রাসেলের দাবি- ওই রাতে হাবিবই তাকে ডেকে নিয়েছিল

প্রকাশ: ২৭ জানুয়ারি ২০২১

রাজশাহী ব্যুরো

রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিবকে খুন করতে নয়, বরং হাবিবই ফোন করে শহীদ মুক্তিযোদ্ধার নাতি রাসেলকে গভীর রাতে তার বাড়িতে ডেকে নিয়েছিলেন। রাসেলের নামে স্ত্রীর দেনমোহর মামলায় সমঝোতার নামে হাবিব নিয়েছিলেন অগ্রিম ২০ হাজার টাকা। দাবিকৃত আরও ৪০ হাজার টাকা না দেওয়ায় রাসেলকে পিটিয়ে পুলিশে দেওয়া হয়। জামিনে কারাগার থেকে বেরিয়ে সমকালের রাজশাহী অফিসে এসে গতকাল মঙ্গলবার এমনটিই জানিয়েছেন রাসেল। তবে তা বরাবরের মতোই অস্বীকার করেছেন হাবিব।

গত ১৩ জানুয়ারি রাতে পুঠিয়ার শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা করম আলীর নাতিকে পিটিয়ে পুলিশে দেন জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব খান। হাবিব নিজে বাদী হয়ে চুরি ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে পুঠিয়া থানায় মামলা করেন রাসেলের বিরুদ্ধে। এর পর ১৪ জানুয়ারি তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। দৈনিক সমকালে এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশ হলে নিন্দার ঝড় ওঠে। জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি হাবিব ও পুঠিয়া থানা ছাত্রলীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলমের বহিস্কার দাবিতে রাজশাহীর বিভিন্ন স্থ্থানে মানববন্ধন হয়।

সোমবার রাজশাহীর আদালত থেকে জামিন পান রাসেল। গতকাল কারামুক্ত হয়ে রাসেল ছুটে আসেন সমকালের রাজশাহী ব্যুরো অফিসে। রাসেল বলেন, স্ত্রীর সঙ্গে ডিভোর্স হলে তিনি মামলায় পড়েন। স্ত্রীর দেনমোহর ছিল দুই লাখ টাকা। তবে জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব সমঝোতা করে দেওয়ার কথা বলে অগ্রিম ২০ হাজার টাকা নেন তার কাছ থেকে। সমঝোতার পর আরও ৪০ হাজার টাকার দাবি ছিল হাবিবের। পরে পুঠিয়া থানায় সমঝোতা বৈঠক বসলে সেখানে ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা দেওয়ার শর্তে স্ত্রী মামলা তুলে নিতে চান। কিন্তু তিনি এত টাকা দিতে রাজি না হলে সে সমঝোতা বৈঠক ভেস্তে যায়।

রাসেল জানান, এ ঘটনার পর তিনি শামীম নামে আরেকজনের মাধ্যমে দেনমোহর মামলা থেকে দুই লাখ ৪০ হাজার টাকা দিয়ে মুক্তি পান। এর পরও তার কাছে ৪০ হাজার টাকা চেয়ে চাপ দিচ্ছিলেন হাবিব। তিনি একাধিকবার হাবিবকে বলেছেন, 'আপনি সমঝোতা করে দিতে পারেননি। আপনাকে কেন টাকা দিতে হবে? আপনি আমার ২০ হাজার টাকা ফেরত দেবেন।'

রাসেল বলেন, '১৩ জানুয়ারি রাত দেড়টার দিকে হাবিব তার পুঠিয়া সদরের চেম্বারে খিচুড়ি খাওয়ার আয়োজন করেন। সেখানে আমিও খিচুড়ি খেয়েছি। এর কিছুক্ষণ পর আমাকে ফোন করে হাবিব তার বাড়িতে এসে দেখা করতে বলেন। রাত ২টার পরে হাবিবের বাড়িতে যাই। এ সময় হাবিব আমাকে আবারও ৪০ হাজার টাকা দিতে চাপ দেন। আমি বলি, অন্যজন সমঝোতা করে দিয়েছে; আপনি টাকা চান কেন? তখন হাবিব বলেন, পুলিশকে টাকা দিতে হবে। টাকা তুই না দিলে তোর বাপ দেবে বলেই চিৎকার করেন হাবিব। এ সময় হাবিবের ভাই ও এলাকাবাসী ছুটে আসেন। তখন হাবিব তাদের জানান, আমি তাকে খুন করতে এসেছি। শুনেই তারা লাঠি দিয়ে আমাকে পেটাতে থাকেন। এর পর পুলিশের হাতে তুলে দেন।' রাসেলের দাবি- রাত ২টার দিকে পর পর দু'বার ফোন করে হাবিব আমাকে তার বাড়িতে ডেকে নিয়ে গেছেন।

জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, 'সেদিন রাতে আমার অফিসে খিচুড়ি খাওয়া হচ্ছিল, এটা সত্য। তবে আমি রাসেলকে ডেকে বাড়িতে নিয়ে যাইনি।' টাকা চাওয়ার বিষয়টিও অস্বীকার করেন হাবিব।