ময়মনসিংহের গৌরীপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী দুই প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। নৌকার বিজয় নিশ্চিত করার জন্য শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন দুই প্রার্থী। তারা হলেন আব্দুল কাদির ও তাহরিমা আক্তার চুমকি। তবে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীর বিজয়ে এখনও বাধা হয়ে আছেন আরও দুই বিদ্রোহী প্রার্থী।

পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই আলোচনায় চলে আসে গৌরীপুর। সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান শুভ্র হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আলোচনায় আসে। প্রচার শেষে আড্ডা দেওয়ার সময় গত ১৭ অক্টোবর রাতে কুপিয়ে হত্যা করা হয় শুভ্রকে। এ পৌরসভায় বর্তমান মেয়র পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি সৈয়দ রফিকুল ইসলাম হত্যা  মামলার আসামি হন। আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পান সাবেক মেয়র মো. শফিকুল ইসলাম হবি। নিজের অস্তিত্ব টেকাতে আর মিথ্যা হত্যা মামলায় নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই তার প্রমাণ দিতে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান মেয়র সৈয়দ রফিকুল ইসলাম। বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রাক্তন সদস্য আবু কাউছার চৌধুরী রন্টি। এ ছাড়াও বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন বর্তমান কাউন্সিল মো. আবদুল কাদির। আরও হয়েছিলেন নিহত মাসুদুর রহমান শুভ্রর স্ত্রী তাহরিমা আক্তার চুমকি। গৌরীপুর পৌরসভার ইতিহাসে তিনিই প্রথম নারী প্রার্থী ছিলেন। এছাড়া বিএনপি থেকে বর্তমান কাউন্সিলর আতাউর রহমান আতা দলীয় প্রতীক নিয়ে এবং ন্যাপ (মোজাফফর) মনোনীত আবু সাঈদ মো. ফারুকুজ্জামান মেয়র হতে রয়েছেন মাঠে।

নিহত মাসুদুর রহমান শুভ্রর স্ত্রী তাহরিমা আক্তার চুমকি বলেন, স্বামী সারাজীবন আওয়ামী লীগের করে গেছেন। আওয়ামী লীগের নৌকার জয়ের জন্য নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছি। তার স্বামী হত্যার বিচার যেন সরকার দৃষ্টান্তমূলকভাবে করে সে জন্য তার সরে দাঁড়ানো।

আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম হবি বলেন, দুই বিদ্রোহী প্রার্থী তাকে সমর্থন দিয়ে সরে দাঁড়িয়েছেন। আরও একজন সরে দাঁড়াতে পারেন। সবার দোয়া ও ভোটারদের ভোটে তার জয় নিশ্চিত।

মন্তব্য করুন