সাবেক রাষ্ট্রপতি, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এবং দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আজ রোববার। দিনটি উপলক্ষে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ছাড়াও সারাদেশে জেলা, মহানগর বিএনপির উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষে অন্যান্য বছর খালেদা জিয়া মরহুমের কবর জিয়ারত, ফাতেহা পাঠসহ তার বাসভবন ও রাজনৈতিক কার্যালয়ে কোরআন তেলাওয়াত, দোয়া-মিলাদের আয়োজন করতেন। ২০১৮ সালে কারাগারে যাওয়ার পর থেকে তিনি এসব কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে পারেননি। এ বছর তিনি তার নিজ বাসভবনে চিকিৎসাধীন থাকায় এবারও তা করতে পারছেন না। তবে দলের উদ্যোগে নানান কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সকাল সাড়ে ১০টায় দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের সিনিয়র নেতারা বনানী কবরস্থানে আরাফাত রহমানের কবর জিয়ারত, পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও মোনাজাতে অংশ নেবেন। একই সময় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

এ ছাড়া বিকেল সোয়া ৪টায় গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আরাফাত রহমান কোকোর রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া-মিলাদ হবে। দিবসটি উপলক্ষে দলের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন, সামাজিক ও ক্রীড়া সংগঠন আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠান করবে।

সকাল সাড়ে ৯টায় স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে বনানীতে মরহুমের কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। একই সংগঠনের ব্যানারে বেলা ২টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মিলাদের আয়োজন করা হয়েছে। দুপুর সাড়ে ১২টায় পল্লবী ও রূপনগরের মাদ্রাসা, এতিমখানায় খাবার বিতরণ করা হবে। আগামী মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সারাদেশে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতাকর্মী, শুভ্যানুধায়ীদের এসব আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

আরাফাত রহমান কোকো ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি মালায়া হাসপাতালে নেওয়ার পথে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেন। ২৭ জানুয়ারি তার মরদেহ মালয়েশিয়া থেকে দেশে আনার পর ওই দিনই বানানীর কবরস্থানে দাফন করা হয়।

বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ঢাকা সেনানিবাসের মইনুল রোডের বাসা থেকে খালেদা জিয়ার সঙ্গে গ্রেপ্তার হন কোকো। ২০০৮ সালের ১৭ জুলাই জামিনে মুক্তি পেয়ে তিনি চিকিৎসার উদ্দেশ্যে থাইল্যান্ড যান। সেখান থেকে তিনি মালয়েশিয়া চলে যান এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করছিলেন।

মন্তব্য করুন