অপহরণ ও ছিনতাইয়ে সেই তুফানের ভাই সোহাগ গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ২৭ জানুয়ারি ২০২১

বগুড়া ব্যুরো

বগুড়ায় ব্যবসায়ীসহ ৩ ব্যক্তিকে অপহরণ এবং পিকআপ ভ্যান চুরিতে জড়িত থাকার অভিযোগে সোহাগ সরকার (৩৬) ও শাহীনুর রহমান (২৮) নামে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দেশজুড়ে আলোচিত স্কুলছাত্রী ও তার মাকে নির্যাতনের পর মাথা ন্যাড়া করে দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত সেই তুফান সরকারের বড় ভাই সোহাগ।

জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোনের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সকালে শহরের জহুরুল নগর এলাকার একটি মেস থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সন্ধ্যায় অপহরণকারী চক্রের কবল থেকে উদ্ধার পাওয়া ট্রাক মালিক বরগুনা জেলার হরিদ্রবাড়িয়ার রিমন ফারাজী

মামলা দায়ের করেন। ওই ঘটনায় জড়িত তাদের ১১ সহযোগী পালিয়ে গেলেও পুলিশ ছিনিয়ে নেওয়া ট্রাকটি উদ্ধার করেছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, পিক-আপ ভ্যান মালিক রিমন ফারাজী ও তার ড্রাইভার ইমরান ঢাকার বাড্ডা এলাকার এক ব্যক্তির বাসাবাড়ির

মালপত্র নিয়ে গত ২৫ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বগুড়া শহরের চারমাথা এলাকায় পৌঁছান। এরপর মালপত্র নামিয়ে দিয়ে রিমন সবুজ নামের এক আত্মীয় জনৈক পারভেজের বাসায় নিয়ে যান এবং সেখানেই তারা দুপুরের খাবার খান। সেখানে অবস্থানকালে সন্ধ্যার দিকে সোহাগ সরকারের কয়েকজন সহযোগী অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাদের একটি মাঠে নিয়ে যায়। সেখান থেকে শহরের জহুরুল নগর এলাকার একটি মেসে নিয়ে আটকে রাখে। মারধর করে তাদের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। এক পর্যায়ে তারা রিমন ফারাজীর কাছে থাকা ২৫ হাজার টাকা এবং তার পিক-আপ ভ্যানের চাবি ছিনিয়ে নেয়।

এজাহারে রিমন ফারাজী জানিয়েছেন, এসব ঘটনার এক পর্যায়ে তিনি ২৬ জানুয়ারি সকাল পৌনে ৭টার দিকে কৌশলে অপহরণকারীদের কাছ থেকে পালিয়ে এসে ৯৯৯-এ ফোন দেন। এরপর পুলিশ তাকে একটি পুকুর পাড় থেকে উদ্ধার করে এবং তার দেখিয়ে দেওয়া সেই মেস থেকে অন্য দু'জনকে উদ্ধার করতে গেলে আসামিরা পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ সোহাগ সরকার এবং তার অন্যতম সহযোগী শাহীনুর রহমানকে আটক করে।

বগুড়া সদর থানার ওসি হুমায়ুন কবির জানান, ৯৯৯-এ সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফোর্স পাটিয়ে ভিকটিমদের উদ্ধারের পর অপহরণের সঙ্গে জড়িত দু'জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বলেন, ওই ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।