নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে নড়াইলের কালিয়া পৌরসভায় প্রচার জমে উঠেছে। মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের সমর্থক নেতাকর্মীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ভোটভিক্ষা ছাড়াও পৌর শহরজুড়ে হোটেল, রেস্তোরাঁ, চায়ের দোকানসহ জনাকীর্ণ এলাকাগুলোতে ভোর থেকে রাত পর্যন্ত চলছে প্রচারসহ নানা হিসাব-নিকাশ। আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবেখ্যাত কালিয়া পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে নিজ দলের বিদ্রোহী প্রার্থীকে। বিএনপির একক প্রার্থী থাকার কারণে তারা নির্বিঘ্নে ও স্বাচ্ছন্দ্যেই প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। জয়ের আশায় সবাই যেন কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন।

তৃতীয় ধাপে অনুষ্ঠিতব্য কালিয়া পৌরসভা নির্বাচনের মেয়র পদে মাঠে নেমেছেন ৩ জন। দ্বিতীয় বারের মতো আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে ওয়াহিদুজ্জামান হীরা, আওয়ামী লীগের

মনোনয়নবঞ্চিত বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান মেয়র ফকির মুশফিকুর রহমান লিটন ও বিএনপির একক প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়াহিদুজ্জামান মিলু। নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে প্রার্থীরা সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রচার চালিয়ে নির্বাচনী মাঠ সরগরম করে তুলেছেন। পোস্টারে ছেয়ে গেছে পৌর শহরের অলিগলি।

দলীয় নেতাকর্মীসহ স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ পৌরসভায় নিজ দলের বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় দ্বিধাবিভক্ত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দুই ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। সেই সুযোগে বিএনপি প্রার্থী স্বাচ্ছন্দ্যেই তার প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। দলীয় ভোটে বিদ্রোহী প্রার্থী ভাগ বসানোর কারণে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে অগ্নিপরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয়েছে। নিজ দলের বিদ্রোহী প্রার্থীই এখন তার গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে তারা মন্তব্য করেছেন।

আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী মো. ওয়াহিদুজ্জামান হীরা অবশ্য ওই ধারণাকে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি তার বিজয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বেশিরভাগ নেতাকর্মী তার জন্য প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। দলের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী তার বিজয়ের জন্য কোনো বাধা নয় বলে তিনি দাবি করেছেন।

বিএনপির মেয়র প্রার্থী শেখ ওয়াহিদুজ্জামান মিলুও তার বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, ৩০ জানুয়ারির নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে তিনি জয়লাভ করবেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী ফকির মুশফিকুর রহমান লিটন তার বিজয় নিশ্চিত বলে দাবি করে বলেছেন, গত বারের মতো এবারও দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেছেন। অতীতের মতো আবারও তিনি বিজয় অর্জন করবেন বলে দাবি করেছেন।

আগামী ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য কালিয়া পৌরসভার নির্বাচনে মেয়র পদে ৩ জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩২ জন ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ৯ জন লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে ১৬ হাজার ৩৮৩ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।









মন্তব্য করুন