নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর রাজনৈতিক দর্শন ছিল গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও জাতীয়তাবাদ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও একই দর্শনে বিশ্বাস করতেন, যা প্রতিফলিত হয়েছে দুই ভ্রাতৃপ্রতিম রাষ্ট্রের সংবিধানে। বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি তার ঐতিহাসিক ভাষণে বলেছেন, দুই দেশের নীতি ও আদর্শের এই মিল হচ্ছে বিশ্বশান্তির জন্য।

গতকাল শনিবার 'নেতাজি ও বঙ্গবন্ধু :ভারতবর্ষের ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ' শীর্ষক আন্তর্জাতিক ওয়েবিনারে বিশিষ্টজন এসব কথা বলেন। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ১২৫তম জন্মদিন এবং বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি এর আয়োজন করে।

এতে বক্তারা বলেন, নেতাজি ও বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শন যুদ্ধ-সন্ত্রাসকবলিত বর্তমান বিশ্বে বহু সমস্যার সমাধান করতে পারে। ভারত ও বাংলাদেশের পাঠ্যপুস্তকে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ও দর্শন তুলে ধরতে হবে, যাতে নতুন প্রজন্ম এ দুই মহান নেতার স্বপ্ন, নেতৃত্ব ও আত্মত্যাগ সম্পর্কে জেনে আলোকিত হতে পারে।

নির্মূল কমিটির সভাপতি সাংবাদিক শাহরিয়ার কবিরের সভাপতিত্বে ওয়েবিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. দীপু মনি এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে ভারতের রাষ্ট্রদূত বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী।

আলোচনায় ভারত ও বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবী ও গবেষকদের মধ্যে বক্তব্য দেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর শৈশবের বন্ধু অধ্যাপক ক্ষেত্রেশ চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পুত্র অধ্যাপক মহেশচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, মুখার্জি তদন্ত কমিশনের অন্যতম সাক্ষী ও কলকাতা প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নন্দলাল চক্রবর্তী, নেতাজির আজাদ হিন্দ ফৌজের গবেষক ও কলকাতার শ্রী শিক্ষায়তন কলেজের ইতিহাস বিভাগের সাবেক অধ্যাপক মৈত্রেয়ী সেনগুপ্ত, নির্মূল কমিটির সহসভাপতি ও নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর আজাদ হিন্দ ফৌজের অন্যতম অধিনায়ক লোকমান খান শেরওয়ানীর পৌত্রী শিক্ষাবিদ মমতাজ লতিফ, নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ সেলিম ও নির্মূল কমিটি যশোর শাখার সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সাজেদ রহমান।

সভাপতির বক্তৃতায় নেতাজি সুভাষচন্দ্র ও বঙ্গবন্ধুর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে শাহরিয়ার কবির বলেন, ভারতের ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামীদের অতুলনীয় বীরত্ব ও আত্মত্যাগ একাত্তরের বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। বাংলাদেশের জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান তার অসমাপ্ত আত্মজীবনী, অন্যান্য রচনা ও ভাষণে উল্লেখ করেছেন- কীভাবে অখণ্ড ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামের মহান নেতা নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু এবং সূর্য সেন, প্রীতিলতা, বাঘা যতীন প্রমুখ অগ্নিযুগের বিপ্লবী তাকে অনুপ্রাণিত করেছিলেন।

শিক্ষামন্ত্রী ড. দীপু মনি বলেন, উপমহাদেশে মানবমুক্তির জন্য যে মহান মানুষরা সংগ্রাম করেছেন তাদের মধ্যে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম সর্বাগ্রে আসে। নেতাজি ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণের কবল থেকে ভারতবর্ষের মানুষকে মুক্ত করার জন্য সশন্ত্র বিপ্লবের পথ বেছে নিয়েছিলেন। একইভাবে বঙ্গবন্ধুও বেনিয়া এবং হানাদার পাকিস্তানি শাসকদের কবল থেকে বাঙালি জাতিকে মুক্ত করার জন্য সশস্ত্র জনযুদ্ধের ডাক দিয়েছিলেন।

ভারতীয় হাইকমিশনার দোরাইস্বামী বলেন, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অনস্বীকার্য ক্যারিশমা, তাদের ব্যক্তিত্বের দৃঢ়তা যুগ যুগ ধরে ভারতীয় ও বাংলাদেশিদের অনুপ্রাণিত করে চলেছে। আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠন করার ক্ষেত্রে নেতাজির বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

মন্তব্য করুন