ভাষাশহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা

সাম্প্রদায়িক অপশক্তির মূলোৎপাটনের দাবি

বিভাগীয় শহর

প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১     আপডেট: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১

সমকাল ডেস্ক

সাম্প্রদায়িক অপশক্তির মূলোৎপাটন ও সব ক্ষেত্রে বাংলা ভাষা ব্যবহারের দাবি জানিয়ে ঢাকার বাইরে দেশের অন্যান্য বিভাগীয় শহরে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষ। করোনাকালে ব্যাপক জনসমাগমের ওপর বিধিনিষেধ থাকলেও গতকাল রোববার প্রভাতফেরিতে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল নামে। রাতের প্রথম প্রহর থেকেই শহীদ মিনারগুলো ফুলে ফুলে ছেয়ে যায়।

ঢাকার বাইরে সমকালের ব্যুরো ও অফিস থেকে পাঠানো বিস্তারিত খবর-

চট্টগ্রাম :প্রথম প্রহরে নবনির্বাচিত সিটি মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী কাউন্সিলরদের নিয়ে শহীদ মিনারে প্রথম ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এরপর একে একে শ্রদ্ধা জানান চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার এবিএম আজাদ, ডিআইজি আনোয়ার হোসেন, মহানগর পুলিশ কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান, পুলিশ সুপার এসএম রশিদুল হক, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোজাফফর আহমেদ, সিডিএ চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব ও চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।

প্রভাতফেরিতে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনের নেতৃত্বে জেলা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ইউনিটের নেতারা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সহকারী হাইকমিশনার অনিন্দ্য ব্যানার্জি উপস্থিত ছিলেন। মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা খনয়ে ফুল দিতে আসেন। জাতীয় পার্টি, সিপিবি, ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ, বাসদ, ছাত্র ইউনিয়ন, উদীচী, সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম, ন্যাপসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

রাজশাহী :দিবসের প্রথম প্রহরে প্রস্তাবিত কেন্দ্রীয় প্রতীকী শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানান রাজশাহী সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। এরপর নগর আওয়ামী লীগ, ওয়ার্কার্স পার্টি, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, আদিবাসী পরিষদ শ্রদ্ধা নিবেদন করে। রাজশাহী কলেজ শহীদ মিনারে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন শ্রদ্ধা জানায়। এখানে শ্রদ্ধা জানান সাবেক মেয়র ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু, নগর বিএনপির সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলসহ দলীয় নেতাকর্মীরা।

সিলেট :প্রথম প্রহরে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জেলা ও মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, বিভাগীয় কমিশনার, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি, মহানগর পুলিশ কমিশনার, জেলা প্রশাসন, জেলা পরিষদসহ সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়। ভোরে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ ছাড়া সম্মিলিত নাট্য পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠন প্রভাতফেরি বের করে। সামাজিক সংগঠন শ্রুতি নগরীতে বর্ণমালা মিছিল বের করে।

খুলনা :মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে রাত ১২টা ১ মিনিটে শহীদ হাদিস পার্কে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিটি মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক, সাধারণ সম্পাদক এমডিএ বাবুল রানা প্রমুখ। খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপির উদ্যোগে হাদিস পার্কের শহীদ মিনারে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ এবং সকাল সাড়ে ১০টায় দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভা হয়। মহানগর বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু, জেলা সভাপতি শফিকুল আলম মনা, সাবেক সিটি মেয়র মনিরুজ্জামান মনি এ সময় উপস্থিত ছিলেন। এর আগে প্রথম প্রহরে শ্রদ্ধা নিবেদন করে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।

শহীদ হাদিস পার্ক এবং খুলনা জাতিসংঘ শিশু পার্কে সন্ধ্যায় জেলা তথ্য অফিসের উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ চলচ্চিত্র ও একুশের পোস্টার প্রদর্শনী হয়।

বরিশাল :প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রের পক্ষে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে বিভাগীয় কমিশনার ড. অমিতাভ সরকার। পরে পর্যায়ক্রমে সিটি মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ, ডিআইজি শফিকুল ইসলাম, মহানগর পুলিশ কমিশনার শাহাবুদ্দিন খান, জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার, মহানগর আওয়ামী লীগ ও পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ ছাড়া সকালে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন, অন্যান্য রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে। বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ার সকাল সাড়ে ১০টায় দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানান। সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট প্রতি বছরের মতো এবারও নগরীর রসুলপুরে হতদরিদ্র শিশুদের নিয়ে শহীদ মিনার বানানো প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।

রংপুর :প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার আবদুল ওয়াহাব ভূঞা, সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য, মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মেহেদুল করিম, জেলা প্রশাসক আসিব আহসান, পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার সরকার, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ছাফিয়া খানম, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, রংপুর প্রেস ক্লাব, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জাসদ, বাসদসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃৃতিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা।