নারায়ণগঞ্জ

অস্তিত্বহীন দুই হাসপাতালে ৭ চিকিৎসকের পদায়ন

১৩ বছরে নিয়োগ পেয়েছেন ২৪ চিকিৎসক

প্রকাশ: ২৪ জানুয়ারি ২০২১

এম এ খান মিঠু, নারায়ণগঞ্জ

অস্তিত্বহীন দুই হাসপাতালে ৭ চিকিৎসকের পদায়ন

ছবি: ফাইল

'কাজির গরু কেতাবে আছে, গোয়ালে নেই'- এই বাংলা প্রবাদের মতোই অবস্থা নারায়ণগঞ্জে অস্তিত্বহীন দুই সরকারি হাসপাতালের। ১৩ বছর আগে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জে ২০ শয্যার দুটি হাসপাতাল নির্মাণের কথা থাকলেও জমি বরাদ্দ না পাওয়ায় তা আর হয়ে ওঠেনি। কিন্তু অদৃশ্য এই হাসপাতাল দুটিতে চিকিৎসক নিয়োগ, পদায়ন থেমে নেই। অভিযোগ রয়েছে, রাজধানী ঢাকা বা এর আশপাশে থাকার জন্য এমন নিয়োগের জন্য তদবির করে থাকেন কিছু চিকিৎসক।

গত ১৩ বছরে ওই দুই হাসপাতালে নিয়োগ পেয়ে কাজ করেছেন মোট ২৪ চিকিৎসক। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার একটিতে নিয়োগ পেয়েছেন আরও একজন। অতীতে নিয়োগ পাওয়া চিকিৎসকদের অনেকে অদৃশ্য এই হাসপাতাল থেকেই পদোন্নতি পেয়েছেন। দুটি হাসপাতালে নিয়োগ পাওয়া চিকিৎসকরা জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে 'ডেপুটেশনে' দায়িত্ব পালন করেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের যারা এই নিয়োগ দেন, তারাও জানেন, হাসপাতাল দুটির কোনো অস্তিত্ব নেই। যে কারণে চিকিৎসক ছাড়া অন্য কোনো পদে, যেমন- নার্স বা চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয় না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৩ বছর আগে সদর উপজেলার ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জে ২০ শয্যার হাসপাতাল দুটির অনুমোদন দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। প্রতিটি হাসপাতাল তিন একর জমিতে নির্মাণ করতে হবে- এমন নির্দেশনা দিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে ওই সময় চিঠিও দেওয়া হয়। কিন্তু নির্দিষ্ট পরিমাণ জমি না পাওয়ায় পরবর্তী সময়ে হাসপাতাল দুটি নির্মাণ সম্ভব হয়নি। ফলে কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থেকেছে হাসপাতাল নির্মাণের কার্যক্রম।

নারায়ণগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিসের একটি সূত্র জানিয়েছে, অস্তিত্ব না থাকলেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তালিকায় ওই দুটি হাসপাতাল অন্তর্ভুক্ত থাকায় হাসপাতাল দুটির নামে চিকিৎসকদের পদায়ন করা হচ্ছে। পরে তাদের জেলার বিভিন্ন হাসপাতাল বা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পদায়িত করা হয়। অনেক চিকিৎসক ঢাকার বাইরে মফস্বল শহর বা প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেতে চান না। মূলত এমন চিকিৎসকরাই ওপর মহলে তদবির করে এমন নিয়োগ-পদায়ন পেয়ে থাকেন।

এমন নিয়োগ-পদায়নে বিস্ময় প্রকাশ করে ২০১৯ সালের ৩০ জুলাই এক অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমান বলেছিলেন, 'ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জে দুইটা সরকারি হাসপাতাল আছে। ওই হাসপাতালে চিকিৎসকও নিয়োগ দেওয়া আছে। তারা মাসে মাসে বেতন নেন। মজার ব্যাপার হচ্ছে, তারা যে হাসপাতালের নামে বেতন-ভাতা নেন, ওই দুই হাসপাতালের অস্তিত্বই নেই।'

বিষয়টি স্বীকারও করেছেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. ইমতিয়াজ আহমেদ। তিনি বলেন, বর্তমানে অস্তিত্বহীন দুই হাসপাতালের নামে ছয়-সাতজন চিকিৎসক জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে কর্মরত আছেন। বিষয়টি সম্পূর্ণ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এখতিয়ারভুক্ত। তারা যেভাবে বলেন, সেভাবেই আমরা কাজ করি। তবে যারা ওই দুই হাসপাতালের বিপরীতে নিয়োগপ্রাপ্ত, হাসপাতাল নির্মাণ হলে তারা সেখানেই যোগ দেবেন।

সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার আরও একজন চিকিৎসকের পদায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আমি এখনও কিছু জানি না। রোববার (আজ) নিয়োগ পাওয়া চিকিৎসক তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। এরপর দেখা হবে তাকে কোথায় ডেপুটেশনে দেওয়া হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর জমি চেয়ে জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন ও স্থানীয় সংসদ সদস্যকে এ বিষয়ে চিঠি দিয়েছি। সদ্য সাবেক জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন সিদ্ধিরগঞ্জে একটি জমি দেখেছেন। কিন্তু ফতুল্লায় কোনো জমি পাওয়া যাচ্ছে না। তিন একরের পরিবর্তে এক একর জমি পাওয়া গেলেও হাসপাতালগুলো করা যেত।