দুষ্টুমিতে বিরক্ত হয়ে ইট মেরে হত্যা

প্রকাশ: ২৭ জানুয়ারি ২০২১

কুমিল্লা সংবাদদাতা

মেঘনা উপজেলায় নিখোঁজের পর নদী থেকে লাশ উদ্ধার হওয়া সেই শিশু রিফান হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন হয়েছে। ঘাতককে গ্রেপ্তার করে গতকাল মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ঘাতক শাকিল জানিয়েছে, গত ১২ জানুয়ারি বাড়ির সামনে খেলছিল পাঁচ বছরের শিশু রিফানুল ইসলাম রিফান। এ সময় ছোট্ট রিফানের দুষ্টুমিতে বিরক্ত হচ্ছিল শাকিল। এক পর্যায়ে ক্ষেপে গিয়ে নির্মম হয়ে ওঠে সে। ইট মেরে নাক-মুখ ফাটিয়ে দেয় শিশুটির। এতেই প্রাণ যায় রিফানের। হত্যার পর লাশ একটি বস্তায় ভরে গ্রামের একটি অটোরিকশার গ্যারেজে লুকিয়ে রাখে শাকিল। সেখানে লাশ সাত-আট দিন ছিল। এক পর্যায়ে

দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করলে লাশটি নিয়ে ফেলে দেয় নদীতে।

নিখোঁজের ১০ দিন পর গত ২২ জানুয়ারি উপজেলার ওমরকান্দা সেতু এলাকায় পুরোনো মেঘনা নদী থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। রিফান বৈদ্যনাথপুর গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী শরীফুল ইসলামের ছেলে।

লাশ উদ্ধারের পর হত্যারহস্য উন্মোচনে কাজ শুরু করে মেঘনা থানা পুলিশ। সোমবার রাতে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার রসুলপুর এলাকা থেকে ঘাতক শাকিলকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যাকাণ্ডের পুরো ঘটনা পুলিশকে জানায়। শাকিল বৈদ্যনাথপুর গ্রামের কবির হোসেনের ছেলে।

মেঘনা থানার ওসি আবদুল মজিদ বলেন, যখন লাশ উদ্ধার করা হয়, তখন পুলিশের কাছে কোনো ক্লু ছিল না। পরে শিশুটির চাচা হত্যা মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে হত্যারহস্য উদ্ঘাটনে নিরবচ্ছিন্ন তদন্ত শুরু হয়। তদন্তে প্রযুক্তির সহায়তায় খুনিকে শনাক্ত এবং গ্রেপ্তার করা হয়।

শিশুটির মা রজনী বেগম বলেন, আমি খুনির ফাঁসি চাই। সে আমার ছেলেটাকে নির্মমভাবে খুন করেছে।