ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত যাত্রামোহন সেনগুপ্তের (জেএম সেন) বাড়ি থেকে অবৈধ দখলদারদের বের করে দিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। গতকাল শনিবার বিকেলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (ভূমি) বদিউল আলমের নেতৃত্বে জেলা প্রশাসনের একটি দল নগরের রহমতগঞ্জে বাড়িটিতে গিয়ে তাদের বের করে দেয়। এরপর বাড়িটির সামনে 'স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর নির্মাণের জন্য নির্ধারিত স্থান' লেখা সংবলিত সাইনবোর্ড লাগিয়ে বাড়িটির নিয়ন্ত্রণ নেয় তারা।

এর আগে বিকেলে কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন এবং অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্তের আহ্বানে বাড়িটির সামনে অবস্থান নিয়ে সমাবেশ করেন চট্টগ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। বাড়িটি জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তারা।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (ভূমি) বদিউল আলম বলেন, 'কতিপয় দুস্কৃতকারী অবৈধ অনুপ্রবেশ করে এই ঐতিহাসিক স্থাপনা ভাঙচুর করে। সংবিধানের ২৪ অনুচ্ছেদে ঐতিহাসিক স্থাপনা রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সেই দায়িত্বের অংশ এবং হাইকোর্টের রুলের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসন এই ঐতিহাসিক স্থাপনার রক্ষার জন্য এর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।' জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে বাড়িটিতে সার্বক্ষণিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন থাকবে বলে জানান তিনি।

মানবতাবিরোধী আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত বলেন, 'ঐতিহাসিক ভবনটি দখলদারদের হাত থেকে রক্ষায় আমরা আন্দোলনে নেমেছিলাম। শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এসেছিলেন। তিনি ভবনটি রক্ষার জন্য সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারাও এসে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। আমি নওফেলকে ধন্যবাদ জানাই, তিনি তার কথা রেখেছেন। প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই, কারণ তার দৃষ্টি ছিল বলেই কেন্দ্রীয় নেতারা এখানে এসেছিলেন। জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ সদস্যদের ধন্যবাদ জানাই, তারা বাড়িটি রক্ষার পদক্ষেপ নিয়েছে।'

অবস্থান কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন উদীচী চট্টগ্রামের সভাপতি শহীদজায়া বেগম মুশতারি শফী, নারীনেত্রী নুরজাহান খান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রণজিৎ চৌধুরী, জীনবোধি ভিক্ষু, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এ এইচ এম জিয়াউদ্দিন, গণজাগরণ মঞ্চ চট্টগ্রামের সমন্বয়ক শরীফ চৌহান, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রাশেদ হাসান, চট্টগ্রাম ইতিহাস সংস্কৃতি সংরক্ষণ কেন্দ্রের সভাপতি আলীউর রহমান, জাসদ নেতা ইন্দুনন্দন দত্ত, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের নেতা তাপস হোড়, শ্যামল কুমার পালিত, আওয়ামী লীগ নেতা নঈমউদ্দিন আহমেদ, জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি অ্যানি সেন প্রমুখ।

মন্তব্য করুন