চট্টগ্রামে লাকিংমে হত্যা

বিচার দাবিতে প্রদীপ প্রজ্বালন

প্রকাশ: ২২ জানুয়ারি ২০২১

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বিচার দাবিতে প্রদীপ প্রজ্বালন

লাকিংমে চাকমার হত্যাকারীদের বিচার দাবিতে বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের চেরাগী চত্বরে নাগরিক সমাজ, আদিবাসী ফোরাম ও নারী প্রগতি সংঘের নেতাকর্মীদের প্রদীপ প্রজ্বালন সমকাল

চট্টগ্রামে লাকিংমে চাকমার স্মরণে প্রদীপ প্রজ্বালন কর্মসূচি পালন করেছেন নাগরিক সমাজ, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম, চট্টগ্রাম অঞ্চল এবং বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের নেতাকর্মীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার চেরাগী চত্বরের কর্মসূচি থেকে অবিলম্বে লাকিংমের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানান তারা।

বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাশেদ হাসানের সভাপতিত্বে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতা শ্রাবণ চাকমার সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য দেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কেন্দ্র ট্রাস্টের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধ ডা. মাহফুজুর রহমান, নাট্যজন সাংবাদিক প্রদীপ দেওয়ানজী, ওয়ার্কার্স পার্টির চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক শরীফ চৌহান, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শুকলাল দাশ, ন্যাপ নেতা মিটুল দাশগুপ্ত, সংগঠক সুনীল ধর, সাংবাদিক প্রীতম দাশ, সংগঠক শৈবাল পারিয়াল, হাবিবুল হক বিপ্লব, কাবেরী আইচ, বাংলাদেশ মাইনরিটি ওয়াচের সাংগঠনিক সম্পাদক জুয়েল আইচ, পাহাড়ি শ্রমিক কল্যাণ পরিষদের সম্পাদক জগৎ চাকমা প্রমুখ।

রাশেদ হাসান বলেন, যদি দেশের সংবিধান সব জাতিগোষ্ঠীর অধিকার স্বীকার করে, তাহলে কেন কিছু দিন পরপর অধিকারের দাবিতে আদিবাসীদের পথে নামতে হয়। এটি দীর্ঘ চক্রান্ত, নারীর প্রতি অবিচার কোনো

বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। মাহফুজুর রহমান বলেন, আমাদের প্রতি অবিচার হবে আর প্রশাসন এসে তার প্রতিকার করবে, এ ব্যবস্থা পাল্টাতে হবে। নতুন প্রজন্মের উচিত এ জন্য সংগ্রাম করা, যাতে প্রতিকারের জন্য কারও দিকে তাকিয়ে থাকতে না হয়।

কক্সবাজারের টেকনাফের শীলখালী গ্রামের লাকিংমে চাকমাকে গত বছরের ৫ জানুয়ারি বাহারছড়া ইউনিয়নের মাথাভাঙ্গার আতাউল্লাহসহ কয়েকজন অপহরণ করে। ২৭ জানুয়ারি তার বাবা কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অপহরণ মামলা করেন। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইকে আদেশ দেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, লাকিংমে বয়সে শিশু হলেও ইউনিয়ন পরিষদের জন্ম সনদ অনুযায়ী তার বয়স ১৪ বছর। অপহরণের প্রায় এক বছর পর গত ৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় লাকিংমেকে কয়েক যুবক কক্সবাজার সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায়। সেদিন হাসপাতালে নেওয়ার আগেই লাকিংমের মৃত্যু হয়েছিল বলে ডাক্তাররা জানিয়েছেন। পুলিশ লাকিংমের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। মেয়ের অস্বাভাবিক মৃত্যুর খবর পেয়ে লাকিংমের বাবা লালা অং হাসপাতালে এসে মেয়ের মরদেহ পাওয়ার আবেদন করেন। এর পর গত ১৫ ডিসেম্বর লালা অং চাকমা মরদেহ পেতে টেকনাফ বিচারিক হাকিম আদালতে আবেদন করেন। পরে লাকিংমের ধর্ম পরিচয় নিশ্চিত হয়ে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে র‌্যাবকে দায়িত্ব দেন।