যুক্তরাজ্যে শনাক্ত হওয়া করোনাভাইরাসের নতুন ধরন আরও প্রাণঘাতী হতে পারে বলে প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এ কথা জানিয়েছেন। করোনাভাইরাসের পুরোনো ও নতুন ধরনে সংক্রমিত ব্যক্তিদের মধ্যকার মৃত্যুহার তুলনা করেছেন কিছু গণিতবিদ। তাদের কাছ থেকে পাওয়া উপাত্তে দেখা যায়, ভাইরাসের নতুন ধরনটি আগেরটির চেয়ে আরও বেশি প্রাণঘাতী হতে পারে। নতুন ধরনটি এরই মধ্যে যুক্তরাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।

শুক্রবার ডাউনিং স্ট্রিটে ব্রিফিংয়ে বরিস জনসন বলেন, করোনার নতুন ধরন আগেরটির চেয়ে শুধু যে দ্রুতই ছড়াচ্ছে, তা নয়; বরং কিছু তথ্য-প্রমাণে জানা গেছে, লন্ডন ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে প্রথম সন্ধান পাওয়া এই ধরন আরও বেশি মানুষের মৃত্যুর সঙ্গেও সংশ্নিষ্ট থাকতে পারে।

নিউ অ্যান্ড ইমার্জিং রেসপিরেটরি ভাইরাস থ্রেটস অ্যাডভাইজরি গ্রুপের (নার্ভট্যাগ) বিজ্ঞানীরা বলেছেন, নতুন ধরন আগেরটির চেয়ে বেশি প্রাণঘাতী হওয়ার সম্ভাবনা 'বাস্তবভিত্তিক'। তবে এটি এখনই নিশ্চিত করে বলা যাবে না। যুক্তরাজ্য সরকারের প্রধান বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা স্যার প্যাট্রিক ভ্যালান্স বলেছেন, ধরনটি নিয়ে সিদ্ধান্তে আসতে আরও কাজ করা দরকার। তবে এটি নিশ্চিতভাবে উদ্বেগের, ধরনটি বেশি মৃত্যু ও সংক্রমণ ঘটাতে সক্ষম।

এদিকে হংকংয়ে কয়েক হাজার মানুষকে লকডাউনের আওতায় রাখা হয়েছে। করোনা মহামারির মধ্যে এই প্রথম দেশটির একটি শহরে ৪৮ ঘণ্টার জন্য লকডাউন জারি হয়েছে। এরই মধ্যে হাজার হাজার মানুষকে বাড়িতে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে যেসব এলাকায় সংক্রমণ বেড়ে গেছে, সেখানে করোনার নেগেটিভ সনদ ছাড়া কেউ নিজের অ্যাপার্টমেন্ট থেকে অন্যত্র যেতে পারবে না।

কর্তৃপক্ষের পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত সবাইকে নিষেধাজ্ঞা মেনে চলতে হবে। গতকাল শনিবার থেকে কুলুন উপদ্বীপে লকডাউন জারি করা হয়েছে। ফলে সেখানকার ১০ হাজার বাসিন্দাকে অবশ্যই বাড়িতে অবস্থান করতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত ওই এলাকার সব বাসিন্দার করোনা পরীক্ষা করা না হবে, ততক্ষণ লকডাউন মেনে চলতে হবে।

চার মন্ত্রীর মৃত্যু :জিম্বাবুয়েতে করোনায় আরও দুই মন্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শনিবার এ তথ্য জানিয়েছে সরকার। এ নিয়ে এই মহামারিতে দেশটির চার মন্ত্রী মারা গেলেন। ফলে সরকার দেশটিতে কঠোর লকডাউনের কথা চিন্তা করছে। সর্বশেষ দেশটিতে মারা গেছেন পরিবহনমন্ত্রী জোয়েল মাটিজা এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিবুসিসো ময়ো। দেশটির আরও কয়েকজন মন্ত্রী করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম। সূত্র :সিএনএন, বিবিসি ও দ্য গার্ডিয়ান।

মন্তব্য করুন