প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে পদ্মা সেতুর নামকরণের দাবি করেছে বৃহত্তর ফরিদপুর সাংবাদিক ফোরাম। পদ্মা সেতু নির্মাণ করায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভারতের দিল্লিতে প্রেস মিনিস্টার নিয়োগ পাওয়ায় সাংবাদিক নেতা শাবান মাহমুদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তারা এ দাবি করেন।

গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বৃহত্তর ফরিদপুর সাংবাদিক ফোরাম আয়োজিত এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহ্বায়ক জাহিদুজ্জামান ফারুক। প্রধান অতিথি ছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার ড. মোজাম্মেল হক খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন নিউজ পেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (নোয়াব) সভাপতি ও হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ. কে. আজাদ, গণপূর্ত সচিব মো. শহিদ উল্লা খন্দকার ও পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (প্রশাসন) এসএম রুহুল আমিন। বক্তৃতা করেন লায়েকুজ্জামান, সৈয়দ শুকুর আলী শুভ, পিআর বিশ্বাস, শাহনাজ বেগম, মোজাম্মেল হক চঞ্চল, মামুন ফরাজী, রাজীব খান, আছাদুজ্জামান প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জিহাদুর রহমান জিহাদ। অনুষ্ঠানে সংগঠনের পক্ষ থেকে অতিথিদের ক্রেস্ট দিয়ে সম্মাননা প্রদান করা হয়।

দুদক কমিশনার ড. মোজাম্মেল হক খান বলেন, শাবান মাহমুদ একজন সর্বজনপ্রিয় মানুষ। প্রধানমন্ত্রী পছন্দ করেন, সাংবাদিক সমাজও পছন্দ করে। তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করেন। সবসময় সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ে পেশাদারিত্ব নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, শাবান মাহমুদ দিল্লিতে যোগদানের পর দ্বৈতসত্তায় আবির্ভূত হবেন কূটনীতিক ও সাংবাদিক হিসেবে।

দুদক কমিশনার আরও বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর অনেক অসমাপ্ত কাজ রয়েছে। সেগুলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। শেখ হসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণেই পদ্মা সেতু নির্মাণ সম্ভব হয়েছে। এই সেতু হচ্ছে সংস্কৃতির বন্ধন, মনস্তাত্ত্বিক সংযোগ। পদ্মা সেতুর কারণে ২১ জেলার মানুষ প্রত্যক্ষ সুফল পাবেন। শতকরা এক ভাগ জিডিপি বৃদ্ধি পাবে। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বেঁচে থাকলে দেশে আরও বড় বড় সেতু নির্মাণ হবে।

নোয়াব সভাপতি ও হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ. কে. আজাদ বলেন, শাবান মাহমুদ আমাদের সকলের প্রিয়। তিনি ভবিষ্যতে আরও এগিয়ে যাবেন। আমার বিশ্বাস তিনি একদিন প্রেস বাদ দিয়ে শুধু 'মন্ত্রী' হবেন, হবেন তথ্যমন্ত্রী। তাকে একদিন মন্ত্রী হিসেবে সংবর্ধনা দেওয়ার প্রত্যাশা করেন বিশিষ্ট এই শিল্পপতি।

এ. কে. আজাদ আরও বলেন, সাংবাদিকতা একটি কঠিন পেশা। এটা আগে আমার জানা ছিল না। তাদের বিনা নোটিশে চাকরি হারাতে হয়। দেনা-পাওনা নিয়ে কোনো কথা বলা যায় না। এটা বড় ট্র্যাজেডি। তিনি বলেন, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হচ্ছে মফস্বলে সাংবাদিকতা করা। প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে লিখলেই জীবনের ঝুঁকি বেড়ে যায়। সাম্প্রতিক সময়ে আমরা সমকালের দুইজন সাংবাদিককে হারিয়েছি। একজন হচ্ছেন ফরিদপুরের গৌতম দাস। অন্যজন সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের আব্দুল হাকিম শিমুল।

তিনি বলেন, সাংবাদিকদের নবম ওয়েজ বোর্ড এখনও বাস্তবায়ন করা হয়নি। এটা এখন আলোচনার টেবিলে রয়েছে। করোনাভাইরাস শেষ হলে এটা নিয়ে আলোচনা শুরু হবে। ফরিদপুরের সাংবাদিকদের জন্য একটি কল্যাণ ট্রাস্ট গঠনের আহ্বান জানিয়ে এ. কে. আজাদ বলেন, সাংবাদিকদের জন্য আবাসন প্রকল্প করা যেতে পারে।

সংবর্ধনায় সিক্ত হয়ে নবনিযুক্ত প্রেস মিনিস্টার বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (একাংশ) মহাসচিব শাবান মাহমুদ বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাংবাদিক সমাজের কাছে চিরঋণী ও কৃতজ্ঞ। প্রধানমন্ত্রী আমাকে দিল্লির প্রেস মিনিস্টার নিয়োগ দিয়েছেন আর সাংবাদিকরা আমাকে তাদের নেতা নির্বাচিত করেছেন। আমার বিশ্বাস প্রেস মিনিস্টার হিসেবে যোগদান করে ভারতে বাংলাদেশের কূটনীতিতে সফলতা প্রমাণ করতে পারব। তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সাহসিকতার কারণেই আজ পদ্মা সেতু হয়েছে। এই সেতু শেখ হাসিনার নামে নামকরণের প্রস্তাব করেন তিনি।

গণপূর্ত সচিব শহিদউল্লাহ খন্দকার বলেন, প্রধানমন্ত্রী যোগ্য মানুষকে মূল্যায়ন করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সাহসিকতার কারণে দেশের মানুষ আজ ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী সর্বদা কাজ করে যাচ্ছেন। পদ্মা বহুমুখী সেতু উন্নয়নের রোল মডেলের একটি অংশ। পদ্মা সেতু নির্মাণ করে বিশ্বের কাছে দেশের মর্যাদা আরও বৃদ্ধি করে দিয়েছেন। তাকে আমাদের আরও সহযোগিতা করতে হবে।

পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক এসএম রুহুল আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি উন্নয়নের স্বপ্ন। উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে হলে তাকে সবাই মিলে সহযোগিতা করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে জাহিদুজ্জামান ফারুক বলেন, শাবান মাহমুদকে প্রেস মিনিস্টার নিয়োগ দেওয়ায় আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী না হলে পদ্মা সেতু নিয়ে চিন্তাও করা যেত না। তিনি পদ্মা সেতু তৈরি করে পুরো পৃথিবীকে দেখিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশও পারে। তিনি বলেন, এই ফোরাম সাংবাদিকদের গুণগত মান উন্নয়নের জন্য কাজ করবে। আমরা শুধু স্বপ্ন দেখতে চাই না, স্বপ্নের বাস্তবায়ন দেখতে চাই।

মন্তব্য করুন