করোনা মহামারির বড় অভিঘাত পড়েছে রাজধানীর বাইরের জেলা শহরগুলোতে থাকা বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে। এরই মধ্যে কিশোরগঞ্জে অনেক বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার লোকসানের মুখে বন্ধ হওয়ার উপক্রম। এতে করে এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত দেড় হাজারেরও বেশি মানুষ বেকার হয়ে যাবে।

জেলা সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার ১৩টি উপজেলায় পাঁচ শতাধিক বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। গত বছরের মার্চে দেশে করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরু হলে বেসরকারি হাসপাতালগুলোয় রোগী ভর্তি কমে যায়। এ অবস্থা চলছে এখন পর্যন্ত। প্রতি মাসে কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দিতে গিয়ে জমানো টাকাও প্রায় শেষ। এ অবস্থায় কেউ কেউ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার কথা ভাবছেন।

কিশোরগঞ্জ জেলা বিএমএর সাধারণ সম্পাদক ডা. আবদুল ওয়াহাব বাদল বলেন, গত এক বছরে শহরের বড় বড় বেসরকারি হাসপাতালসহ উপজেলা পর্যায়ে গড়ে ওঠা ক্লিনিক ক্রমাগত লোকসান দিতে দিতে এখন বন্ধ হওয়ার পথে। এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামী দুই মাসের মধ্যে শতাধিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে। ইতোমধ্যে জেলায় ৩০-৩৫টি প্যাথলজি ক্লিনিক বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, সরকারের একার পক্ষে সব পর্যায়ের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাই বেসরকারি খাতকেও বাঁচিয়ে রাখতে হবে। তিনি এ অবস্থা উত্তরণের জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সততার সঙ্গে চেম্বারে রোগী দেখার অনুরোধ করেন এবং প্যাথলজি পরীক্ষা কম দেওয়ার জন্য আহ্বান জানান। তাতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত রোগীরা বেসরকারি চিকিৎসাসেবা নিতে উৎসাহিত হবেন।

সিটি ল্যাব হেলথ কেয়ারের পরিচালক (প্রশাসন) সাদেকুর রহমান বলেন, করোনার পর থেকে রোগী কমে যাওয়ায় তারা হাসপাতালের ভবন ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ঋণ করে পরিশোধ করেছেন। এভাবে আর দুই মাস চললে লোকসানের মুখে তারা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেবেন।

হেলথ এইড হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামছুজ্জামান ভূঁইয়া লিটু বলেন, করোনার সময় থেকেই ব্যবসার অবস্থা খারাপ। ২৫ লাখ টাকা বাড়ি ভাড়া বকেয়া পড়েছে। ২০ কর্মচারী ছাঁটাই করেও টিকতে পারছি না। মালিক ভাড়া চাইলে কালকেই প্রতিষ্ঠানের দরজা বন্ধ করে দিতে হবে। ডিজি ল্যাবের ম্যানেজার আনোয়ার হোসেন বাচ্চু বলেন, ঋণ-ধার করে প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখা হয়েছে। অন্তত কিছু মানুষ তো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বেঁচে আছে। মেডি ল্যাবের পরিচালক ডা. আবু তাহের মিঞা বলেন, সবাই হতাশায় রয়েছেন। এ থেকে উত্তরণের পথ খোঁজা হচ্ছে।

সিভিল সার্জন ডা. মজিবুর রহমান বলেন, মানুষের সার্বিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক অতি জরুরি হয়ে পড়েছে। করোনা ও শীতের কারণে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রোগী যেমন আসছে না, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাও করোনার কারণে বসছেন না। আমাদের সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে জানতে হবে, রোগীদের

জানাতে হবে এবং চিকিৎসকদের রোগীর কাছে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। এ বিষয়গুলো সবার মধ্যে নিশ্চিত করতে পারলে সমস্যার সমাধান হতে পারে।

মন্তব্য করুন