে।

তবে ১৯ নম্বর দক্ষিণ বাকলিয়া ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নূরুল আলম বলেন, ভোটের আগেই হেরে গেছে বিএনপি। বাকলিয়ায় ব্যাপক উন্নয়ন হওয়ায় মানুষ তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। তাই তাদের এখন পোস্টার লাগানোর মানুষ পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে না। বিএনপিকে হয়রানির অভিযোগ সত্য নয়।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মধ্যে সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ বৃহত্তর বাকলিয়ায় রয়েছে পুরোপুরি তিনটি ওয়ার্ড। এ ছাড়া আরও পাঁচটি ওয়ার্ডের একাংশও পড়েছে বাকলিয়া এলাকায়। বাকলিয়ার প্রায় দেড় থেকে দুই লাখ ভোট সিটি নির্বাচনে মেয়র প্রার্থীর জয়পরাজয় নির্ধারণ করে দেয়। এর মধ্যে ১৭ নম্বর পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ডে ভোটার রয়েছেন ৪৯ হাজার ৮২৫ জন, ১৮ নম্বর পূর্ব বাকলিয়ায় ৩৮২৮৮ জন ও ১৯ নম্বর দক্ষিণ বাকলিয়ায় ৪৫২৮০ জন। এছাড়া ১৬ নম্বর চকবাজার ওয়ার্ডের বড় একটি অংশ, ৬ নম্বর পূর্ব ষোলশহর, ২০ নম্বর দেওয়ান বাজার, ৩৫ নম্বর বক্সিরহাট ও ৩৪ নম্বর পাথরঘাটা ওয়ার্ডের বড় অংশের ভোটার পড়েছেন বৃহত্তর বাকলিয়া এলাকার মধ্যে।







মন্তব্য করুন