ভাষাশহীদদের স্মরণ আবৃত্তি গান নৃত্যে

প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১

সমকাল প্রতিবেদক

রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমি, শিশু একাডেমিসহ বিভিন্ন সংস্কৃতিচর্চা প্রতিষ্ঠানে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ছিল নানা আয়োজন। এসব সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে গতকাল রোববার সকাল থেকেই ছিল মানুষের ভিড়। সাদা-কালো শাড়ি আর পাঞ্জাবি পরে সবাই একাত্ম দিনটির গাম্ভীর্যের সঙ্গে। বাবা-মায়ের সঙ্গে শিশু-কিশোরদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকে জানান, প্রজন্মের পর প্রজন্ম এভাবেই তারা দিনটি পালন করে যেতে চান।

শিল্পকলা একাডেমি :'মনে রাখো তাদের, যারা আর কোনোদিন ফিরে আসবে না'- লাইনটি রুশ ভাষায় লেখা একটি কবিতার অনুবাদ। কবিতাটি মঞ্চে পড়েন রাশিয়ান দূতাবাসের অলগা রয়। জাপান ও বাংলাদেশের সম্মিলিত গানের দল 'বাজনা বিটস' গেয়ে শোনায় মান্না দের গাওয়া 'কফি হাউজের সেই আড্ডাটা'। এমন আয়োজনে শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তন যেন আক্ষরিকভাবেই হয়ে উঠেছিল ভাষার এক আন্তর্জাতিক মঞ্চ। 'বিশ্বের সব মাতৃভাষা রক্ষা করবে বাংলাদেশ' শিরোনাম সামনে রেখে বিকেলে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃৃতিক অনুষ্ঠান হয়। আলোচনা পর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব বদরুল আরেফীন। স্বাগত বক্তব্য দেন একাডেমির সচিব নওসাদ হোসেন।

আলোচনা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আবৃত্তি, গান ও নৃত্য পরিবেশন করেন বিভিন্ন দূতাবাসের প্রতিনিধিরা। ঢাকা সাংস্কৃতিক দলের সংগীতশিল্পী এবং ভঙ্গিমা নৃত্যদলের শিল্পীদের পরিবেশনায় ৪১টি ভাষায় 'বিশ্ব মায়ের সুর-সঙ্গীত বাণী' শীর্ষক গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশিত হয়।

শিশু একাডেমি :শিশু একাডেমি আয়োজিত 'শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্য' বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নতুন প্রজন্মকে শুদ্ধ বাংলা চর্চা এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা। শিশু একাডেমির চেয়ারম্যান লাকী ইনামের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সিনিয়র সচিব কাজী রওশন আক্তার ও শিশু একাডেমির মহাপরিচালক জ্যোতি লাল কুরী।

জাতীয় জাদুঘর :বাংলা হাতের লেখা প্রতিযোগিতা, বিশেষ প্রদর্শনী, ভাষা আন্দোলনের তথ্যচিত্র প্র্রদর্শনী, আলোচনা সভা ও বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করেছে জাতীয় জাদুঘর। সকালে জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী প্রদর্শনী গ্যালারিতে অনুষ্ঠিত হয় শিশুদের সুন্দর হাতের লেখা প্রতিযোগিতা ও বিশেষ প্রদর্শনী। পরে কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে 'বঙ্গবন্ধু ও একুশের চেতনায় লালিত বাংলাদেশ' শীর্ষক আলোচনা সভা হয়।

ছায়ানট :ভার্চুয়ালি একুশ উদযাপন করেছে সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ছায়ানট। 'অপমানে তুমি জ্বলে উঠেছিলে' শীর্ষক এই অনলাইন প্ল্যাটফর্মে একক সংগীত পরিবেশন করেন ছায়ানটের শিল্পীরা। এ সময় গানে গানে পুরো আয়োজনে একুশকে মূর্ত করে তোলেন তারা। অনুষ্ঠানে আবৃত্তি করেন মাহমুদা আখতার ও আব্দুস সবুর খান চৌধুরী। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর :ফেসবুক পেজে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর। রাতে অনলাইন এ আয়োজনে সূচনা বক্তব্য দেন জাদুঘরের অন্যতম ট্রাস্টি ডা. সারওয়ার আলী। পরে 'একুশের পথ ধরে স্বাধীনতা' শীর্ষক আলোচনায় অংশ নেন লেখক ও সাংবাদিক আনিসুল হক। অনুষ্ঠানে বম, ত্রিপুরা ও মারমা আদিবাসী গোষ্ঠীর নৃত্য পরিবেশিত হয়। এতে সংগীত পরিবেশন করেন ব্যান্ড দল এফ মাইনর। অনুষ্ঠানে মণিপুরি ভাষায় কবিতা পাঠ করেন কবি রণজিৎ সিংহ। মুনীর চৌধুরী রচিত 'কবর' নাটকের অংশবিশেষ উপস্থাপন করে গানের দল সাধু।

বেরাইদ গণপাঠাগার :শিশু-কিশোরদের জন্য বাংলা বর্ণমালা লিখন, সুন্দর হাতের লেখা, চিত্রাঙ্কন, রচনা, কবিতা আবৃত্তি, হাম্‌দ-নাত-গজল, সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা এবং দোয়ার আয়োজন করেছিল বাংলাদেশ গ্রন্থাগার আন্দোলন ও বেরাইদ গণপাঠাগার। বেরাইদের শিশু-কিশোররা ছাড়াও এতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গ্রন্থাগার সংগঠক এমদাদ হোসেন ভূঁঁইয়া।