অন্য পুরুষের সঙ্গে প্রেমের জেরে নিজ শিশুসন্তানকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে গৃহবধূ নাছিমা বেগমের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্ত্রীসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও পাঁচ-ছয়জনকে আসামি করে আদালতে মামলা করেছেন স্বামী মো. আসাদুজ্জামান। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। গত ২ জানুয়ারি কবিরাজের ওষুধ খেয়ে রক্তবমি করলে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যায় শিশু শামীম মিয়া (১১)।

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার আছমি পাটুলি ইউনিয়নের ঘুঘুরচালা গ্রামে ওই ঘটনায় গত ১০ জানুয়ারি স্ত্রী নাছিমা বেগমসহ পাঁচজনকে আসামি করে ময়মনসিংহ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফুলবাড়িয়া অঞ্চলে মামলা করেন স্বামী আসাদুজ্জামান। মামলার অন্য আসামিরা হলো এনামুল হক, জয়নাল আবেদীন, রেহানা বেগম ও আবুল বাশার। মামলা তুলে নিতে আসামিরা নানা হুমকি-ধমকি দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন আসাদুজ্জামান। জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে গত ২০ জানুয়ারি ফুলবাড়িয়া থানায় সাধারণ ডায়েরিও করেন তিনি।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, আসাদুজ্জামান পেশায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো হেলপার। তার বন্ধু মামলার ৫নং আসামি আবুল বাশারের সঙ্গে আসাদুজ্জামানের স্ত্রীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এ নিয়ে কয়েক বছর ধরে তাদের সংসারে অশান্তি চলছিল। বিভিন্ন সময় ছেলে শামীম তার মায়ের এমন কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করত এবং বাবাকে জানিয়ে দেবে বলে হুমকি দিত। এ জন্য শামীমকে মারধরও করত তার মা।

ঘটনার দিন আসাদুজ্জামানকে ফোন করে তার স্ত্রী নাছিমা বেগম বলেন, শামীমের জ্বর হয়েছে। ফোন পেয়ে আসাদুজ্জামান ছেলেকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে বলেন। কিন্তু তার কথা না শুনে নাছিমা ছেলেকে নিয়ে চলে যান বাবার বাড়ি উপজেলার জঙ্গলবাড়ী (ভাঙ্গিফাটা) গ্রামে। সেখানে তাদের বাড়িতে নাছিমা, তার বোনজামাই এনামুল হক, বাবা জয়নাল আবেদীনসহ শরীফ নামের এক কবিরাজ দিয়ে চিকিৎসা করান। তখন কবিরাজের সঙ্গে আরও পাঁচ-ছয় অজ্ঞাত ব্যক্তি ছিল। কবিরাজ জানায়, শামীমকে জিনে আছর করেছে। জিন ছাড়াতে হবে। তখন তুলারাশির ব্যক্তিকে এনে শামীমের ওপর থেকে জিন ছাড়ায় কবিরাজ। এক সময় পাউডার জাতীয় কিছু ওষুধ পানিতে গুলিয়ে শামীমকে খাওয়ানো হয়। ওষুধ খাওয়ানোর ১০-১৫ মিনিট পর রক্তবমি এবং নাক-মুখ দিয়ে রক্ত বের হতে থাকে শামীমের। একপর্যায়ে শামীম অচেতন হয়ে পড়লে ভণ্ড কবিরাজ সেখান থেকে সটকে পড়ে। শামীমকে সন্ধ্যায় পাশের ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ত্রিশাল উপজলো স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ফারহানা আবেদিন জানান, শিশুটিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তার মুখে ফেনা ছিল। নাক-মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল। পরে আমি ত্রিশাল থানায় ফোন করলে পুলিশ এসে লাশ নিয়ে যায়। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লাশের ময়নাতদন্তও সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান ফুলবাড়িয়া থানার এসআই মো. রুবেল। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে আসাদুজ্জামানের স্ত্রী নাছিমা বেগম বলেন, একজন মা তার সন্তানকে হত্যা করতে পারে না। আমার সন্তানকে জিনে ধরেছিল। তাই আমি কবিরাজি চিকিৎসা করেছি। এর জন্য কেউ দায়ী নয়। আমার স্বামী তার বন্ধুকে নিয়ে অহেতুক সন্দেহ করায় আমাদের মাঝে বনিবনা ছিল না ।

মন্তব্য করুন