বাধা পেয়ে ওরা বলছিল 'ওকে মেরে দে'

প্রকাশ: ২৭ জানুয়ারি ২০২১

সমকাল প্রতিবেদক

ছিনতাইকারীরা যখন জাসদ নেতা হামিদুল ইসলামের মানিব্যাগ ও ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে, তিনি তখন তাদের দলনেতা সোহেল ওরফে অ্যারাবিয়ান সোহেলকে জাপটে ধরেন। ধস্তাধস্তি হয় কিছুক্ষণ। এক পর্যায়ে ধরা পড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় সোহেল সদস্যদের নির্দেশ দেয়- 'ধরা পড়ে যাব। ওকে মেরে দে।' এর পরই চক্রের সদস্য জাহিদ একটি কোপ মারে হামিদুলের হাতে।

ছাড়া পেয়ে সোহেল পরপর তিনটি কোপ মারে হামিদুলের পায়ে। তিনি রাস্তায় লুটিয়ে পড়লে মানিব্যাগসহ ১২ হাজার ৩০০ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে তারা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই মারা যান হামিদুল। গত শনিবার রাতে রাজধানীর শাহবাগ থানার হাইকোর্ট মাজার সংলগ্ন ঈদগাহের সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে। সেগুনবাগিচা এলাকার ডিশ ব্যবসায়ী হামিদুল বাংলাদেশ জাসদের শাহবাগ থানার সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সমবায়বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।

ছিনতাই ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত চক্রের পাঁচ সদস্যকেই গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের রমনা বিভাগ। সোমবার রাজধানীর উত্তর মুগদা ও কামরাঙ্গীরচর থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলো- দলনেতা অ্যারাবিয়ান সোহেল, জাহিদ হোসেন, শুক্কুর আলী, শাকিল ওরফে ডুম্বাস ও সোহেল মিয়া। তাদের কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহূত একটি চাকু, একটি ব্যাটারিচালিত রিকশা, লুণ্ঠিত মোবাইল ও মানিব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। জিজ্ঞাবাসাদের জন্য গতকাল পাঁচ আসামিকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে ডিবি। সোহেল সৌদি আরবে জন্মগ্রহণ করেছিল, তাই তাকে অ্যারাবিয়ান সোহেল নামে ডাকে চক্রের সদস্যরা। তার বাবা-মা সৌদি আরবে থাকতেন এক সময়।

ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, অ্যারাবিয়ান সোহেল এ চক্রের মূল হোতা। শাকিল ওরফে ডুম্বাস, জাহিদ হোসেন ও শুক্কুর আলী সদস্য। শাকিলের দায়িত্ব ব্যাটারিচালিত রিকশায় ওদের নিয়ে রাজধানীতে ঘুরে বেড়ানো। সুযোগ বুঝে ছিনতাই করে তারা। সোহেল মিয়া ছিনতাইয়ের মালপত্র ক্রয়কারী। হামিদুলের ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোন সে-ই কিনেছিল। অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, তাদের কারও কারও বিরুদ্ধে কমপক্ষে পাঁচ থেকে ১০টির বেশি মামলা রয়েছে বিভিন্ন থানায়। এসব মামলায় তারা জামিনে রয়েছে। অ্যারাবিয়ান সোহেল সাত মাস আগে জেল থেকে বের হয়েছে। ডিবি কর্মকর্তারা জানান, ঘটনার দিন একজন তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তিনি তখন জানান, একজন হাতকাটা রিকশাচালক ছিল। ওই তথ্যের ভিত্তিতে শাকিলকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়।