বাসাবাড়িতে শীতকালের নিত্যসঙ্গী গ্যাসের দুর্ভোগ। ঘরে ঘরে গৃহিণীদের কষ্ট বেড়েছে। কারণ চুলা জ্বলছে না। গত দুই সপ্তাহ থেকে ঠান্ডা বেশ জেঁকে বসেছে। ফলে সকাল-দুপুর-রাত কোনো বেলাতেই ঠিকমতো চুলা জ্বলছে না রাজধানীর অধিকাংশ বাড়িতে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজধানীর মোহাম্মদপুর, মিরপুর, পল্লবী, ধানমন্ডির কিছু এলাকা, হাতিরপুলের ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, জিগাতলা, মগবাজার, বনশ্রী, বাড্ডা, রামপুরা, আগারগাঁও, যাত্রাবাড়ী, দোলাইপাড়, গেন্ডারিয়া, টিকাটুলি, গোগীবাগ, লালবাগ ও পুরান ঢাকার অনেক এলাকার বাসিন্দারা এখন তীব্র গ্যাস সংকটে ভুগছেন।

বিকল্প হিসেবে অনেক গ্রাহক এলপিজি সিলিন্ডার কিনছেন। কেউ ব্যবহার করছেন ইলেকক্ট্রিক চুলা। এমনকি লাকড়ি জ্বালিয়েও রান্নাসহ প্রয়োজনীয় কাজ সারছেন অনেক গৃহিণী।

ফলে ভোগান্তির পাশাপাশি বেড়েছে খরচ।

গোপীবাগের রামকৃষ্ণ মিশন রোডের তৃতীয় লেনের বাসিন্দা মেহরুন নেছা বলেন, ডিসেম্বর থেকেই গ্যাসের চাপ কমতে শুরু করে। জানুয়ারির শুরু থেকে সকালে গ্যাসের চাপ থাকে না। রান্নার কাজ শেষ করতে হয় রাতে। কিন্তু গত দুই সপ্তাহ থেকে সকাল ৭টার পরই গ্যাস চলে যায়। দুপুর ২টার পর লাইনে কিছু গ্যাস এলেও চুলা ঠিকমতো জ্বলে না। রাত ১০টার পর খানিকটা গ্যাস আসে কিন্তু তাও এক ঘণ্টার বেশি থাকে না। রান্নাবান্নার জন্য ইলেক্ট্রিক চুলার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। হাজারীবাগের মনেশ্বর রোডের বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম বলেন, গত কিছুদিন ধরে দিন-রাত কোনো বেলাতেই চুলা জ্বালানোর মতো গ্যাস পাইপলাইনে আসছে না। তিতাস অফিসে ফোন দিয়েও সমস্যার কোনো সমাধান মেলেনি। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রকিবুল ইসলাম বলেন, করোনার কারণে রাত যতই হোক, বাইরে থেকে বাসায় ফিরে গোসল করতে হয়। কিন্তু এখন রাতেও গ্যাসের দেখা মিলছে না। পানি গরম করতে না পারায় এই মাঘের শীতে ঠান্ডা পানিতেই গোসল সারছেন। রামপুরা এলাকার বাসিন্দা শিউলি আক্তার বলেন, আমাদের এলাকায় বেশ কয়েকদিন ধরে গ্যাসের অভাবে রান্না বন্ধ। সকাল ও দুপুরের খাবার বাইরে থেকে আনতে হচ্ছে।

তিতাস গ্যাস সূত্রে জানা যায়, নগরীতে আবাসিক এলাকায় গ্যাস সরবরাহের লাইনগুলোতে ৫০ পিএসআই (প্রতি ইঞ্চি এক পাউন্ড) চাপে গ্যাস সরবরাহ করার জন্য নকশা করা হলেও বিগত কয়েক বছরে তা কমে ১০-১২ পিএসআইয়ে নেমে এসেছে। এমনকি কিছু এলাকায় গ্যাসের চাপ ০-২ পিএসআইতেও নেমে এসেছে। এসব এলাকার চুলা প্রায় জ্বলছেই না।

তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী ইকবাল মো. নুরুল্লাহ বলেন, এলএনজি (তরল প্রাকৃতিক গ্যাস) সংকটের কারণে গ্যাস সংকট তীব্র হয়েছে। ৬০ কোটি ঘনফুট এলএনজি পাওয়ার কথা থাকলেও গত সপ্তাহে আমরা পেয়েছি মাত্র ২০ কোটি ঘনফুট এলএনজি। বর্তমানে আমরা ১৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস দিতে পারছি। যেখানে চাহিদা ২২০ কোটি ঘনফুট। শীতে তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় পাইপলাইনে গ্যাস জমে যাওয়ায় সংকট আরও বেড়েছে। যদি গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি এই পাইপলাইনগুলো হিট দেওয়ার ব্যবস্থা করত তাহলে অবস্থা কিছুটা ভালো হতো। ঢাকায় গ্যাসের নতুন পাইপলাইন প্রতিস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে গ্যাস সংকটের কিছুটা উন্নতি হবে। তিনি বলেন, আপাতত এলএনজি সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হলেই সংকট কাটবে। এখন দৈনিক দেশে গ্যাসের চাহিদা ৩৫০ কোটি ঘনফুট। পেট্রোবাংলার ২১ জানুয়ারির প্রতিবেদন অনুসারে এর মধ্যে দেশের গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে ২৫২ কোটি ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। বাকি ২০ ঘনফুট আসছে এলএনজি থেকে।

মন্তব্য করুন