হলমার্কের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) তুষার মাহমুদের সঙ্গে যে নারী কারাগারে গিয়ে 'একান্তে' সময় কাটিয়েছেন পাসপোর্টে তার দেওয়া তথ্য ভুয়া। পাসপোর্টের অস্থায়ী ঠিকানা হিসেবে যা উল্লেখ করা হয়েছে, সেখানে খোঁজ নিয়ে জানা গেল- আসমা শেখ নামে কেউ ওই ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন না।

গত ৬ জানুয়ারি গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার-১-এ একজন কয়েদির সঙ্গে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেছেন আসমা শেখ নামে এক নারী। ওই কয়েদির নাম তুষার আহমেদ। আসমা সম্পর্কে তুষার আহমেদের স্ত্রী। তুষার হলমার্ক কেলেঙ্কারির মূল হোতা তানভীর মাহমুদের ভায়রা।

আসমার পাসপোর্টে অস্থায়ী ঠিকানা হিসেবে দেওয়া আছে-১৪৮, পঞ্চমতলা, মধ্য বাসাবো, শান্তিনগর, সেগুনবাগিচা। তবে ওই ফ্ল্যাটের মালিক ফেরদৌস আক্তার লিজা সমকালকে বলেন, তিন মাস ধরে তার ফ্ল্যাট খালি। এর আগে যারা বাস করতেন তারা স্বামী-স্ত্রী ও তাদের ১৮ মাস বয়সী সন্তান ছিল। আসমা শেখ তার কোনো ভাড়াটিয়া ছিল না।

এছাড়া আসমার পাসপোর্টে যে মোবাইল ফোন নম্বর দেওয়া আছে, সেটা ব্যবহূত হচ্ছে না। এখন প্রশ্ন উঠেছে, কীভাবে আসলে ভুল তথ্য দিয়ে পাসপোর্ট পেলেন?

এদিকে কারাগারে কয়েদির নারীসঙ্গের ঘটনায় তদন্ত কমিটি আজ তাদের প্রতিবেদন দাখিল করার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে সংশ্নিষ্টদের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে।

একটি সূত্র বলছে, কাশিমপুর-১ কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার রত্না রায়ের সঙ্গে ৫ জানুয়ারি কথা বলেই পরদিন স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে কারাগারে যান আসমা। স্বামীর সঙ্গে দেখার করার নামে তিনি দীর্ঘ সময় একান্তে সময় কাটান। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর রত্নাসহ আরও অন্তত দু'জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সাংবাদিকদের এ ব্যাপারে বলেন, কারাগারের ঘটনায় যারা ধরা পড়ছে, তাদের জেল পর্যন্ত খাটতে হচ্ছে। এ ঘটনায়ও জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

৬ জানুয়ারি দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আসমা নামের ওই নারী কারাগারের ভেতর ঢোকেন। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বেরিয়ে যান। সিসি ক্যামেরায় পুরো সময়টা ধরা পড়েনি। এর মধ্যে রহস্য লুকিয়ে রয়েছে। একটি অ্যাম্বুলেন্সে চড়ে তিনি কারাফটকে আসার পর ডেপুটি জেলার গোলাম সাকলাইন ও সিনিয়র জেল সুপার রত্না রায় ওই নারীকে অন্য কর্মচারীদের সামনেই গ্রহণ করেন। এর জন্য মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেন হয়েছে বলেও সূত্রটি জানিয়েছে। তুষার আহমেদের সঙ্গে ওই নারী অন্তরঙ্গ মুহূর্ত ছাড়াও নানা ভঙ্গিতে বেশ কিছু সময় কাটান কারা ফটকের ভেতরে। এ ঘটনা ফাঁস হওয়ার পরপরই কারা কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। এছাড়া জেলা প্রশাসক এসএম তরিকুল ইসলাম অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবুল কালামকে প্রধান করে পৃথক একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। এরই মধ্যে সেই ডেপুটি জেলার গোলাম সাকলাইন ও সার্জেন্ট প্রশিক্ষক আবদুল বারীসহ তিনজনকে প্রত্যাহার করে নিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।

মন্তব্য করুন