নীলফামারীর জলঢাকা পৌরসভাজুড়ে এখন নির্বাচনী আমেজ। সেই সঙ্গে উৎকণ্ঠাও রয়েছে সাধারণ ভোটার ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে সভা-সমাবেশ। শুভেচ্ছা বিনিময় আর ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে চলছে ভোট প্রার্থনা। ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে প্রার্থীদের অফিস, পাড়া-মহল্লা চায়ের দোকানসহ সর্বত্র এখন শুধুই নির্বাচনী আলোচনা। শহরের অলিগলি-মোড় ছেয়ে গেছে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের পোস্টারে। প্রচার, মাইকিং ও নির্বাচনী পথসভায় মুখর এখন পুরো পৌরসভা।

১১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ পেয়ে জোরেশোরে মাঠে নেমেছেন মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। তাদের সঙ্গে সমানতালে প্রচার চালাচ্ছেন সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্যরা।

জলঢাকা পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ ছয় প্রার্থী মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ৯টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ৪২ জন ও সংরক্ষিত আসনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৯ নারী সদস্য। মেয়র পদে নৌকা প্রতীক নিয়ে মাঠে রয়েছেন উপজেলা আইনবিষয়ক সম্পাদক মো. মোহসীন, বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে লড়ছেন বর্তমান মেয়র ফাহমিদ ফয়সাল চৌধুরী কমেট। সচেতন নাগরিক সমাজ নামে সংগঠনের সমর্থন নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচন করছেন নারিকেল গাছ প্রতীক নিয়ে সাবেক মেয়র ইলিয়াস হোসেন বাবলু। অন্যদিকে, স্বতন্ত্র প্রার্থী জিয়াউর রহমান জিয়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জগ প্রতীক নিয়ে। এ ছাড়া মেয়র পদে সরাসরি দু'জন নারী সদস্য প্রার্থী হয়েছেন। তারা হলেন- জাতীয় পার্টি থেকে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে আফরোজা পারভীন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মোবাইল ফোন প্রতীক নিয়ে সাবিনা ইয়াছমিন।

নির্বাচন উৎসবমুখর হলেও উৎকণ্ঠা কম নয় সাধারণ ভোটারদের মাঝে। পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্রই ফুটে উঠেছে।

মাঝেমধ্যে নির্বাচনকে ঘিরে উত্তেজনারও খবর পাওয়া যাচ্ছে। এ যাবৎ বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটলেও মেয়র প্রার্থীরা একে অপরকে দোষারোপ করে যাচ্ছেন।

বিএনপি প্রার্থী ফাহমিদ ফয়সাল চৌধুরী কমেট বলেন, আমার নির্বাচনী প্রচারে বাধা সৃষ্টি করছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা।

অন্যদিকে, নারিকেল গাছ নিয়ে নাগরিক সমাজের প্রার্থী সাবেক মেয়র ইলিয়াস হোসেন বাবলু বলেন, ধানের শীষ ও নৌকার সমর্থকরা এক হয়ে আমার নির্বাচনী কাজে বাধার সৃষ্টি করছেন। তিনি আরও বলেন, যতই ষড়যন্ত্র করা হোক, জনগণ ও সাধারণ ভোটাররা আমার পাশে আছে। ব্যালটের মাধ্যমে তারা এর জবাব দেবেন।

আওয়ামী লীগ প্রার্থী মো. মোহসীন জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। তিনি বলেন, দুর্নীতিমুক্ত পৌরসভা গড়তে নৌকার বিকল্প নেই। তবে সাধারণ ভোটাররা মনে করছেন, মূলত ধানের শীষ প্রতীকের সঙ্গে সচেতন নাগরিক সমাজের প্রার্থীর নারিকেল গাছ প্রতীকের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।

এ বিষয়ে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার জলঢাকা পৌরসভা ফজলুল করিম বলেন, পৌর নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও প্রভাবমুক্ত করতে ভোটের দিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি প্রতিটি কেন্দ্রে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন করা হবে।

আগামী ৩০ জানুয়ারি তৃতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত হবে জলঢাকা পৌরসভা সাধারণ নির্বাচন। এ পৌরসভায় ৯টি ওয়ার্ড ও তিনটি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ৩৩ হাজার ৬৩৪ জন।

মন্তব্য করুন