পারভীন আক্তার। দুই বছর আগেও যার নুন আনতে পান্তা ফুরোতো, এখন তিনি কাঁড়ি কাঁড়ি টাকাসহ অঢেল সম্পদের মালিক। চট্টগ্রাম নগরী ও পটিয়ায় কিনেছেন বিপুল জায়গা-জমি। বিধবা পারভীনের দৃশ্যমান কোনো আয়ের উৎস না থাকলেও তার একটি ব্যাংক হিসাবে পাওয়া গেছে প্রায় দুই কোটি টাকা। শহরে নামে-বেনামে অনেকের সঙ্গে ব্যবসায়িক অংশীদার তিনি। মাদক মামলায় চারবার জেল খেটেছেন। ধরা পড়ার পর প্রতিবারই তার কাছ থেকে ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এবার পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তার বিপুল সম্পদের খোঁজে মাঠে নেমেছে।

সিআইডির উপপরিদর্শক রায়হানুল ইসলাম সৈকত বলেন, ২০২০ সালের ১৭ জুন পারভীনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে একটি মামলা হয়েছে। সে মামলার তদন্ত চলছে। তবে পারভীনের বিরুদ্ধে ব্যাংকে কোটি টাকা, জমি কেনার সব তথ্যই সিআইডির হাতে রয়েছে। তার অর্জিত বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের হদিস পেতে তদন্ত শুরু হয়েছে। ইকোনমিক ক্রাইম স্কোয়াড অর্গানাইজড ক্রাইম, সিআইডি ঢাকার পরিদর্শক মো. মনিরুজ্জামান বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

পারভীন আক্তার থাকেন চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়ার তক্তারপুল এলাকার আব্দুল করিম রোডের একটি বাসায়। যদিও সেখানে গিয়ে তার খোঁজ পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে। সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, নগরীর খাতুনগঞ্জ শাখায় সিটি ব্যাংকের একটি হিসাবে পারভীনের নামে এক কোটি ৯৪ লাখ ৬০ হাজার টাকার হদিস পাওয়া গেছে। ২০১৮ সালের ১৫ জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ৩০ জুলাই পর্যন্ত সময়ে এ অর্থ লেনদেন হয়। সুনির্দিষ্ট পেশা ও উৎস না থাকার পরও বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন হওয়ায় তা অবৈধ মনে করছে সিআইডি। একই হিসাব থেকে অর্থ স্থানান্তর করে জমি কেনার খোঁজও মিলেছে। একই সঙ্গে নামে-বেনামে বিভিন্ন সংস্থায় বিনিয়োগ করার তথ্যও উঠে এসেছে। নগরীর সদরঘাটের গাউছিয়া মার্কেটের ১২/বির 'মাসুদ বিয়ারিং হাউজ' নামে একটি প্রতিষ্ঠানে ২০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন তিনি। ২০১৮ সালে তিনি নগরীর বাকলিয়া ও পটিয়া উপজেলায় তিন দফায় জমি কিনেছেন। এর মধ্যে ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর বাকলিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের জেএল নম্বর ১৫, আরএস খতিয়ান নম্বর ৩৫০২/২৮৬৮, বিএস খতিয়ান নম্বর ৫৯৬, বিএস নামজারি ৫৯৬/১ খতিয়ানের ১২ গণ্ডা জমি কেনেন। একই তারিখে জেএল নম্বর ১৫, আরএস খতিয়ান নম্বর ৯৫০৩/২৮৬৮, বিএস খতিয়ান নম্বর ৯৩০৩ ও ৫৯৬/১, দাতাদের নামজারি ১৪৮০৭ নম্বর খতিয়ানের ১৪ গণ্ডা জমি কেনেন। পটিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের জেএল নম্বর ১৭, আরএস খতিয়ান নম্বর ১১৩৩, বিএস খতিয়ান নম্বর ১১০৭, বিএস নামজারি ২২০০ খতিয়ানের ২০ গণ্ডা জমি কেনেন। জায়গা কেনা বাবদ ২০১৮ সালের ২৫ এপ্রিল, ২০১৮ সালের ১৪ জানুয়ারি ও ১১ জানুয়ারি এক কোটি ২৫ লাখ ৩৮ হাজার ৪০০ টাকা পারভীন তার ব্যাংক হিসাব থেকে জমি ক্রয় বাবদ পরিশোধ করেন।

পাঁচ মামলা, প্রতিবারই উচ্চ আদালত থেকে জামিন :পাঁচ মামলার আসামি পারভীন আক্তার। এর চারটিই মাদক আইনে, একটি মানি লন্ডারিং আইনে। এসব মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, প্রতি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে চট্টগ্রাম কারাগারে যাওয়ার পর পারভীন উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে কারামুক্ত হয়েছেন।

পারভীনের আছে দুই সহযোগী :পারভীনের নানা অপকর্মের সঙ্গী পটিয়ার পশ্চিম বাড়ৈ ভাড়ার আবদুল গনির ছেলে মো. এরশাদ। তিনি নগরীর আন্দরকিল্লার ফুলকলি মিষ্টির শোরুমের ম্যানেজার। এ চাকরির আড়ালে তিনি অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত। তার অপর সহযোগী আনোয়ারার কৈনপুরার মৃত আবদুল আজিজের ছেলে মো. জাহাঙ্গীর। পারভীনের অপকর্মের সঙ্গী হিসেবে তাদের নামেও মানি লন্ডারিং আইনে মামলা হয়েছে।

মন্তব্য করুন