ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থীর সঙ্গে লড়াই জমে উঠেছে বিদ্রোহী প্রার্থীর। শোডাউন ও প্রচারে সর্বত্র আলোচনা দুই প্রার্থীকে ঘিরে। হামলা ও অফিস ভাঙচুরের মতো ঘটনাও ঘটেছে। এতে ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে নির্বাচনী পরিবেশ। অপেক্ষাকৃত কম আলোচনায় বিএনপি ও ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের প্রার্থী।

নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে ঈশ্বরগঞ্জ পৌর এলাকায় উৎকণ্ঠা বাড়ছে তত। এ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী মো. হাবিবুর রহমান হাবিব। তিনি পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি। ১৯৯৭ সালে পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পর থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত প্রথমে প্রশাসক, পরে চেয়ারম্যান ও পরে মেয়র পদে দায়িত্বপালন করেন তিনি। দীর্ঘদিন পৌরসভার দায়িত্বে থাকায় প্রত্যন্ত অঞ্চলের পৌরসভার উন্নয়নে কাজ করেছেন। কিন্তু ২০১৫ সালের পৌর নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস ছাত্তারের কাছে প্রায় সাড়ে তিনশ ভোটে পরাজিত হন। সেবার আওয়ামী লীগের একটি অংশ সক্রিয়ভাবে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে মাঠে কাজ করায় পরাজিত হয়েছিলেন তিনি।

এবারের নির্বাচনেও আবদুস ছাত্তার প্রার্থী হয়েছেন। আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন চেয়ে ব্যর্থ হলেও বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে রয়েছেন নির্বাচনী মাঠে। গত পাঁচ বছর পৌর এলাকায় রাস্তা, ড্রেন, সুপেয় পানিসহ নানাধর্মী উন্নয়ন কাজ করে সমাদৃত বর্তমান মেয়র। এবারের পৌরসভা নির্বাচন গতবারের মতো এ দুই প্রার্থীর মধ্যেই তুমুল লড়াই হবে এমনটি জানা গেছে স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে। তবে এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় ও বিদ্রোহী প্রার্থী শক্তিশালী হওয়ায় নির্বাচন হবে হাড্ডাহাড্ডি দাবি ভোটারদের।

আওয়ামী লীগ ও বিদ্রোহী প্রার্থী ছাড়াও বিএনপির দলীয় প্রার্থী শরীফ মোহাম্মদ জুলফিকার আলী টিপু ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে প্রার্থী হয়েছেন মো. সফিকুল রহমান রফিক। এ দুই প্রার্থীই নির্বাচনে প্রথম নেমেছেন। তবে তাদের আলোচনা ভোটারদের মাঝে খুব নগণ্য।

তবে প্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগ ও বিদ্রোহী প্রার্থীর কর্মীসমর্থকদের মধ্যে এক ধরনের যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। পাড়ায়-মহল্লায় চলছে নিজের প্রার্থীর সমর্থনে কর্মীদের কর্মকাণ্ড। তবে দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে বিশৃঙ্খলাও শুরু হয়েছে। বিদ্রোহী প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচার ক্যাম্পে হামলা, কর্মীদের মারধর ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তারা। নির্বাচনী আচরণবিধি ও পরিবেশ ঠিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযানও চলছে।

আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আবদুস ছাত্তার বলেন, পুরো পৌর এলাকায় উন্নয়ন কাজ চলমান। রেকর্ড পরিমাণ উন্নয়ন করেছেন পৌর নাগরিকদের জন্য। অসম্পন্ন উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করার জন্য জনতার রায় তার পক্ষেই যাবে এমনটি আশা।

আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাবিবুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন পৌরসভার নির্বাচিত প্রতিনিধি থাকায় ব্যাপক কাজ করেছেন। জনগণের কাছে ভোট চাইছি। জনতার রায় এবার তার পক্ষেই যাবে। তবে আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মী বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন। বিষয়টি জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতারা অবগত রয়েছেন।

বিএনপি দলীয় প্রার্থী শরীফ মোহাম্মদ জুলফিকার আলী টিপু বলেন, দলীয় নেতাকর্মীরা তার পক্ষে সঠিকভাবে কাজ করছেন না। অনেকে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

আগামী ৩০ জানুয়ারি নির্বাচন হবে এ পৌরসভায়। এখানে মোট ভোটার রয়েছেন ২২ হাজার ৫৩৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১১ হাজার ২১৭ এবং নারী ১১ হাজার ২৬৩ জন। চার মেয়র প্রার্থী ছাড়াও ৯টি ওয়ার্ডে ৪৩ জন কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত ৩টি ওয়ার্ডে ১৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন।

মন্তব্য করুন