ফরিদপুরে একুশের বিশেষ আয়োজন

মাস্টার মশাইকে সম্মাননা ও গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১

ফরিদপুর অফিস

 মাস্টার মশাইকে সম্মাননা ও গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

রোববার ফরিদপুরে মাস্টার মশাইখ্যাত সংগীত গুরু করুণাময় অধিকারীকে সম্মাননা জানানো হয়- সমকাল

'সুরের গুরু, দাও গো সুরের দীক্ষা' প্রতিপাদ্য সামনে রেখে ফরিদপুরে সর্বমহলে মাস্টার মশাই নামে সুপরিচিত সংগীত গুরু করুণাময় অধিকারীকে (৮৭) সম্মাননা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে 'মাস্টার মশাই' শিরোনামে তার জীবন ও কর্মের ওপর প্রকাশিত একটি গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। একুশের বিশেষ এই আয়োজনের শিরোনাম ছিল 'গুরুদক্ষিণা প্রদানোৎসব'।

ফরিদপুর প্রেস ক্লাবের সহায়তায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ফরিদপুর নাগরিক মঞ্চ। রোববার প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্যে 'মাস্টার মশাই' গ্রন্থের সম্পাদক বিপ্লব বালা বলেন, বাঙালি জানে না কী তারা অর্জন করেছে। একুশ তেমনই একটি অর্জন। এদিনে নিজেদের প্রচলিত রীতিনীতির মধ্যে আটকে না রেখে ভিন্ন মাত্রা দেওয়ার তাগিদে এ আয়োজন। তিনি বলেন, মানুষের প্রধান শক্তি সুর। এই সুরের কাজ যারা করে যান, যারা বিলিয়ে যান, তাদেরই একজন করুণাময় অধিকারী। তিনি ৬০ বছর ধরে সুরের সাধনা করে আসছেন। তার হাজার হাজার শিক্ষার্থী দেশে এবং বিদেশে ছড়িয়ে আছেন। এমন এক গুণীজনকে সম্মাননা জানানোর উপযুক্ত দিন আজ।

ফরিদপুর নাগরিক মঞ্চের সভাপতি আওলাদ হোসেন বাবর এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। তিনি বলেন, নাগরিক অধিকার রক্ষার প্রত্যয়ে ফরিদপুর নাগরিক মঞ্চ প্রতিষ্ঠিত হলেও ফরিদপুরের ঐতিহ্য রক্ষা করতে কাজ করবে এই মঞ্চ। এ লক্ষ্যেই আজকের এ আয়োজন।

সম্মাননা স্মারক পাঠ করেন জেলা বিএমএ সভাপতি ডা. আ স ম জাহাঙ্গীর চৌধুরী টিটো। সংগীত গুরুকে ধুতি ও উত্তরীয় পরিয়ে দেন শিশু সংগঠন ফুলকির সভাপতি অঞ্জলি বালা ও ফরিদপুর সচেতন নাগরিক কমিটির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক আলতাফ হোসেন।

অনুষ্ঠানে অনুভূতি প্রকাশ করেন শিশু সংগঠন ফুলকির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল আজম ও 'মাস্টার মশাই' গ্রন্থের প্রকাশক মেহেদী হাসান। মাস্টার মশাইকে নিয়ে লেখা কবিতা পাঠ করেন ব্রততী দাস। সংগীত পরিবেশন করেন বাউলশিল্পী ফকির আজমল শাহসহ অন্যরা।

মো. আলাউদ্দিনের বাঁশি বাজানোর মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে 'এদিন আজি কোন ঘরে গো খুলে গেল দ্বার' সমবেত এই গান পরিবেশনের সময় সংগীত গুণীজনকে মঞ্চে নিয়ে আসা হয়। প্রদীপ জ্বালিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন করুণাময় অধিকারী। নিজের সম্পর্কিত গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচনও করেন তিনি। অনুষ্ঠান শেষ হয় সমবেত জাতীয় সংগীত দিয়ে।

করুণাময় অধিকারী ফরিদপুর শহরের রথখোলা এলাকার বাসিন্দা। তিনি ফরিদপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের সংগীত শিক্ষক ছিলেন। এ ছাড়া উত্তরণ নামে একটি সংগীত বিদ্যালয় স্থাপন করেন। নিজ বাড়িতেও তিনি শিক্ষার্থীদের শুদ্ধ সংগীত শিখিয়ে আসছেন।