পৌরসভা নির্বাচন

কেশরহাটে আ'লীগের একক প্রার্থী, মুণ্ডুমালায় বিদ্রোহী

রাজশাহীর দুই পৌরসভা

প্রকাশ: ২৭ জানুয়ারি ২০২১

রাজশাহী ব্যুরো

তৃতীয় ধাপে ৩০ জানুয়ারি রাজশাহীর কেশরহাট ও মুণ্ডুমালা পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীর অবস্থান ভালো। তবে তানোর উপজেলার মুণ্ডুমালা পৌরসভায় আওয়ামী লীগ প্রার্থীর অবস্থা ভালো নয়। বিদ্রোহী প্রার্থী সাইদুর রহমানের অবস্থা বেশ ভাল। তাই আওয়ামী লীগ ও বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে ভোট ভাগাভাগি হয়ে সেখানে বিএনপি প্রার্থীর বিজয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

কেশরহাট পৌরসভা :কেশরহাট পৌরসভায় উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক বর্তমান মেয়র শহিদুজ্জামান শহিদ এবারও দলীয় প্রার্থী। তিনি এবারের নির্বাচনের আগেও দু'বার দলীয় প্রার্থী হিসেবে মেয়র ছিলেন। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। নারিকেল গাছ প্রতীক পাওয়ার পর তিনি দলীয় দলীয় প্রার্থী শহিদকে সমর্থন দিয়েছেন।

১৫ হাজার ভোটারের কেশরহাট পৌরসভায় এবার বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক খুশবুর রহমান। এছাড়া জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী হাফিজুর রহমান আকন্দ জগ প্রতীক নিয়ে প্রচারে আছেন।

স্থানীয়রা জানান, ২০০৩ সালে প্রথমবার মেয়র হয়ে শহিদ অনেক উন্নয়ন কাজ করেন। মাঠ পর্যায়েও জনপ্রিয়। গতবার জামায়াত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলেও এবার জামাতের অবস্থা খুবই খারাপ। তবে তুলনামূলক জামায়াতের প্রার্থীর চেয়ে ভালো অবস্থানে আছেন বিএনপির প্রার্থী খুশবুর রহমান। বিএনপি-জামায়াতের ভোট দুই ভাগে বিভক্ত হলেও আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী থাকায় দলীয় সব ভোটই পাবেন নৌকার প্রার্থী শহিদ। এসব কারণে এখানে আওয়ামী লীগ প্রার্থী শক্তিশালী অবস্থানেই রয়েছেন।

আওয়ামী লীগ প্রার্থী শহিদুজ্জামান শহিদ বলেন, মাঠ পর্যায়ের জনপ্রিয়তা এবং উন্নয়ন কাজের জন্য জনগণ আমাকেই বিজয়ী করবেন।

বিএনপি প্রার্থী খুশবর রহমান বলেন, মাঠের অবস্থা ভালো। নিরপেক্ষ ভোট হলে আমি বিজয়ী হবো। জামায়াতের প্রার্থী আমার ভোট কাটতে পারবেন না।

মুণ্ডুমালা পৌরসভা :১৭ হাজার ৭৮৯ ভোটারের এই পৌরসভায় এবার বিএনপির একক প্রার্থী ফিরোজ কবীর। অন্যদিকে তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বর্তমান মেয়র গোলাম রাব্বানী অংশ নিচ্ছেন না। তবে তার অনুগত প্রার্থী মুণ্ডুমালা পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুর রহমান বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠ দখলে রেখেছেন। এখানে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়ার্ড কাউন্সিলর আমির হোসেন আমিন।

গত রোববার স্থানীয় সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী এক নির্বাচনী সভায় বাঁশ কেটে লাঠি নিয়ে প্রস্তুত থাকতে আহ্বান জানিয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভোটাররা কোনো কেন্দ্রে এলে লাঠি হাতে প্রতিহত করতে বলেন। এ ঘটনার পর ২৫ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সাইদুর রহমান রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

সাইদুর রহমান বলেন, আমার সমর্থকদের প্রতিদিনই হুমকি দেওয়া হচ্ছে। নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আমিই বিজয়ী হবো। এ বিষয়ে জানতে সাংসদ ফারুক চৌধুরীকে ফোন করলে তিনি ফোন ধরেননি।

আওয়ামী লীগ প্রার্থী আমির হোসেন আমিন বলেন, আমরা

হুমকি দিচ্ছি না। ওরাই হুমকি দিচ্ছে। এমপি সাহেব হুমকি দিয়েছেন কিনা জানি না।

বিএনপি প্রার্থী ফিরোজ কবীর বলেন, নিরপেক্ষ ভোট হলে আমিই বিজয়ী হবো। কোনো বিকল্প নেই।