চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে নগরে রয়েছে ৭২৩টি ভোটকেন্দ্র। এর মধ্যে সংঘাত-সংঘর্ষের আশঙ্কা মাথায় রেখে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ৪১০টি ভোটকেন্দ্রকে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। তিনটি হত্যাকাণ্ড ও কয়েকটি সহিংস ঘটনার জের ধরে এসব কেন্দ্রকে ঘিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে তারা। কেন্দ্রগুলোর চারপাশে চার স্তরের নিরাপত্তাবলয় তৈরি করা হচ্ছে। এ ছাড়া পুরো নগরীকে ঘিরে নিরাপত্তার ছক এঁকেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বহিরাগত ঠেকাতে নাগরিক তথ্য ফরম হালনাগাদের কাজ চলছে। পাশাপাশি প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা ও আবাসিক হোটেলগুলোতে চলছে বিশেষ অভিযান। চলছে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযানও। নির্বাচনী ডামাডোল সামাল দিতে চট্টগ্রামের বাইরে পুলিশের ৩৫টি ইউনিট থেকে প্রায় সাড়ে তিন হাজার বাড়তি ফোর্স নিয়ে আসা হচ্ছে। সব মিলিয়ে ২৭ জানুয়ারির সিটি নির্বাচনকে ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে সিএমপি।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সিএমপি কমিশনার সালেহ্‌ মোহাম্মদ তানভীর সমকালকে বলেন, 'উৎসবমুখর ও নিরাপদ পরিবেশে নগরবাসীর ভোটদান নিশ্চিতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে পুলিশি কর্মকাণ্ডের ব্যাপ্তি। যেসব কর্মকাণ্ড নির্বাচনকে সহিংস করতে পারে, সেগুলো প্রতিরোধ করার জন্য আগাম পদক্ষেপ নিয়েছি। এরপরও আমরা কড়া বার্তা দিতে চাই, নির্বাচনে সহিংসতা করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।'

পুলিশ সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নগর ও জেলা মিলে ৭৩৫টি কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে হাটহাজারী উপজেলায় ১২টি কেন্দ্র রয়েছে। নগরে থাকা ৭২৩ কেন্দ্রের মধ্যে ৪১০টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনায় নিয়েছে পুলিশ। এসব কেন্দ্রে প্রথম স্তরে অস্ত্রধারীসহ ছয়জন করে পুলিশ সদস্য ও ১২ জন করে আনসার সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। দ্বিতীয় স্তরের টহল পুলিশের সদস্যরা এসব কেন্দ্র ঘিরে পাহারায় থাকবেন। তৃতীয় স্তরে সাদা পোশাকের পুলিশ ও নগর গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা তৎপর থাকবেন। চতুর্থ স্তরে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে নগর পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট, বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, কাউন্টার টেররিজম ও সোয়াট সদস্যরা ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রস্তুত থাকবেন। এর বাইরে সাধারণ কেন্দ্রগুলোতে চারজন পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি ১২ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।

কেন্দ্রের ভৌগোলিক অবস্থান, অতীতের সংঘাতের ইতিহাস ও সর্বশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় ৪১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৫টি ওয়ার্ডকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে বহিরাগত ঠেকাতে নাগরিক তথ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি (সিআইএমএস) হালনাগাদ করছে পুলিশ। পাশাপাশি এলাকাভিত্তিক ব্লক রেইড ও আবাসিক হোটেলগুলোতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

নগর পুলিশ কমিশনার সালেহ্‌ মোহাম্মদ তানভীর বলেন, 'বহিরাগত অস্ত্রধারীরা এসে যাতে নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বানচালের চেষ্টা করতে না পারে সেজন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নগরের প্রবেশমুখে চেকপোস্ট বসিয়েছি। আবাসিক হোটেলগুলোতে বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। অপরাধ করার উদ্দেশ্য নিয়ে বহিরাগত কেউ এসে চট্টগ্রামে অবস্থান করলে কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হবে।'

পিুরো সিটি করপোরেশন এলাকায় নির্বাচনকে ঘিরে ৯ হাজার পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে ভোটকেন্দ্রভিত্তিক ও টহল টিম মিলিয়ে ছয় হাজার ৭৭৩ জন সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। পাশাপাশি যে কোনো জরুরি মুহূর্তে দায়িত্ব পালন করতে আরও আড়াই হাজার সদস্য রিজার্ভ থাকবেন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম নগর পুলিশে সাত হাজার সদস্য রয়েছেন। সারাদেশের ৩২টি ইউনিট থেকে তিন হাজার ২৪২ জন পুলিশ সদস্যকে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের জন্য আনা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন